বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

‘ভুল আসামি’র বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

‘ভুল আসামি’ সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑ এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে তাকে হয়রানি বা গ্রেফতার না করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে নাÑ এই মর্মেও রুল জারি করা হয়। রিটের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রুলের পাশাপাশি সাজা মূলে গ্রেফতারি পরোয়না ২ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে মূল অভিযুক্তকে শনাক্তে এবং ঘটনা তদন্ত করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আরেফিন জুন্নুন।

তিনি জানান, সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চীফ রিটাচার। অবসর নিয়েছেন ২০০৭ সালে। অবসের এক যুগ পরে হঠাৎ করে তার মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজার একটি পরোয়ানা গ্রামের বাড়িতে যায়। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখে হতবিহ্বল হয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির রূপসা কমিউনিটি সেন্টারের পাশে রাস্তার ফুটপাতে চার ব্যক্তিকে ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে র‌্যাব। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই চারজনের মধ্যে একজন তার পরিচয় দেন নরসিংদীর কালিকাপুরের মো. নূরু মিয়ার ছেলে মো. সিদ্দিক (৩৩)।

এ মামলার তদন্ত করেন ধানমন্ডি থানার তৎকালীন এসআই ফরিদা ইয়াসমিন। পরে ওই চারজন জামিন নিয়ে ‘পলাতক’ হন। বিচার শেষে এ মামলায় ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত রায় দেন। রায়ে আসামিদের ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন। পরে ঠিকানা অনুসারে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়।

ঠিকানা অনুসারে নরসিংদীতে পরোয়ানা যায়। কিন্তু কেউ একজন রিট আবেদনকারীর (বিমানের কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান) নাম-ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। রিট আবেদনকারীর নরসিংদীর সদরের কালিকাপুর গ্রামের নূরু মিয়া এবং কুরফুলের নেসার ছেলে মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চীফ রিটাচার পদে চাকরি করতেন। তিনি ২০০৭ সালের ১৬ মে অবসরেও যান।

আসামিদের যখন ২০০৫ সালে গ্রেফতার দেখানো হয়, তখন তিনি অফিস করেছিলেন। যখন ঘটনাটি সংঘটিত হয়, তখন সিদ্দিকুর রহমানের বয়স ৫০ বছরের বেশি। আর গ্রেফতার ব্যক্তির বয়স দেখানো হয় ৩৩ বছর। যদি এ আবেদনকারী প্রকৃত আসামি হতেন, তাহলে তিনি কীভাবে অফিস করেছেন। কারণ আসামিরা তো তখন গ্রেফতার হয়েছিলেন। এ মামলার সঠিক তদন্ত করেননি তদন্ত কর্মকর্তা। হঠাৎ সাজা ও পরোয়নার বিষয়টি জানতে পেরে বিব্রত মো. সিদ্দিকুর রহমান রিট করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি), ডিআইজি প্রিজন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদা ইয়াসিনসহ ৮ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন