রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

আরও সহজে প্রমান হয় যে ভারতে মুসলমানরা বিপন্ন!-পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

বিনোদন রিপোর্ট: | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

কলকাতার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বাংলাদেশে পুজামন্ডপে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে গত ১৬ অক্টোবর এক স্ট্যাটাসে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তার স্ট্যাটাসের চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো। তিনি তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ফেসবুক এ বড়ো একটা আসা হয় না, কিন্তু একটি বিশেষ কারণে এলাম। বাংলাদেশে কয়েক জায়গায় দূর্গা পুজোর মন্ডপে তান্ডব নিয়ে কিছু পোস্ট নবমীর দিন সকাল থেকে চোখ পড়লো। সেই প্রসঙ্গে দু চার কথা ...
আমাকে যে ছেলেটি শুটে এটেন্ড করে, আমার স্পট বয়, তার নাম নাসির গাজী। পুজোর পাঁচটা দিন নিয়ম করে আমাকে শোক থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছে। শুভ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া! প্রতিবারই জানায় । সরস্বতী পুজোর দিন ক্ষণ আমার মনে না থাকলেও ওর মনে থাকে এবং মনে করিয়েও দেয়। বাইরে শুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসিরই আমাকে এনে দেয়। নবমীর দিনই সকালে আমার কাঠের মিস্তিরি সানোয়ার আলী ফোন করেছিলেন একটা কাজের কথা বলতে। ফোনালাপ শুরুই করলেন “শুভ নবমী দাদা” বলে ...
আমার কিছু না হোক দশ জন বাংলাদেশি বন্ধুদের দেখলাম পুজো মন্ডপে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়েছেন। এরা সবাই ধর্মে মুসলমান। বাংলাদেশে এবং এই বাংলায় এরকম অজস্র পুজো আছে যেগুলোর কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে মুসলমানরা আছেন। কথাগুলো বলছি, কারণ বাংলাদেশে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা তুলে ধরে, বিদ্বেষ সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে এটা বলতে থাকাটা উস্কানি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। এই ঘটনাগুলি থেকে যদি প্রমান হয় যে বাংলাদেশে হিন্দুরা বিপন্ন, তাহলে ভারতে গত সাত বছরে এরকম অগুনতি ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটে চলেছে (এবং যেগুলো নিয়ে দেশনেতারা অভূতপূর্বভাবে চুপ থেকেছেন!) যেগুলো থেকে আরও সহজে প্রমান হয় যে ভারতে মুসলমানরা বিপন্ন!
আমি বরং বলবো, বড়ো পরিসরে, এতো সত্তে¡ও মানুষের ভিতরে সদ্ভাব সম্প্রীতি আছে। কিন্তু কিছু কম মিষ্টি কথাও এই সুযোগে বলে রাখা দরকার। গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলোর সমালোচনা করার বা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী শক্তিগুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরো বেশি করে নিতে হবে!
বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে তাই আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা করুন কোনো দ্বিধা না রেখে, দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করুন। আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন , আপনারাও সেই মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন। প্রতি বছরই প্রায় এরকম কিছু না কিছু ঘটে, সত্যি বলছি ভালো লাগে না। প্রাণের উৎসবের উপর আক্রমণ বলে ভালো লাগে না তো বটেই, তাছাড়াও আরো বড়ো একটা কারণ হলো, এই ঘটনাগুলো সীমানার এই পাড়ে গোঁড়া হিন্দুত্ত্ববাদীদের বড়ো সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে, ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃন হয়। আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের ধর্মের অতিরিক্ততার বিরুদ্ধে কথা বলা আরম্ভ করি। ধর্ম মানে বিশ্বাস, কিছু মানুষের একসঙ্গে হওয়া, অনেক বছর ধরে চলে আসা কিছু আচার, কিংবা সমাজকে একরকমভাবে সংঘবদ্ধ রাখার জন্যে তৈরী করা কিছু নিয়ম, বা হয়তো নানান উৎসব! যেটাই হোক, বিশ্বাস আর অতি বা অন্ধবিশ্বাস (যা অন্য মানুষকে জোর করে, বা ক্ষতি করে ) এর মধ্যে সূক্ষ্ম লাইনটা কোথায় সেটা আমাদেরই বুঝে নিতে হবে! আমরা হিন্দুরাও শুধু নিয়ম মাফিক ঈদ মুবারক বলা আর বিরিয়ানি খাওয়ায় সীমিত না থেকে ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায়ের ধর্ম এবং ইতিহাসটাকে একটু কাছ থেকে বোঝার চেষ্টা করি।
আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস খুব জটিল, যাকে ইংরিজিতে বলে চেকুয়েরড। তাই আমাদের, মানে এই ভূমির বাসিন্দাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। নিঃশ্বাস নেয়া যেমন দরকার, ঠিক তেমনি দরকার এই বোধগুলো নিজেদের মধ্যে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে রাখা ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
Md Amdad ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১:০২ পিএম says : 0
ঠিক বলেছে
Total Reply(0)
Lotiful Islam ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১:০২ পিএম says : 0
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গার পেছনে এটাই মূল কারণ
Total Reply(0)
নিয়ামুল ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১:০৩ পিএম says : 0
সকলের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা
Total Reply(0)
রোদেলা ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১:০৪ পিএম says : 0
কোন সুস্থ মানসিকতার মানুষ সাম্প্রদায়িকতাকে সমার্থন করে না
Total Reply(0)
Jahan71 ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১১:২০ এএম says : 0
হে মু’মিনগণ! তোমরা ন্যায়ের সাক্ষ্যদাতা হিসেবে আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান থাক, কোন সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা তোমাদেরকে যেন এতটা উত্তেজিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করা ত্যাগ করবে, সুবিচার কর, এটা তাক্বওয়ার নিকটবর্তী, তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল। (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন