বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শিক্ষক সংকটে শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের উপক্রম

২২৩ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৯৮ জন

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ৬ নভেম্বর, ২০২১, ২:১২ পিএম

শিক্ষক সংকটে দেশের অন্যতম বৃহত চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বরিশালের শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় মুখ থুবরে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, কিউরেটর, প্রভাষক, প্যাথলজিষ্ট, মেডিকেল অফিসার ও বায়োকেমিষ্ট-এর ২২৩ পদের বিপরিতে বর্তমান কর্মরত মাত্র ৯৮ জন। তবে এর মধ্যেও মন্ত্রনালয়ে ওএসডি হিসেবে থাকা ২৬জনকে এ মেডিকেল কলেজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যত্র নিয়োগ প্রাপ্ত অপর একজনকে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে শের এ বাংরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু এরাপরেও ১২৫টি পদ কোন শিক্ষক নেই। অনুমোদিত পদের ৬০ ভাগেরও বেশী শূণ্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম অচল হবার পথে।

অর্ধ শতাধীক বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৩৬জন অধ্যাপকের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১জন। মন্ত্রনালয়ে ওএসডি থাকা দুজন অধ্যাপককে এখানে নিয়োগ দেয়ার ফলে মোট সংখ্যাটা এখন তিন। শূন্য পদের সংখ্যা ৩৩। ৫০ জন সহযোগী অধ্যাপকের মধ্যে আছেন মাত্র ১৩ জন। এছাড়া মন্ত্রানালয়ে ওএসডি হিসেবে ৬ জন এখানে কর্মরত। শূণ্য ৩৭টি সহযোগী অধ্যাপক পদে কোন জনবল নেই। ৮০জন সহকারী অধ্যাপকের স্থলে যে ৪৬ জন কর্মরত আছেন, তাদের ১৮ জনই মন্ত্রনালয়ে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত। তারপরেও শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪। এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৪টি প্রভাষক পদের বিপরিতে কর্মরত ২৮ জন। যারমধ্যে আবার একজন প্রেষণে নিযুক্ত আছেন। ছয়জন মেডিকেল অফিসার পদের বিপরিতে কর্মরত দুজন। আর এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে একমাত্র বায়োকেমিষ্ট পদে কাউকেই নিয়োগ দেয়া হয়নি।

আগামী দিনের চিকিৎসক তৈরীর ঐতিহ্যবাহী এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০ ভাগেরও বেশী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় এখানের লেখাপড়ার মান নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভাইরোলজী, শিশু হেমাটলজী ও অনকোলজী, ক্লিনিক্যাল নিউরো সার্জারী, অর্থোপ্লাষ্ট, অর্থোপেডিক ও ট্রমাটোলজী, স্পাইন সার্জারী, জেনারেল রেডিওলজী, নিউরো রেডিওলজী, রক্ত পারিসঞ্চালন, নিউরো সার্জারী এবং রিউমাটোলজী বিভাগগুলোতে কোন শিক্ষক নেই।
এছাড়া ফিজিওলজি, ফরেনসিক মেডিসেন, মাইক্রো বায়োলজী, কমিউনিটি মেডিসেন, ফিজিক্যাল মেডিসিন, নেফ্রোলজী, প্যাথলজি, নিউওরো মেডিসিন, অর্থোপেডিক, নাক-কান-গলা, রেডিও থেরাপী, ইউরোলজী, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী, এন্ডোক্রাইনোলজী ও মেটাবলিক, নিউনোটলজী ও রিউমাটোলজী বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের পদগুলোও শূন্য। পাশাপাশি রেসপিরেটরী মেডিসিন, হেপাটলজী, রেডিওথেরাপী, এনসথেসিওলজী, রেডিওলজী ও ইমেজিং, চক্ষু, স্পোর্টস মেডিসিন ও অর্থোসকপি, অর্থোপেডিক, সার্জারী, ফার্মাকোলিজী ও বায়োকেমেষ্ট্রি সহ আরো কয়েকটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদগুলো শূণ্য পড়ে আছে দীর্ঘদিন ।
কলেজটির ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মাত্র ১জন সহকারী অধ্যাপক ও একজন মেডিকেল অফিসার পুরো বিভাগটি চালান। অনুমোদিত পদ ৭। মাইক্রো বায়োলজি ও কমিউনিট মেডিসিন বিভাগেও মাত্র ১জন করে সহকারী অধ্যাপক। মেডিসিন বিভাগে ৩জন অধ্যাপকের পদই শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ৫টি পদে আছেন একজন। সহকারী অধ্যাপকেরও ৩টি পদ শূন্য। শিশু বিভাগের ৩টি সহযোগী অধ্যাপকের পদেও কোন জনবল নেই। নেফ্রোলজী বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের ৩টি পদের বিপরিতে এজন সহকারী অধ্যাপক কর্মরত আছেন। সইকেট্রি বিভাগটিও চলছে মাত্র একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। গাইনী বিভাগের দুটি অধ্যাপক পদই শূন্য থাকার মধ্যে সহযোগী অধ্যাপেকের ৩টি পদে আছেন একজন। সহকারী অধ্যাপকের ৫টি পদেও কর্মরত ৩জন।

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত এ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকের শূণ্যপদ নিয়ে শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. মুনিরুজ্জামান শাহিন-এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, গত ১৯ মাস করোনার কারণে ক্লাস বন্ধ ছিল। করোনা কালীন সময়ে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। ফলে ঐসব শূন্যপদে জনবল নিয়োগ হয়নি। এখন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে সময় লাগছে। আমরা সমস্যায় থাকলেও চেষ্টা করে যাচ্ছি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘœ রাখতে। শিক্ষক সংয়কটের বিষয়গুলো অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়ে খুব শিঘ্রই এখানে জনবল নিয়োগ দেয়ার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন