বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আল্লাহ তায়ালার চূড়ান্ত ঘোষণা : ২

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী | প্রকাশের সময় : ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

চলমান দুনিয়ার মানুষ বাহির বা বহিরাবরণকে সুসজ্জিত ও মনোহর করে গড়ে তোলার জন্য যতখানি চেষ্টা-তদবির ও প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, তার হাজার ভাগের এক ভাগ চেষ্টা ও সাধনা অন্তর বা ভেতরকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য ব্যয় করছে না। অথচ আল্লাহপাক অন্তরের পরিচ্ছন্নতার প্রতিই গভীরভাগে দৃষ্টিপাত করে থাকেন। হাদিস শরীফে এর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘নিশ্চয়ই আল্লাহপাক তোমাদের বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও ধন-সম্পদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না, বরং তিনি লক্ষ করে থাকেন তোমাদের অন্তরের দিকে এবং তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে বুকের (অন্তরের) দিকে ইশারা করলেন। (সহীহ মুসলিম : হাদিস নং-২৫৬৪)।

এতে বোঝা যায় যে, অন্তরে আল্লাহভীতি পয়দা হওয়া, অন্তর পরিচ্ছন্ন হওয়া একান্ত দরকার। দেহের বহিরাবরণকে সুসজ্জিত করার পূর্বে অন্তরকে নির্মল করাই অধিক শ্রেয়। এতদ প্রসঙ্গে হযরত আবু যর (রা.) হতে বর্ণিত, হাদিসে কুদসীতে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন : ‘হে আমার বান্দাহগণ! তোমাদের পূর্বাপর সকল মানুষ ও সকল জিন যদি তোমাদের মধ্যেÑ এমন এক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির চেয়েও অধিক সংযমশীল বা পরহেজগার হৃদয়ের মতো হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বের কিছুই বাড়াতে পারবে না।

হে আমার বান্দাহগণ! তোমাদের পূর্বাপর সকল মানুষ ও জিন যদি তোমাদের মধ্যে এমন নিকৃষ্ট ব্যক্তিত্ব যে সর্বাধিক পাপী, তার মতো পাপাসক্ত হৃদয়ের অধিকারী হয়ে যায়, তবুও আমার রাজত্বের কিছুই কমাতে পারবে না।’ (সহীহ মুসলিম : হাদিস নং-২৫৭৭)।

এই হাদিস হতে জানা যায় যে, তাকওয়ার মূল হলো অন্তরের পরহেজগারী। একইভাবে অন্যায় ও ব্যভিচারের প্রতি প্রেরণাদানকারীও হলো এই অন্তর। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকওয়া বা পরহেজগারীকে এবং অন্যায় ও ব্যভিচারকে একই উৎসের সাথে যুক্ত করেছেন। আর উক্ত উৎসটি হলো অন্তর।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এ উভয়বিধ সম্পর্কের ব্যাখ্যা নিজেই প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘তাকওয়া (পরহেজগারী) এখানে, তাকওয়া এখানে এবং (তৃতীয়বারে) তিনি তাঁর বক্ষের (অন্তরের) দিকে ইশারা করলেন।’ (সহীহ মুসলিম : হাদিস নং-২৫৬৪)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বুকের দিকে ইশারা করার কারণ হলো এই যে, অন্তরই হলো তাকওয়া বা পরহেজগারীর স্থান ও তার মূল। প্রকৃতপক্ষে অন্তরের তাকওয়া হলো মূল জিনিস। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বা বহিরাবরণের পরহেজগারী নয়। মহান আল্লাহপাক কুরবানির পশু জবেহের বিষয়ে যা নির্দেশ করেছেন তা এ কথারই প্রমাণ বহন করে। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত ও রক্ত পৌঁছে না। বরং তাঁর কাছে তোমাদের (অন্তরের) তাকওয়াই পৌঁছে।’ (সূরা হজ্জ্ব : আয়াত ৩৭)।

এতে বোঝা যায় যে, আল্লাহপাকের কাছে অন্তরের তাকওয়াই শুধু পৌঁছে থাকে। এই আয়াতে কারীমার ব্যাখ্যা আল্লাহপাক নিজেই করেছেন। আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে : ‘তাঁরই (আল্লাহর) দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম একে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দেয়।’ (সূরা ফাতির : আয়াত-১০)।

এ জন্য মুমিন-মুসলমানদের সকল প্রকার আমলের মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহভীতি ও পরহেজগারী। আর তা সম্ভব হবে ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অন্তরের ইবাদতের মাধ্যমে। এ জন্য অন্তরকে সংশোধন করা, পবিত্র করা, সকল প্রকার আবিলতা থেকে মুক্ত করা এবং অন্তরকে মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের ভূষণে সুসজ্জিত করা ও অলঙ্কৃত করার প্রতি তাগিদ করা হয়েছে। কারণ আল্লাহপাক বান্দাহর অন্তরকে দেখা বা দর্শনের স্থান বানিয়েছেন।

বস্তুত অন্তরের বিষয়ে অধিক মনোযোগ দেয়ার প্রতি তাগিদ করার কারণ হলো এই যে, মানুষের অন্তরই হলো তার দেহের বাদশাহ এবং অনুকরণীয় রাষ্ট্রপ্রধান। কাজেই অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, সুস্থতা ও সঠিকতাই হলো সকল কল্যাণের মূল উৎস এবং দুনিয়াতে কামিয়াবী ও আখেরাতে মুক্তির মাধ্যম।

হযরত নুমান ইবনে বশীর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন : ‘সাবধান! দেহে বা শরীরে একটি মাংসখণ্ড আছে। মাংসখণ্ডটি যখন সুস্থ ও ভালো থাকে, তখন সমস্ত দেহ ও শরীর সুস্থ ও ভালো থাকে। আর যখন তা নষ্ট ও বিকৃত হয়ে যায়, তখন সমস্ত দেহ ও শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো! সেই মাংসখণ্ডটি হলো কালব বা অন্তর’। (সহীহ বুখারী : পৃ. ৫২; সহীহ মসলিম : পৃ. ১৫৯৯)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
নাবিল আব্দুল্লাহ ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৭ এএম says : 0
আল্লাহ তায়ালার ভীতি অন্তরে পোষণ করা হচ্ছে সর্বোত্তম নসিহত। একজন মুমিন অপর মুমিন ব্যক্তিকে সর্বোত্তম যে নসিহত করতে পারে, তা হল আল্লাহর ভয়। আল্লাহর ভয় অন্তরে সদা জাগরুক রাখা হচ্ছে ইবাদতের সারকথা। মহান আল্লাহ পাক ঘোষণাকরেন --" ইয়া আইয়্যুহাল লাজিনা আমানুত তাক্বুল্লাহা ওয়াল তানজুর নাফসুম মা ক্বাদ্দামাত লিগাদিও ওয়াত্বাক্বুল্লাহা ইন্নাল্লাহা খাবিরুম বিমা তা'মালুন "।( হাশর-১৮) অর্থাৎ - হে ঈমানদার সকল! আল্লাহকে ভয় কর। এবং প্রতিটি আত্মা যেন ভেবে দেখে সে আগামীকালের জন্য কী প্রেরণ করেছে। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরিজ্ঞাত আছেন তোমরা যা আমল কর।
Total Reply(0)
রকিবুল ইসলাম ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৮ এএম says : 0
জুন্দুব ইবনে জুনাদাহ ও মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে তুমি যখন যেভাবেই থাকো না কেন? আর মন্দ কাজ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নেক কাজ করবে। কারণ নেক কাজ মন্দকে মুছে ফেলে। আর মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে।’ (সুনানে তিরমিজি : ১৯৮৭)
Total Reply(0)
আবদুল মান্নান ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৮ এএম says : 0
আল্লাহভীরু মানুষের জন্য আল্লাহ জীবনকে সহজ ও সাবলীল করে দেন। ফলে জীবন তার কাছে বোঝা মনে হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দেবেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৪)
Total Reply(0)
ইউসুফ বিন ইকবাল ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৪:২৯ এএম says : 0
পরকালে উত্তম পরিণতি তাকওয়ার অন্যতম পুরস্কার। আল্লাহ খোদাভীরুদের জন্য উত্তম পরিণতির ঘোষণা দিয়েছেন, ‘শুভ পরিণতি আল্লাহভীরুর জন্য।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৮৩)
Total Reply(0)
উবায়দুল্লাহ ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ৪:৩০ এএম says : 0
তাকওয়া বা আল্লাহভীরুদের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো আল্লাহর ভালোবাসা। আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ খোদাভীরুদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৩)
Total Reply(0)
সবুজ ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১:৪৪ এএম says : 0
আমাদের অন্তরে আল্লাহভীতি পয়দা হওয়া, অন্তর পরিচ্ছন্ন হওয়া একান্ত দরকার।
Total Reply(0)
jack ali ২৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:২৪ পিএম says : 0
আপনারা কি সুন্দর কোরআন হাদিস দিয়ে আর্টিকেল লেখেন অথচ আমাদের দেশে চলে মানব রচিত আইন দিয়ে তার নাম হচ্ছে গণতন্ত্র ..................
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন