রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ত্রিপুরায় মসজিদে ভাঙচুর : মুসলিমদের দোকানে আগুন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

ত্রিপুরায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর একটি র‌্যালির সময় সেখানে একটি মসজিদ ভাঙচুর করা হয়েছে। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু দোকানপাটে। এসব দোকানের মালিক মুসলিমরা। বিরোধী দল সিপিআই(এম) ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বিজেপি মুখপাত্র। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

পিটিআই লিখেছে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে উত্তর ত্রিপুরা জেলার চামতিল্লা এলাকায় একটি র‌্যালি বের করে। ওই জেলার এসপি ভানুপদ চক্রবর্তী বলেছেন, এ সময় মসজিদে ভাঙচুর করা হয়েছে। দুটি দোকানে আগুন দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া রোয়াবাজারে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়ি ও কয়েকটি দোকানে লুটপাট করা হয়েছে।

ভানুপদ চক্রবর্তী আরো বলেন, চামতিল্লা এলাকায় র‌্যালি করার সময় একদল লোক ওই মসজিদে ইটপাথর নিক্ষেপ করে এবং এর দরজার ক্ষতি করে। এর পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী সিপিআই(এম)। বামপন্থি দলটি বলেছে, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে সক্রিয় আছে দুর্বৃত্তদের একটি গ্রুপ। সব পক্ষের প্রতি শান্তি বজায় রাখার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিপিআই (এম)। তারা এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেছেন, যদি এমন কিছু ঘটে থাকে তাহলে পুলিশের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

ওদিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ত্রিপুরায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তা আরো কড়াকড়ি করা হয়েছে। এই সীমান্ত বরাবর ত্রিপুরার যেসব জেলা রয়েছে, তার এসপিদেরকে অতিরিক্ত দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কোনো অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভণ্ডুল করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে সতর্ক রাখা হয়েছে।

এদিকে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিল ঘিরে ত্রিপুরায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের একাধিক জায়গায় হামলা হচ্ছে। কোনো কোনো মুসলিম অঞ্চলে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মুসলিম সংগঠন। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব এবং পুলিশের কাছে নিরাপত্তার আবেদনপত্র জমা দিয়েছে জামিয়াত উলেমা হিন্দ। ত্রিপুরার পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫০ মসজিদে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ঘটনার জেরে গত ২১ অক্টোবর ত্রিপুরার গোমতি জেলার উদয়পুরে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে প্রথম উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগোনোর চেষ্টা করলে প্রশাসনের সঙ্গে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় আন্দোলনকারীদের।
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার কাছে একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অপরাধীদের ধরা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ধর্মনগরেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার বিপ্লব দেবের কাছে আবেদনপত্র দেন জামিয়াত উলেমা হিন্দের ত্রিপুরা শাখার প্রধান মুফতি তৈবুর রহমান। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের ঘটনার নিন্দা করি। কিন্তু ত্রিপুরাতে যা ঘটছে, তাও মেনে নেওয়া যায় না। মুসলিমদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছি’।

বরাক বুলেটিনের সাংবাদিক অনির্বাণ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘গত তিনদিন ত্রিপুরায় যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। তবে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায়, এখন পরিস্থিতি কিছুটা সামান্য’। অনির্বাণের বক্তব্য, আসাম এবং ত্রিপুরায় বিজেপি সরকারের আমলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বারবার। এতে শাসকদলের ইন্ধন আছে বলেই তিনি মনে করেন। তবে ত্রিপুরার বিজেপি মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনাকে বিজেপি সমর্থন করে না। দলের সংখ্যালঘু সেলের কর্মীরা আক্রান্ত অঞ্চলগুলিতে পৌঁছে গেছে। সূত্র : পিটিআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য ওয়্যার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন