ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার উৎখাতের চেষ্টা

বিদ্রোহী অভ্যুত্থানের মুখে বড় ধরনের সঙ্কটে লিবিয়া

প্রকাশের সময় : ১৬ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ত্রিপোলির বিদ্রোহীরা লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছিলো। গত শুক্রবার রাতে তারা একটি প্রধান ভবন ও টিভি স্টেশন দখল করে নেয় এবং ঘোষণা দেয়- আমরা ক্ষমতা নেয়ার জন্য যুদ্ধ করতে প্রস্তুত। তারা ত্রিপোলির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রিক্সস হোটেল দখল করে ঘোষণা দেয়- এটা লিবিয়া পুনরুদ্ধারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই হোটেলটি জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের সম্মেলন কেন্দ্র।
জাতীয় ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার পর এটাই তাদের বড় ধরনের সঙ্কট। এই সরকারের পেছনে জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে। রিক্সস হোটেলের প্রশাসনিক ভবনে গেরিলা ও জিএনএ নেতৃবৃন্দ মুখোমুখি অবস্থানে আসে এবং এ সময় গেরিলারা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। পরে বিকেলের দিকে জিএনএ সমর্থিত সৈন্যরা কোন রকম সহিংসতা ছাড়াই ভবনটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
এ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খলিফা আল-ঘোয়েল। ঘোয়েলের সরকার গত মার্চে জিএনএ সরকার কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হয়। অভ্যুত্থান চেষ্টাকারীরা ঘোষণা দেয়, জিএনএ এখন শূন্য এবং সলবেশন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণকারী সরকারের কয়েকজন বিদ্রোহী এ অভ্যুত্থানে অংশ নেয়। এরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরে গ-গোল পাকাচ্ছিলো। অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারী গেরিলারা শনিবার সকালেও রিক্সসের চারদিকে ট্রাকে করে অবস্থান করে। এসময় তাদের সাথে মেশিনগান ছিলো। প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সারাজের নেতৃত্বাধীন জিএনএ সরকারের নেতৃবৃন্দ এ সময় কোথায় ছিলেন সেটি এ রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। কিছু কিছু সূত্র জানায়, তারা এ সময় প্রতিবেশী তিউনিশিয়ায় ছিলেন।
লিবিয়ায় তেলসমৃদ্ধ এলাকাগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে তবরুক সরকারের ক্ষমতাশালী জেনারেল  খলিফা হাফতার।
যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোরালো সমর্থন নিয়ে জাতিসংঘের কূটনীতিকরা চাচ্ছেন, জিএনএ লিবিয়ায় ঐকমত্যের সরকার হিসেবে থাকুক। কিন্তু তাদের সমর্থিত এ সরকার জনসমর্থন লাভে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সহায়তায় জিএনএ সৈন্যরা গত পাঁচ মাস ধরে উপকূলীয় শহর সিরত থেকে আইএস উৎখাতে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং পাশ্চাত্য শক্তির উসকানিতে লিবিয়ার অবিসংবাদিত নেতা মোয়াম্মের গাদ্দাফি নিহত হবার পর দেশটিতে বহুদলীয় সহিংস কোন্দাল দানা বেঁধে ওঠে গোষ্ঠীগত সংঘর্ষ শুরু হয়। এ অবস্থার সুযোগে উত্তর আফ্রিকার এই তেলসমৃদ্ধ দেশে ইসলামি স্টেট বা আএসের প্রবেশ ঘটে। বহুমুখী এই জটিল পরিস্থিতিতে দুটি সরকার বিভাজনের ভিত্তিতে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সমান্তরালভাবে সরকার পরিচালনার ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে একটি সরকার বিশ্ব সংস্থা জাতিসংঘের স্বীকৃতি লাভ করে। দ্য গার্ডিয়ান, ওয়েবসাইট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন