সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

অধিকৃত কাশ্মীরে চরম মার খাচ্ছে ভারতীয় সেনারা : ৮ দিনে নিহত ৯

পরিযায়ী শ্রমিকদের সেনা ক্যাম্পে সরানো হচ্ছে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

গত আটদিন ধরে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে তুমুল লড়াই হচ্ছে ভারতীয় সেনার সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের। যে লড়াইয়ে গতকাল পর্যন্ত মোট নয়জন সেনা নিহত হয়েছেন। অথচ, একজন স্বাধীনতাকামীকেও হত্যা করতে পারেনি সেনা। উল্টো একের পর এক সেনার মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে মোদি সরকারের। এর মধ্যে সেখানে বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে তাদেরকে নিরাপত্তার জন্য সেনা ও পুলিশ ক্যাম্পে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। রোববার এই তথ্য জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের পুলিশ প্রধান বিজয় কুমার। তিনি বলেন, রোববার কাশ্মীরে আসা তিনজন পরিযায়ী শ্রমিককে তাদের ভাড়া বাসায় গুলি করা হয়েছিল। যার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপরে তিনি শ্রমিকদের সরিয়ে নেয়ার জন্য তার অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি সাধারণ শ্রমিকদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য।’ তবে অন্যান্য রাজ্য থেকে অধিকৃত কাশ্মীরে আসা হাজার হাজার শ্রমিকদের মধ্যে কতজনকে সরিয়ে নেয়া হবে, তাদেরকে ক্যাম্প থেকে বের হতে দেয়া হবে কিনা অথবা, এই নির্দেশনা বাধ্যতামূলক কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। রোববার নিহত দুই শ্রমিকের একজন বিহারের, অন্যজন উত্তরপ্রদেশের। বিহারের বাসিন্দা অরবিন্দ কুমার শাহ শ্রীনগরে ফুচকা বিক্রি করতেন। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা সাগির আহমেদ পুলওয়ামায় কাঠের কাজ করতেন। এই নিয়ে কাশ্মীর উপত্যকায় গত দুই সপ্তাহে ১১ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হলো। যার অধিকাংশই কাশ্মীরের বাসিন্দা নন। এসব হত্যাকান্ডের জন্য কোন পক্ষই এখনো দায় স্বীকার করেনি। এর আগে, গত ১০ অক্টোবর পুঞ্চ সেক্টরে পাঁচ সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এরপর সেনা জঙ্গলের ভিতর তল্লাশি চালানোর সময় আরো দুই সেনার মৃত্যু হয়। দুইজন সেনা নিখোঁজ হয়ে যায়। দুইদিন পর তাদের লাশ উদ্ধার হয়। সেনার এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা সুবিধাজনক জায়গায় আছে। ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে তারা ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালাচ্ছে। নাম প্রকাশ করা যাবে না, এই শর্তে তিনি জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে, যে কায়দায় তারা লড়ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের কম্যান্ডো প্রশিক্ষণ আছে। পাক সেনার কাছে তারা কম্যান্ডো প্রশিক্ষণ পেয়েছে বলে মনে করছে ভারতীয় সেনা। শুধু তা-ই নয়, পাক এলিট ফোর্স কম্যান্ডোও ওই দলে থাকতে পারে বলে মনে করছে ভারতীয় সেনা। প্রায় আট কিলোমিটার ঘন জঙ্গলের ভিতর গত এক সপ্তাহ ধরে লড়াই চলছে। লাইন অফ কন্ট্রোলের খুব কাছে এই সংঘাত চলছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এতদিন ধরে লড়াই করেও ভারতীয় সেনা একজনও বিদ্রোহীকেও হত্যা করতে পারেনি, এমন ঘটনা বহু দিনের মধ্যে ঘটেনি। এদিকে শ্রীনগর-সহ কাশ্মীরের একাধিক জায়গায় একের পর এক হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের কপালে ভাঁজ। মোদি সরকারের আশ্বাসে কাশ্মীরে ফিরতে শুরু করেছিলেন জম্মুতে পালিয়ে যাওয়া পন্ডিতরাও। নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটায় তারাও ফের কাশ্মীর উপত্যকা ছাড়তে শুরু করেছেন। একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে, কাশ্মীরের বাইরের মানুষদের উপরেই আক্রমণ চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। হিন্দু-মুসলিম-শিখ কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সূত্র : ডয়চে ভেলে, ট্রিবিউন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন