রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

মহানগর

উম্মতে মুহাম্মদীই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী -খুৎবা পূর্ব বয়ান

শামসুল ইসলাম | প্রকাশের সময় : ২৯ অক্টোবর, ২০২১, ৩:২৪ পিএম

উম্মতে মুহাম্মদীকে এমন কিছু সম্মাননা আল্লাহ দিয়েছেন, যা অন্য কোনো উম্মতকে দেননি। আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যত জাতির আবির্ভাব হয়েছে, তন্মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির জন্য।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)। আর রাসুল সা. কখনও ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠী বিচারে কারো প্রতি জুলুম করেননি। আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে পেশ ইমাম এসব কথা বলেন। রাজধানীর মসজিদগুলোতে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেক মুসল্লিই বাইরে রাস্তার ওপর জুমার নামাজ আদায় করেছেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান আজ জুমার বয়ানে বলেন, মানবতার মুমূর্ষদশা থেকে মানুষ ও মানবতাকে মুক্তি দিতে প্রেরণ করা হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। প্রিয় নবী মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী । মহান আল্লাহ বলেন, আর তখন কি অবস্থা হবে, যখন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং এই লোকদের বিরুদ্ধে আপনাকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব । ( সূরা নিসা : ৪০ ) আল্লাহ তায়ালা প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ১০৭)
পেশ ইমাম বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমাতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকার এবং মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য (নবী করে) পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে। ( মুসলিম :১০৫৪)
আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ‘আমিই হলাম সর্বপ্রথম ব্যক্তি কিয়ামতের দিন যার মাথার উপর থেকে মাটি সরে যাবে ( অর্থ্যাৎ আমি কবর থেকে সর্বপ্রথম হাশরের মাঠে উঠব ) কিন্তু এতে কোন অহংকার নেই। আর আমাকে প্রশংসার পতাকা দেয়া হবে, তাতেও কোন অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আমিই হব মানবজাতির নেতা, এতেও আমার কোন অহংকার নেই। কিয়ামতের দিন আমিই হব জান্নাতে প্রবেশকারী সর্বপ্রথম ব্যক্তি, এতেও কোন অহংকার নেই। ( সূনান আদ দারেমী : ৫৮ ) । উম্মতে মুহাম্মদীকে এমন কিছু সম্মাননা আল্লাহ দিয়েছেন, যা অন্য কোনো উম্মতকে দেননি। আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে শ্রেষ্ঠ উম্মত ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে যত জাতির আবির্ভাব হয়েছে, তন্মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত। তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে মানবজাতির জন্য।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ১১০)।
পেশ ইমাম বলেন, সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমাবার হলো শ্রেষ্ঠতম দিন। আগেকার উম্মত এই দিনের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমরা শেষ উম্মত। তবে কিয়ামতের দিন আমরা সবার অগ্রগামী হব। কারণ আগের লোকদের কিতাব দেয়া হয় এবং এক পবিত্র দিনে ইবাদত করা তাদের ওপর ফরজ করা হয়। কিন্তু তারা তাতে মতভেদ করে। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ দিনটির সন্ধান দেন। এ ব্যাপারে সব উম্মত আমাদের অনুগামী। ইহুদিরা পরের দিন তথা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা এর পরের দিন তথা রোববারকে মর্যাদার দিন হিসেবে সাব্যস্ত করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ৮৫৫)
মহান আল্লাহ এই উম্মতের ভুল ত্রুটি ও গোনাহের পরিকল্পনা ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ বান্দাদের দোয়া করতে শিখিয়ে দিয়ে বলেন, ‘পরওয়ারদেগার, আমরা যদি বিস্মৃত হই কিংবা ভুল করে ফেলি, তাহলে তুমি আমাদের পাকড়াও কোরো না।’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬) সুতরাং শ্রেষ্ঠ নবীর শ্রেষ্ঠ উম্মতের সম্মান আমাদেরকে বজায় রাখতে হবে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাতলানো পথেই আমাদেরকে চলতে হবে। রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহ সবাইকে তৌফিক দান করুন। আমীন।
মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতীব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। আর ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব হলো সবার সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করা। এজন্য আমরা দেখতে পাই, একমাত্র ইসলামই অমুসলিমদের অধিকার নিশ্চিত এবং তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গোটা জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, "আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং-১০৭)। তাই তিনি কখনও ধর্ম বর্ণ জাতি গোষ্ঠী বিচারে কারো প্রতি জুলুম করেননি। হযরত সুফিয়ান ইবনে সালিম রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘জেনে রেখ! কোনো মুসলমান যদি অমুসলিম নাগরিকের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে, কোন অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করে, তার কোন জিনিস বা সহায় সম্পদ জোরপূর্বক কেড়ে নেয়; তবে কেয়ামতের দিন আল্লাহর বিচারের কাঠগড়ায় আমি তাদের বিপক্ষে অমুসলিমের পক্ষে অবস্থান করব।’ (আবু দাউদ)। তিনি অন্যায়ভাবে অমুসলিমের জানমালের ওপর হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। কারণ এর পরিণতি হবে জাহান্নাম। হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. বর্ণনা করেন, নবীজী সা. ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন অমুসলিমকে হত্যা করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)।
খতিব আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে নবীজী সা. এর অনুপম চরিত্র মাধুর্যের ব্যাপারে ইরশাদ করেন, "আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।" (সূরা আল কলম, আয়াত নং-৪)। রাসূলুল্লাহ সা. বলেন "উত্তম চরিত্র মাধুর্যের পূর্ণতাদানের জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।" তাই তিনি সর্বদাই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সম্মান করেছেন। হোক সে মুসলিম কিংবা অমুসলিম। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, একবার বিশ্বনবীর সা. সামনে দিয়ে এক ইয়াহুদির লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তিনি ওই লাশের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন জাবের রা. বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা তো ইয়াহুদির লাশ! তখন তিনি বললেন, সে কি মানুষ নয়?’ (বুখারি)। সুতরাং আমাদের উচিত ইসলামের সুমহান আদর্শগুলো গ্রহণ করা এবং নবীজী সা. এর উদার নীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।
ঢাকা মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া মসজিদে বায়তুল হারামের খতিব মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা আজ জুমার বয়ানে জোরালো কন্ঠে দাবি করে বলেন, বাংলাদেশে সুদীর্ঘকাল যাবত বিভিন্ন ধর্মের লোকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে মডেল গড়ে উঠেছে এর সিংহভাগ অবদান এ দেশের আলেল ওলামা বিশেষ করে মসজিদের ইমাম ও খতিবদের। কারণ তারা কোরআন ও সুন্নাহর শান্তির বাণী দিয়ে সকল ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথাই মানুষকে মেনে চলতে বলেন। তিনি বলেন, কিছু ধর্ম বিদ্বেষী লোক কোন প্রমাণ বা রেকর্ড ছাড়াই বলে থাকেন যে, জুমার দিন কোন কোন মসজিদে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার পরই মিছিল হয় এবং সেখান থেকে হামলা হয়। তাদের এ ধরণের বক্তব্য ডাহা মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। মসজিদ থেকে ইমাম ও খতিবরা নবিজী ( সা.) এর আদর্শে কথা বলেন। নবিজী (সা.) এর জীবনে শত শত উদাহরণ রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপনের। যেমন হুদায়বিয়ার সন্ধি ও মদীনা সনদ এর অন্যতম উদারণ। কেউ যদি বলে যে, ইয়াহুদীদের মদীনা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ কথা বলার আগে ইতিহাস পড়ুন, এই ইয়াহুদীদেরকে নবিজী বহু সুযোগ ও স্বাধীনতা দেয়ার পরও তারা প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এমনকি তারা নবিজীকে হত্যার চেষ্টাও বহুবার করেছে। বার বার ক্ষমার পরও তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়নি। বাধ্য হয়ে তখন তাদেরকে বহিস্কার করতে হয়েছে। এটাতো পৃথবীর সকল আইনে স্বীকৃত যে দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্বে যে বা যারা ষড়যন্ত্র করবে তারা রাষ্ট্রদ্রোহী। নবিজী সা. এর এত অঢেল সুযোগ যারা গ্রহণ এবং সহ অবস্থান করতে পারেনি তারা পৃথিবীতে আর কারো সাথে সহ অবস্থান করতে পারবেনা। তাদের আর কোন স্থায়ী বাসস্থানও হবেনা। এজন্যই তারা সারা জীবন যাযাবর। আমেরিকা ইউরোপ কেউ তাদের বিশ্বাস করেনি। তারা অভিশপ্ত। খতিব বলেন, আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা যেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আলেম সমাজ বিশেষ করে ইমাম ও খতিবরা শতশত বছর ধরে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের সহ অবস্থানের পক্ষে কথা বলে ও কাজ করে সফল হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা সাম্প্রদায়িক সহ অবস্থানের পক্ষে ইসলামের বাণী প্রচার করে যাব এবং এর মডেল তৈরী করব ইনশাআাল্লাহ। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমীন।
দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা রেজাউল করিম জুমার খুৎবার বয়ানে বলেন, দ্বীনের ব্যাপারে ইস্তিকামাত তথা অবিচলতা সুদৃঢ় থাকা, দ্বীনি সফলতার চাবিকাঠি। দুনিয়ার যত গুমরাহি ও পাপাচার দেখা যায় তা সবই ইস্তিকামাত হতে সরে যাওয়ার ফল। আকায়েদ অর্থাৎ ধর্মীয় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ইস্তিকামাত না থাকলে মানুষ বেদাত শিরিক কুফর পর্যন্ত পৌছে যায়। আল্লাহ তায়ালার পবিত্র সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সুষ্ঠু সঠিক মূলনীতি শিক্ষা দিয়েছেন তার মধ্যে বিন্দুমাত্র কমবেশি পরিবর্তন পরিবর্ধনকারি পথভ্রষ্ট রূপে আখ্যায়িত হবে। তার নিয়ত যতই ভালো হোক না কেন। অনুরূপভাবে নবী রাসূল গণের পতি ভক্তি শ্রদ্ধার যে সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে সে ব্যাপারে ত্রুটি করা স্পষ্ট ধৃষ্টতা ও পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ ইরশাদ করেন, আপনি দ্বীনের পথে দৃঢ় ভাবে সোজা চলতে থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন । (সূরা হুদ আয়াত নং ১১২) তাই আমাদের উচিত দ্বীনের ব্যাপারে ইস্তিকামাত নিয়ে থাকা। দ্বীন প্রচার প্রসারে বাড়াবাড়ি না করা। আল্লাহ সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন