বৃহস্পিতবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ০৩ ভাদ্র ১৪২৯, ১৯ মুহাররম ১৪৪৪

সম্পাদকীয়

ফ্লাইওভারে-সেতুতেও যানজট

| প্রকাশের সময় : ২ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারে যানজট নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান অংশে দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এতে জনভোগান্তি চরম আকার নেয়। সাধারণত ফ্লাইওভারে যানজট হওয়ার কথা নয়। অথচ, এই ফ্লাইওভারে যানজট লেগেই থাকে। ফ্লাইওভারে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী নামানো-ওঠানো যানজটের অন্যতম কারণ। যানবাহনের স্টপেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পয়েন্ট, যা নিষিদ্ধ। ওদিকে কুতুবখালি প্রান্তে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলকারী লোকাল বাসের ফ্লাইওভারের মুখে যাত্রী নামানো-ওঠানোর কারণে শুরুতেই যানজটের সূত্রপাত হয়, যা গোটা ফ্লাইওভারে ছড়িয়ে যায়। বারবার লেখালেখি হলেও এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না। কর্তৃপক্ষের উপেক্ষা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর ব্যর্থতা এ জন্য দায়ী। উল্লেখ করা যেতে পারে, হানিফ ফ্লাইওভার নিয়ে প্রায়ই পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হতে দেখা যায়। যানজট, বিশৃংখলা, ছিনতাই, দুর্ঘটনা, ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি এসব খবরের বিষয়বস্তু। ফ্লাইওভারের নিচের অনেক জায়গা দখল হয়ে আছে। পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচলের রাস্তাও খানাখন্দকে ভরা। ফলে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনন কখনো কখনো যানজটের শিকার হয়। দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের। সুচারু ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর যথাযথ তৎপরতা থাকলে এরকম পরিস্থিতি কখনোই সৃষ্টি হতে পারতো না। আইনশৃংখলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ধরতে যতটা পরিদৃশ্যমান, অন্যান্য ক্ষেত্রে ততটা লক্ষ করা যায় না। এটা বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। সড়ক-মহাসড়কে দায়িত্বপালনকারী আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ পুরানো। এসব অভিযোগের সুরাহা কবে হবে, কেউ বলতে পারে না।
রাজধানী ঢাকা যানজটের শহর হিসেবে আন্তর্জাতিক অখ্যাতি অর্জন করেছে। এই অখ্যাতি অপনোদনের কোনো প্রয়াস দেখা যায় না। এর বিভিন্ন প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে এমন কোনো সড়ক ও লেন নেই, যেখানে রাতদিন কম বা বেশি যানজট লেগে না থাকে। এতে বিপুল শ্রমঘণ্টা যেমন নষ্ট হয়, তেমনি মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগসহ বিশাল আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়। একটি ইংরেজি দৈনিকে গতকাল দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুতে যানজটের ছবি ছাপা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সেতু ওপর ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। অটো ও বাস সেতুকে স্টপেজ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাত্রী নামাচ্ছে ও ওঠাচ্ছে। বলা বাহুল্য, এদৃশ্য প্রতিদিনকার। এটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে, যদি ওই সেতু দেখভাল করার কোনো কর্তৃপক্ষ থাকে কিংবা সক্রিয় থাকে আইনশৃংখলা বাহিনী? প্রতিদিন হানিফ ফ্লাইওভার ও বুড়িগঙ্গার ওপর নির্মিত সেতুগুলো দিয়ে যাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবাহিত হয়। এই সব ফ্লাইওভার ও সেতু এবং প্রবেশমুখী সড়কগুলো যদি যানজট মুক্ত থাকে, মসৃণ যাতায়াতের উপযোগী থাকে তাহলে জনদুর্ভোগ যেমন কমতে পারে, তেমনি যানজটের প্রচণ্ডতাও হ্রাস পেতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সদা তৎপর থেকে কর্তব্য পালনে সততার পরিচয় দিতে হবে।
ঢাকা কেবল যানজটেরই শহরই নয়, পরিবেশ দূষণসহ বসবাসের অযোগ্য একটি শহরে পরিগণিত হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির শহর এর অখ্যাতি ষোলআনা। পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণসহ এমন কোনো দূষণ নেই, যাতে আক্রান্ত নয় এ শহর। বিশ্বের রাজধানী শহরগুলোর তুলনায় ঢাকা সবচেয়ে অবনত এবং সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে। এ শহরকে সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এবং এর নাগরিকদের সকল প্রকার সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা সীমাহীন। অপরিকল্পিতভাবে শহর সম্প্রসারিত হচ্ছে; সেই তুলনায় সেবা ও সুবিধা বাড়ছে না। সব সমস্যাই ক্রমাগত ঘনীভূত ও প্রকট হয়ে উঠছে। যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা; তার কোনো সমাধান নেই। একের পর এক ফ্লাইওভার বানানো হয়েছে। তাতে যানজট কমেনি। যানজট নিরসনের জন্যই মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়িত ও কার্যকর হবে, বলার উপায় নেই। এতে যানজট সমস্যার কতটা সুরাহা হবে, সে ব্যাপারেও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য গত প্রায় ১০-১২ বছর ধরে নগরবাসীর ভোগান্তির অন্ত নেই। যখন-তখন যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং ওই অবস্থায় তা ফেলে রাখা রীতিমত ‘কালচারে’ পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে সব সংস্থার সমন্বিত কার্যব্যবস্থা গ্রহণের তাকিদ বহুদিন ধরে উচ্চারিত হলেও কোনো পদক্ষেপ নেই। যদি এধরনের ব্যবস্থা হতো তাহলে জনভোগান্তি অনেক কমতো। রাজধানী শহরের প্রতি এহেন অবহেলা বিশ্বের আর কোথাও লক্ষ করা যায় না। ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে এর অধিবাসীদের নিরাপত্তা, নিরাপদ জীবন যাপন ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই চূড়ান্ত ও শেষ কথা। এর অন্যথা বা ব্যতিক্রম একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
abdul quaium shekh ২ নভেম্বর, ২০২১, ৯:১৬ এএম says : 0
যানজটমুক্ত ঢাকা চাই।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন