সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কেউ ভিকটিম হলে নিজেকে লুকাবেন না

সাইবার ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে আইজিপি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

সাইবার ওয়ার্ল্ডে কোনো নারী ভিকটিম হলে নিজেকে লুকিয়ে না রেখে পুলিশের সহায়তা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতরে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর ওমেন’ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আইজিপি আরো বলেন, আমরা চাই না কোনো নারী-পুরুষ কেউই ভুক্তভোগী হোক। তারপরেও দুর্ভাগ্যজনভাবে কোনো নারী ভুক্তভোগী হয়ে গেলে সেটি লুকিয়ে রাখবেন না। আমরা চাই অপরাধীদের শাস্তি হোক।

তিনি বলেন, সামাজিক কারণে অনেকেই এ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমা করতে চায় না। তরুণ মেয়েরাই মূলত ভুক্তভোগী হচ্ছে বেশি। সমাজ বা সম্মানহানির ভয়ে তারা এটা করতে চায় না। সবচেয়ে মুশকিল হয় তখনই যখন অপরাধীকে শনাক্ত করার পরে ভিকটিম ব্যাকঅফ করে। তাই আমাদেরকে এটা মোকাবেলা করতে হবে। সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে হবে।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার ১২ হাজার ৬৪১ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশ জিডি বা মামলা করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযুক্তের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তের আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর ওমেন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৭ হাজার ২৮০ জন সেবাপ্রত্যাশী যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে হয়রানি-সংক্রান্ত ১২ হাজার ৬৪১ অভিযোগের মধ্যে আট হাজার ২২১ জনকে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রযুক্তিগত ও আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
আইজিপি বলেন, সাইবার ওয়ার্ল্ডে নানা ধরনের প্রোপাগান্ডায় রাষ্ট্র, ব্যক্তি তথা সমাজব্যবস্থা ভুক্তভোগী হচ্ছে। সাইবার বুলিং-সাইবার সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। এই প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে বুঝতেই পারেন না, তারা এই সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। যারা এই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তারাই বুঝতে পারেন, তারা কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। এর ফলে ব্যক্তির মানবিক-মানসিক বিপর্যয় ঘটে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এক তরুণী ফেসবুকে নিজের অনেকগুলো ছবি আপলোড করেছেন, অথচ তিনি জানেন না ফেসবুকের সেফটি কী। তার অজান্তেই কেউ একজন ছবিগুলো কপি করে একটি ন্যুড কমার্শিয়াল সাইটে দিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। ওই নারী তখনই জানতে পেরেছেন, যখন বিয়ের বিষয়টি এসেছে। পরে ওই নারীকে আমরা সাইবার সাপোর্ট দিয়ে সাইটটি ব্লক করে সহায়তার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি এ ধরনের ঝুঁঁকি যেগুলো আছে, সেসব সম্পর্কে জানতে হবে। কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক মাধ্যমে একবার ছড়িয়ে পড়লে কোটি কোটি মানুষের কব্জায় চলে যায়। হয়তো একটা আইডি ব্লক করা গেল। কিন্তু ওই আইডি থেকে কোটি কোটি শেয়ার-ট্যাগ হয়ে যায়। পুরুষ-নারী সবাইকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের আগে তার ঝুঁঁকি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি জানতে হবে।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি, যা মোট অভিযোগের ৪৩ শতাংশ বা পাঁচ হাজার ৪৭৫ জন। এ সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে এক হাজার ৮৮৪ জন নারীকে। আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে হয়রানি করা হয় ৯৯২ জনকে। অন্যান্য উপায়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন এক হাজার ৫১৮ জন। অভিযোগকারীর শতকরা ১৬ ভাগ ১৮ বছরের কম বয়সী। শতকরা ৫৮ ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছর। ২৫-৩০ এর মধ্যে ভুক্তভোগী ২০ ভাগ এবং ছয় ভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি। ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক ভুক্তভোগী এই সেলে অভিযোগ করেছেন, যা মোট অভিযোগের ৬৪ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৭ শতাংশ, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগ থেকে ৪ শতাংশ, বরিশাল থেকে ৩ শতাংশ ও ময়মনসিংহ থেকে ২ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘সাইবার স্পেস নারীসেবা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এক বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন। বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে বিশ্বাসী নারীর বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নারীর জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নির্মাণে ভূমিকা রাখতে এক বছরের পথ অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি এবং পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সারাদেশ থেকে পুলিশের সব ইউনিট ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে ফেসবুক পেইজটির গত এক বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Shahidul islam ১৬ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৪৯ পিএম says : 0
Who gives safety after file the ceases.Who have power he cane do wate he need.that's cause man and woman not to go filling the case. So need first to sefty for people.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন