শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কুড়িগ্রামে তিস্তার পানিতে চরাঞ্চল প্লাবিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২১ অক্টোবর, ২০২১, ৫:৪৪ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারিবর্ষনে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে ২সহ¯্রাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পরেছে। পানিতে ডুবে গেছে আলু,মরিচ,পিয়াজ শাক-সবজি সহ কয়েক শত হেক্টর আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ক্ষেত । বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল করিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম চলমান বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে,বুধবার দুপুর থেকে উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে। সন্ধ্যা থেকে হু হু করে বাড়তে থাকে পানি। আকস্মিক তীব্র পানি প্রবাহ দেখে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পরেন। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে বাঁধের রাস্তা ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এছাড়া বুধবার স্থানীয় ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ ওই স্থানগুলোতে রেড এলার্ট জারি করেন। ভারতের গজল ডোবার সবকটি গেট খুলে দেয়ায় এবং তিস্তা ব্যারেজের ফ্লাট বাইপাস ভেঁঙ্গে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যারেজের গেটগুলো খুলে দেয়ার কারনে রাজারহাট সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম,নামাভরাট,বগুড়াপাড়া মধ্যচর ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা,মন্দির,রামহরি,তৈয়বখাঁ,পাড়ামৌলায় মানুষদের খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। খাদ্য সামগ্রী ঘরে থাকা সত্বেও অনেকে রান্না করে খেতে পারছেন না।
নামাভরট গ্রামের আব্দুল করিম (৫৫) জানান,বুধবার জামাইয়ের বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার দিয়ে চলছে তার ৭সদস্যের পরিবার।
একই গ্রামের পুতুল রানী (৫২) জানান,ঘরে এক কোমর পানি,টিউবয়েল,চুলা সব পানির নিচে,তাই ঘরে চাউল ডাউল থাকা সত্বেও রান্না করে খেতে না পারায় অনেকটা অনাহারে রয়েছেন তিনি।
ওই গ্রামের হানিফ আলী (৫৯) বলেন,“ঘরত এক বুক পানি,কোন খাবার টাবারও নাই। একটা পুড়ি খায়া আছং সকাল থাকি”।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন,বৃস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে তাসনিম জানান,ঘড়িয়াল ডাঁঙ্গা ও বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ১০মেট্রিক টন চাউল বিতরন করা হয়েছে এবং আরো ১হাজার ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের প্রস্ততি চলছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন