বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯, ২৮ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ধর্ম দর্শন

আবরাহার মক্কায় আক্রমণ ও রাসূল সা. এর জন্ম

কাজী সিকান্দার | প্রকাশের সময় : ১৮ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

পূর্ব প্রকাশিতের পর
যদি যুদ্ধ করতে না চায় সর্দারকে নিয়ে আসবে। অতপর তার সাথে আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেম রাজা আবরাহার কাছে এসেছে। আব্দুল মুত্তালিবকে দেখেই আবরাহা উপর থেকে নিচে নেমে এলো এবং একই সাথে বসলো আর দোভাষীর মাধ্যমে কথা শুরু করলো। আব্দুল মুত্তালিব বলল যে, আমার উটগুলো দিয়ে দিন শুধু। আবরাহা বলল, তোমাকে যখন প্রথম দেখি তখন অমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তবে এখন তোমার কথা শুনে বীতশ্রদ্ধা জম্মেছে আমার মনে। তুমি তোমার বাপ দাদার ঐতিহ্যবাহী ঘরের কথা বলছ না যে ঘর আমি ধ্বংস করতে এসেছি। তখন আব্দুল মুত্তালিব বলল, আমি আমার উটের মালিক আর কাবা ঘরের মলিক আরেকজন তিনি তার ঘর রক্ষা করবেন। আবরাহা বলল, আমার আক্রমণ থেকে তিনি রক্ষা করতে পারে না। আব্দুল মুত্তালিব বলল, সেটা আপনার আর ক’বাঘরের মালিকের ব্যাপার। অতঃপর তার উট তাকে ফেরত দেয়া হলো। কা’বাবাসী সবাই পাহাড়ে আশ্রয় নিল। যাওয়ার সময় আব্দুল মুত্তালিব ক’বার দরজার চৌকাঠ ধরে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! একজন সাধারণ দাসও তার দলবলকে রক্ষা করে থাকে। অতএব তুমি তোমার বিধিসম্মত ও ন্যায়সংগত সম্পদ ও লোকজনকে রক্ষা কর। ওদের ক্রশ ও বলবিক্রম যেন তোমার শক্তি ও পরাক্রমের ওপর জয়যুক্ত না হয়। আমাদের কিবলাকে তুমি যদি শত্রুর করুণার ওপর ছেড়ে দিতে চাও, তা হলে যা খুশি তা কর’’ পরদিন প্রত্যুশে আবরাহা কাবা আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত হলো, সামনে হস্তী বাহিনী। প্রথম যে হাতী তার নাম ছিল মাহমুদ’ নুফায়েল ইবনে হাবীব ‘মাহমুদ’ হাতীর কান ধরে বলল, তুমি হাটু গেড়ে বসে যাও না হয় যেদিক থেকে এসেছ সে দিকে চলে যাও জেন রেখ তুমি আল্লাহর পবিত্র নগরীতে এসেছ। তখন ‘মাহমুদ’ হাতী হাঁটু গেড়ে বসে যায়। সামনে আগ্রসর হয় না। সৈন্যরা হাতিকে অনেক মারলো তবে হাতীকে উঠাতে পারলো না। যখন তাকে ইয়ামানের দিকে ফিরিয়ে দাক্কা দিল তখনি সে উঠে দাঁড়ালো। সিরিয়া সহ যে দিকে তাকে ফিরায় সে দিকেই দৌড় দেয় শুধু মক্কার দিকে ফিরালেই সে বসে পড়ে। ঠিক ঐ সময়ে আল্লাহ তাআলা সমুদ্রের দিক থেকে আবাবীল পাখি পাঠায় তাদের প্রত্যেকটির সাথে তিনটি পাথরের নুড়ি ছিল। দু’পায়ে দু’টি আর একটি ঠোটে। পাখিগুলো এসে আবরাহার বাহীনীর ওপর পাথর নিক্ষেপ করতে শুরু করলো। যার গায়ে পড়ছে সেই মরতে লাগলো। যার মাথার উপর পড়লো তার মাথার ভেতর দিয়ে নিচে নেমে হাতীর পিঠ দিয়ে ডুকে পেট দিয়ে বের হয়ে মাটিতে পড়লো সাথে সৈন্য ও হাতী মাটিতে ভক্ষিত তৃণের ন্যয় বসে পড়লো। অনেকে আবার পালাতে সক্ষম হয়েছে। যে যেদিকে পারলো পালাতে লাগলো। আবরাহার গায়েও একটি পড়লো। তার দেহের প্রতিটি অঙ্গ পঁচে পঁচে খসে পড়তে লাগলো। এক এক টুকরা খসে পড়ে গেলে বাকী অংশ থেকেও রক্ত ও পুঁজ পড়তে থাকলো। তার সৈন্যরা তাকে ইয়ামানে নিয়ে গেলো। সে যখন সানায় পৌঁছলো তার শরীরের একটি পাখির শাবকের চেয়ে বেশি গোস্ত অবশিষ্ট ছিল না। এরপর যখন তার বুক থেকে হৃদপিন্ড বেরিয়ে পড়ল, তখনই তার মৃত্যু হলো।

এ বাদশাহ আবরার ঘটনা বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফের একটি সূরাই নাজিল করেছেন। ‘আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহীর সাথে করিূপ ব্যবহার করেছেন। তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেন নি? তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী। যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করেছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণসদূশ করে দেন। (সূরা ফীল আ/১-৫) এ ঘটনা আল্লাহ তাআলার বলার উদ্দেশ্য হলো প্রথমত কুরাইশদের প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। দ্বিতীয়ত আল্লাহ তাআলা অত্যাচারীকে কিভাবে ধ্বংস করেন তা যেন মানুষ বুঝে ও উপলব্ধি করে। এবং এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের জীবনকে অত্যাচারী হওয়া থেকে বিরত রাখে।

লেখক : পরিচালক ইসলাহ বাংলাদেশ।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps