সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রসহ দশ দেশের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের নির্দেশ এরদোগানের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০২ এএম

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান শনিবার তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করতে যারা কারাবন্দী নাগরিক সমাজের নেতার মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাষ্ট্রদূতরা একটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক যৌথ বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে, প্যারিসে জন নেয়া মানবহিতৈষী এবং কর্মী ওসমান কাভালার অব্যাহত আটক তুরস্কের উপর ‘একটি ছায়া ফেলেছে’।

গত সপ্তাহে যৌথভাবে এই বিবৃতি দেয় আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মানি নেদারল্যান্ডস. নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই দশ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তাদের ওই বিবৃতি নিয়ে অসন্তোষ জানায়। এরদোগান বলছেন, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সসহ দশটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অর্থ জোগানো এবং ২০১৬ সালে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে অংশ নেয়ার অভিযোগে কাভালা ২০১৭ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। ইউরোপের প্রধান মানবাধিকার নজরদারি সংস্থা কাউন্সিল অফ ইউরোপ তুরস্ককে দেয়া এক চূড়ান্ত সতর্কবার্তায় বিচারের মুখোমুখি না করা পর্যন্ত কাভালাকে মুক্তি দেবার দাবি জানায়।

গত শনিবার এরদোগান এসকিসেহির শহরে জনতার উদ্দেশ্যে এক ভাষণের সময় বলেন, রাষ্ট্রদূতরা ‘তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে নির্দেশ জারির সাহস দেখাতে পারেন না’। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি এবং বলেছি কী করতে হবে। এই দশ জন রাষ্ট্রদূতকে অবিলম্বে অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে হবে। আপনি অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।’ তুরস্কের সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, এরদোগান বলেছেন, রাষ্ট্রদূতদের তুরস্কের বাস্তবতা বুঝতে হবে, নয়ত তুরস্ক ছেড়ে যেতে হবে।

রাষ্ট্রদূতদের দিক থেকে এখনও পর্যন্ত সেরকম কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, তার রাষ্ট্রদূত ‘এমন কিছু করেননি যে কারণে তাকে বহিষ্কার করতে হবে।’ তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাষ্ট্রদূতদের তলব করে এবং কাভালা ইস্যুতে তাদের দেয়া বিবৃতিকে ‘দায়িত্বহীন’ বলে প্রতিবাদ জানায়। রাষ্ট্রদূতদের বিবৃতিতে ওসমান কাভালাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ‘অব্যাহত বিলম্বের’ সমালোচনা করা হয় এবং বলা হয় এই দীর্ঘসূত্রিতা ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং তুরস্কের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করছে’। বিবৃতিতে কাভালাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে বলা হয়।

কাভালাকে ২০১৩ সালে দেশব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভ সংগঠিত করার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়, কিন্তু তার পরপরই আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে খালাস দেবার রায় নাকচ করে দেয়া হয় এবং ২০১৬ সালে এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার জন্য তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হয়। কাভালা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। সূত্র : ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Muhammed N Huda ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪৯ পিএম says : 0
সাবাশ!এরদোগান l মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করুন পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যারা আমাদেরকে নাস্তানাবুদ করেছে গত দুইশ বছর l
Total Reply(0)
Sheikh Al-amin ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫১ এএম says : 0
তায়েফ এরদোয়ান একজন প্রসিদ্ধ, ন্যায় পরায়ণ, সৎ প্রেসিডেন্ট। তিনি শুধু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নয়। তিনি মুসলিমদের নেতা। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ইউরোপের কিছু কুচক্রী মহল সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছে। একটা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় কোন ক্ষমতা বলে হস্তক্ষেপ করতে গেলেন।
Total Reply(0)
Mohammad Yousuf ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫২ এএম says : 0
সাবাস বেটা
Total Reply(0)
Mokit Mokith ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪৯ এএম says : 0
রাষ্ট্র নায়ক কাকে বলে শেখা উচিত বাংলাদেশের আমরা তো চাটাচাটি তে দিন পার করি
Total Reply(0)
আল আমিন সন্দ্বীপি ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪৯ এএম says : 0
ভালো কাজে বাঁধা আসে বেশি, সব বাঁধা অতিক্রম করে তবুও চাই আমরা চাই জয়হোক মুসলমানদের।
Total Reply(0)
Abu Taher Islam ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫০ এএম says : 0
এরদোগানের বিজয়কে যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না পশ্চিমা দেশগুলো। বিশ্বপরিমণ্ডলে এরদোগানের উত্থান ও তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদে শাসন করার বিষয়টি যে পছন্দ নয় তার খোলামেলা প্রকাশ ঘটেছে। যদিও তুরস্কের উত্থানে পশ্চিমা বিশ্বের নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। এরদোগান রাষ্ট্র পরিচালনায় ও বিদেশনীতিতে যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনায় উসমানীয় শাসনের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না ইউরোপ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে একটি অনুগত সেকুলার রাষ্ট্র হিসেবে তারা দেখে আসছে। এরদোগান তুরস্কের এই ধারা বদলে ফেলেছেন। স্বভাবতই পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তা ভালো লাগার মতো বিষয় নয়। অনেক দিন ধরেই পশ্চিমাদের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। দীর্ঘ দিনের মিত্র পশ্চিমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। গত বছরের গণভোটে প্রবাসীদের মধ্যে এরদোগানের পক্ষে প্রচারণার সময় ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করেছে জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ।
Total Reply(0)
SH Mehedi Hasan ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫০ এএম says : 0
নিজেদের অবস্থান সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে তুরস্ক।
Total Reply(0)
Ahmed Sajid Mirashi ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫০ এএম says : 0
বাংলাদেশ শিখে রাখেন আমাদের দেশে যে রাষ্ট্রদূতরা নাক গলাবে এটা করা উচিত
Total Reply(0)
Khaled Saifullah ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১:৫১ এএম says : 0
ফ্রান্স সেই খেলাফতের সময় থেকে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তুর্কীদের বিরুদ্ধে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন