বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ছিনতাইকারীদের বাধা দেয়ায় খুন হন রমজান

তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৯ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০১ এএম

সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্যদের হাতে নিহত হন দি ভাই ভাই ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী রমজান মিয়া। এই চক্রটি আশুলিয়া এলাকায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলাচলকারীদের টার্গেট করে তাদের সর্বস্ব ছিনতাই করে থাকে। গত রোববার রাতে এ ঘটনায় জড়িত আমিনুল ইসলাম, সাগর মোল্লা ও ইউনুছকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে নিহত রমজানের মোবাইল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়। গতকাল সোমবার সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ অক্টোবর শুক্রবার রাতে আশুলিয়া থানার জামগড়া এলাকার পলমল গার্মেন্টের সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন রমজান। পরে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার খালা কুলছুম বেগম গত ১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহত মো. রমজান নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মির্জানগর গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে। রমজান চার ভাই এক বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে ছয় বছর আগে শিশু রমজান তার খালার বাসায় আসেন। সেখানে তিনি শিমুল তলার রানার ফার্নিচারের দোকানে মাসে ছয় হাজার টাকা বেতনের চাকরি নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করেন। পরবর্তীতে একই এলাকায় দি ভাই ভাই ফার্নিচারের দোকানে মাসিক ১১ হাজার টাকা বেতনে তিন বছর ধরে কাজ করছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাধর বলেন, রমজান হত্যার ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা হিসেবে প্রকাশ পায়। এরপর সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। রোববার রাতে ওই ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী আমিনুল ইসলামকে জামগড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে সহযোগী সাগর মোল্লাকে ওইদিন রাতে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে এবং ইউনুছ আলীকে আশুলিয়ার জিরানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তারা ওই এলাকায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলাচলকারী পথচারীদের গতিরোধ করতো। পরে তাদের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল এবং মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতো। তাদের এই কাজের কেউ প্রতিবাদ করলে সাথে থাকা ছুরি, লোহার রড, দিয়ে আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যেতো। ঘটনার দিন শিমুল তলার দি ভাই ভাই ফার্নিচার থেকে কাজ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোল্লাবাজারে তার বাসার দিকে যাচ্ছিলো রমজান। পলমল গার্মেন্টের সামনে ছিনতাইকারীরা তার গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা রমজানের সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। ওই সময়ে রমজান তার কষ্টের টাকায় কেনা মোবাইল না দিয়ে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃতরা ছুরি দিয়ে রমজানের পেটে ও বুকে আঘাত করে। এছাড়া চিকন রড দিয়ে তার গলায় চাপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন