শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৭ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

আল্লাহ ক্ষমা করার জন্য বাহানা তৈরি করেন

মুহাম্মাদ ফজলুল বারী | প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

দেখুন, বান্দা যখন তওবা করে ফিরে অসে তখন আল্লাহ শুধু ক্ষমাই করেন না, বরং ক্ষমার জন্য বাহানা তৈরি করেন। বনী ইসরাঈলের নিরানব্বই হত্যাকারীর ঘটনা অনেকেরই জানা। সে তওবা করে ফিরে এলো এবং নেককারদের এলাকার দিকে রওয়ানা হলো। পথিমধ্যে যখন তার মৃত্যুক্ষণ ঘনিয়ে এলো তখন রহমত ও আযাবের ফিরিশতা এলো এবং প্রত্যেকে তার জান কবয করতে চাইল। এক পর্যায়ে ফয়সালা হলো, সে যদি নেককারদের এলাকার কাছাকাছি হয় রহমতের ফিরিশতারা তাকে নিয়ে যাবে, অন্যথায়...।

উক্ত ঘটনার যে দিকটি আমাদের আলোচ্য বিষয় তা হলো : আল্লাহ নেককার লোকদের ভূমিকে বললেন, তুমি নিকটবর্তী হও। আর অপর ভূমিকে বললেন, তুমি দূরবর্তী হও। তারপর যখন ভূমির দূরত্ব মাপা হলো, দেখা গেল সে নেককারদের এলাকার দিকে এক বিঘত এগিয়ে রয়েছে। তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো (এবং রহমতের ফিরিশতা তার জান কবয করল)। (দ্র. সহীহ বুখারী, হাদীস ৩৪৭০)।

একটু লক্ষ্য করুন, ঘটনার বর্ণনা থেকে বুঝা যায় যে, সে নেককারদের ভূমির দিকে এগিয়ে ছিল না। আল্লাহর আদেশে তা নিকটবর্তী হয়েছে। অর্থাৎ, সে যখন তওবা করে ফিরে এসেছে তো আল্লাহ তার ক্ষমার জন্য নিজ রহমতে বাহানা তৈরি করে দিয়েছেন! হাঁ, আল্লাহ এমনই গাফূরুর রাহীম। প্রয়োজন শুধু বান্দার একটু এগিয়ে আসা।

এ যেন ঐ হাদীসেরই একটি বাস্তব উদাহরণ, যে হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেছেন : বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে আমি বান্দার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি...। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৪০৫)।

আল্লাহ ক্ষমা করে খুশি হন : তওবা অর্থ- ফিরে আসা। পাপের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ থেকে অনেক দূরে সরে যায় আর তওবার মাধ্যমে ফিরে আসে। পাপী বান্দা যখন তওবার মাধ্যমে ফিরে আসে তখন আল্লাহ কত খুশি হন- একটি হাদীসে তার উদাহরণ টানা হয়েছে এভাবে :

এক ব্যক্তি বিরান মরুভূমিতে চলছিল। তার খাদ্য-পানীয় সব ছিল তার বাহন জন্তুটির পিঠে। (সে এক স্থানে বিশ্রামের জন্য নামল এবং ঘুমিয়ে গেল। উঠে দেখল, খাদ্য-পানীয়সহ বাহন জন্তুটি পালিয়ে গেছে। সে নিরাশ হয়ে একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে গেল। হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখল, বাহন জন্তুটি (খাদ্য-পানীয়সহ) উপস্থিত! সাথে সাথে বাহনের লাগাম ধরে ফেলল এবং আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠল :

আল্লাহ! তুমি আমার বান্দা আমি তোমার রব! আনন্দের আতিশয্যে সে উল্টো বলল (সে বলতে চেয়েছিল, আল্লাহ! তুমি আমার রব আর আমি তোমার বান্দা!)। বান্দার তওবায় আল্লাহ ওই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৭৪৭)।

তো যে রব আকাশসম গোনাহ ক্ষমা করে দেন, ক্ষমা করার জন্য বাহানা তৈরি করেন এবং বান্দার তওবায় এত খুশি হন তাঁর বান্দার কি গোনাহ রয়ে যাওয়া সাজে!

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Golam Ajam ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৫ এএম says : 0
আল্লাহ তাআলা আমাদের হেদায়েত নসীব করুন। আমিন
Total Reply(0)
নিলিমা জাহান তনুশ্রী ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৬ এএম says : 0
বর্তমানে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা কঠিন থেকে কঠিন হয়ে পড়েছে। আমাদের উচিত প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। ক্ষমা চাইতে গিয়ে কোনো সংকোচ করা উচিত নয়।
Total Reply(0)
Md. Kabir ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৮:৫১ এএম says : 0
আল্লাহ! তুমি আমার রব আর আমি তোমার বান্দা
Total Reply(0)
salman ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:৪২ এএম says : 0
Alhamdulillah, Allah-hu-Akbar
Total Reply(0)
নাজমুল হাসান ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৭ এএম says : 0
আসলে আল্লাহ কতটা মহান আমাদের কল্পনারও বাইরে। বান্দা যখনই গুনাহ করে মাফ চায় ও ফিরে আসে, আল্লাহ তখনই কবুল করে নেন।
Total Reply(0)
তরিকুল ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৭ এএম says : 0
আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফের জন্য রীতিমতো অপেক্ষা করেন। বান্দা মাফ চাইলেই মাফ পেতে পারে।
Total Reply(0)
নিরব হেলাল ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৮ এএম says : 0
আল্লাহ বলেন, 'তারা যেন ওদের ক্ষমা করে এবং ওদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়াময়।' (সূরা নূর ২৪ :২২)
Total Reply(0)
হুসাইন আহমেদ হেলাল ১৯ নভেম্বর, ২০২১, ৬:২৮ এএম says : 0
মানুষ যেহেতু দোষ-গুণ দুটি দিয়েই তৈরি, সেহেতু ভুল করা স্বাভাবিক। তাই আমাদের উচিত, মন ছোট না করে আল্লাহর দরবারে প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাওয়া এবং পাশাপাশি আমরা একে অপরকেও ক্ষমা করে মহানুভবতা দেখানো উচিত। এটাই একজন প্রকৃত মুসলমানের বৈশিষ্ট্য।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন