সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ৩০ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

আফগানিস্তান জনগণের জন্য ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে জাতিসংঘ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০২ এএম

জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার বলেছে যে, আগস্টে তালেবান দখলের পর থেকে জমা হওয়া দাতা তহবিল একটি সিস্টেমের মাধ্যমে সরাসরি আফগানদের জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় নগদ প্রদানের জন্য একটি বিশেষ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় অর্থনীতি ‘বিকশিত’ হওয়ায় লক্ষ্য হচ্ছে আফগান পরিবারগুলোতে তারল্য প্রবেশ করানো যাতে তারা এ শীতে বেঁচে থাকতে পারে এবং তাদের স্বদেশে থাকতে পারে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রশাসক অচিম স্টেইনার বলেন, প্রথম অবদান রাখা জার্মানি তহবিলে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর (৪৯৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সম্পদ সংগ্রহের জন্য অন্যান্য দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।

ইউএনডিপির মতে, ২০২২ সালের মাঝামাঝিতে ৯৭ শতাংশ আফগান পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতে পারে। স্টেইনার একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমাদের পা রাখতে হবে, আমাদের একটি ‘জনগণের অর্থনীতি’ স্থিতিশীল করতে হবে এবং জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি আমাদের জীবিকাও বাঁচাতে হবে’। তিনি বলেন, ‘কারণ অন্যথা হলে আমরা এই শীতে এবং পরের বছরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হব যেখানে লাখ লাখ আফগান তাদের জমিতে, তাদের বাড়িতে, তাদের গ্রামে থাকতে এবং বেঁচে থাকতে অক্ষম হবে’।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল মঙ্গলবার বলেছে যে, আফগানিস্তানের অর্থনীতি এ বছর সঙ্কুচিত হতে চলেছে এবং এটি একটি শরণার্থী সঙ্কটকে আরো বাড়িয়ে দেবে যা প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক এবং ইউরোপকে প্রভাবিত করবে। তালেবানরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলিয়ন বিলিয়ন সম্পদ জব্দ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তহবিলের অ্যাক্সেস স্থগিত করেছে, যদিও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংকের অর্থ শেষ হয়ে যাচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়নি এবং খাবারের দামও বেড়েছে।

স্টেইনার বলেন যে, চ্যালেঞ্জ ছিল আফগানিস্তানের জন্য ইতোমধ্যেই নির্ধারিত দাতা তহবিল পুনঃপ্রয়োগ করা, যেখানে ডি ফ্যাক্টো কর্তৃপক্ষ তালেবান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। তিনি বলেন, তহবিলটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হতে দেয় যে, এসব তহবিল সরকার থেকে সরকারি তহবিল হিসাবে বোঝানো হয় না’। তিনি বলেন, জাতিসংঘ তালেবানদের সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছে।

‘এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এমন একটি অর্থনীতি আছে যেখানে কার্যত কোন দেশীয় মুদ্রা প্রচলিত নেই’। স্টেইনার বলেন, জাতিসংঘ বিদেশী মুদ্রার আধিপত্য এড়াতে চেয়েছিল, যা অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে খুব দ্রুত এমন উপায় খুঁজে বের করা যাতে আমরা স্থানীয় সহায়তাকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করতে পারি যাতে স্থানীয় বাজার, স্থানীয় জীবিকা উদ্দীপিত হয়। এভাবেই আপনি একটি অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখেন’।

এশিয়া প্যাসিফিকের জন্য ইউএনডিপির আঞ্চলিক ব্যুরোর পরিচালক ক্যানি উইগনরাজা বলেছেন, খরা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মতো সরকারি কর্মসূচিতে আফগান শ্রমিকদের নগদ অর্থ প্রদান করা হবে, এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে অনুদান দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অস্থায়ী মৌলিক আয় দুর্বল বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইউএনডিপি প্রথম ১২ মাসের কর্মকাণ্ডে প্রায় ৬৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার খরচ বহন করেছে। সূত্র : রয়টার্স।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন