ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

খেলাধুলা

ধাঁধার নাম উইকেট!

প্রকাশের সময় : ২০ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শামীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে : ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ সুবিধার পর বদলে গেছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মাঠ, উইকেট। যে মাঠে আগে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৫ দিনে টেস্ট টেনে নিতে ভাগ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো, সেই ভেন্যুতে সর্বশেষ ৪টি টেস্টে অন্য এক বাংলাদেশ দল আবির্ভূত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮৬ রানে জয় ছাড়াও সাফল্যের মুকুটে আছে নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা এবং দ. আফ্রিকার বিপক্ষে জয়! নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো ৫ দিন কর্তৃত্ব করে ড্র’র অতীত আছে, কিউইদের ৪৬৯ চেজ করে লিড নেয়ার (৫০১) সেই অতীতই শুধু নয়, সাঙ্গারাকার ত্রিপল সেঞ্চুরির ম্যাচ বাঁচানোর অতীতেও দারুণ সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশ দলের। টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মতো অল আউটের (২৪৮/১০) কৃতিত্ব পর্যন্ত দেখিয়েছে বাংলাদেশ বোলাররা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের এই বদলে যাওয়া অধ্যায়ের কৃতিত্ব কিছুটা হলেও পাবেন কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু। ৫ দিন অনায়াসে ব্যাটিংয়ে কাটিয়ে দেয়ার মতো উইকেট তৈরির রেসিপি প্রয়োগেই উৎসাহিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের। এই মাঠে সর্বশেষ ৪টি টেস্টে একই বৈশিষ্ট্যের উইকেট পেয়েছে উপহার মুশফিকুরের দল। অথচ, এক সময় রঙ হারিয়ে লালচে ঘাস এখন সবুজাভ, আউট ফিল্ডটা ঠিক যেন কার্পেটের মতো। ২২ ইঞ্চি স্লবে আউটফিল্ডটা ফাস্ট দেখাচ্ছে। মাঠের বৈশিষ্ট্যের মতোই বদলে ফেলা হয়েছে পীচের বৈশিষ্ট্য।
৮ দিন আগে  জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের ২৭৭ চেজ করে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৬ বছর আগে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৯৯/৬ ডি.-এর অতীত আছে ইংল্যান্ডের। সেই ম্যাচে ১৭৩ রানের ক্লাসিক ইনিংসের কথাও মনে রেখেছেন কুক। অতীতের বৈশিষ্ট্য থেকেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দারুণ উইকেট উপহার প্রত্যাশা করছেন সফরকারী দলের অধিনায়কÑ ‘ভালো একটি উইকেটের প্রত্যাশা করছি আমি। সর্বশেষ ২০১০ সালে এখানে যখন খেলেছি, তখন উইকেটটি দারুণ ছিল। সেই উইকেটটি খুব বেশি ধ্বংস হয়েছে বলে মনে হয় না। বাংলাদেশ স্কোয়াড দেখে মনে হচ্ছে দলটিতে প্রচুর স্পিনার। তাই ধারণা করছি শেষদিকে এসে উইকেটে যথেষ্ট টার্ন ধরবে। উপমহাদেশের ক্রিকেটে সব সময়ই প্রথম ক’দিন উইকেট থাকে ব্যাটিং স্বর্গ, চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে দ্রুত উইকেট পড়তে থাকে।’
তবে তার এই ধারণা ভুল প্রমাণ করতে যাচ্ছেন এবার ভেন্যুটির কিউরেটর। যেভাবে অনবরত বৃষ্টি পড়ছে, পিচ কভারসহ ৩০ গজী বৃত্ত এবং রান-আপ পয়েন্ট ছাড়া অন্য কোথাও কাভার দিয়ে ঢেকে না রাখা এই মাঠে কীভাবে গড়াবে ওয়ানডে ম্যাচ? এ প্রশ্নটাই করেছিলেন তিনি কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবুকে। সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাবু যথাসময়ে ম্যাচ শুরু করতে মাঠকে তৈরি করে। অসম্ভবকে সম্ভব করায় পেয়েছেন ম্যাচ রেফারির প্রশংসাপত্র। ক’দিন আগে ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচ রেফারি জাগভাল শ্রীনাথকে করেছিলেন হতভম্ব, এবার ধাঁধায় ফেলে টেস্টে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল ইংল্যান্ডকে হতভম্ব করতে চান তিনি।  
২০ উইকেট নেয়ার মতো সামর্থ্য নেই বাংলাদেশ বোলারদের, দল ঘোষণার আগের দিন এমন মন্তব্য করার পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ভাবনাকে অলীক কল্পনা বলে উল্লেখ করায় চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাটিং ফ্রেন্ডলী উইকেটের পূর্বাভাসই দিয়েছিলেন তিনি। এটা কি প্রতিপক্ষকে আত্মতুষ্টিতে ভোগানোর কৌশল হাতুরুসিংহের? গত পরশু সাকিবের মন্তব্য হাতুরুসিংহের ধারণাকে সমর্থন না করায় সে প্রশ্নই উঠছে। বাংলাদেশ বোলারদের ২০ উইকেট নেয়ার সামর্থ্য আছে,  কিন্তু  ফ্ল্যাট উইকেট বানিয়ে দেয়া হলে বোলারদের পক্ষে উইকেট নেয়া সম্ভব নয়। সাকিবের এমন মন্তব্যে দৃশ্যপট গেছে বদলে। যে উইকেটটি ফ্লাট হবে বলে ধারণা করেছে সবাই, সেই পীচটাকে এখন বড়ই রহস্যময় মনে হচ্ছে।
সাকিবের মন্তব্য সমর্থন করে স্পিন আক্রমণ দিয়ে ইংল্যান্ডের ২০ উইকেট নেয়ার পরিকল্পনা বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়কেরÑ ‘সাকিবের সঙ্গে আমি একমত যে ফ্ল্যাট উইকেটে ২০ উইকেট নেয়া কঠিন। তাই আমরা এবারের পরিকল্পনা করেছি অন্যরকম। আমাদের  মূল শক্তি স্পিন, উইকেট যদি আমাদের স্পিনারদের সাহায্য করে, আমাদের দলে যেসব কোয়ালিটি বোলার আছে,তারা  ২০টি উইকেট নিতে পারবে।’ যে পীচে ৫শ’ স্কোরকে মামুলি মনে হতো, সেই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিনশ’ স্কোরকেই এখন যথেষ্ট মনে হচ্ছে মুশফিকুরেরÑ‘টপ ফোরে কেউ যদি বড় ইনিংস খেলতে পারে, প্রথম ইনিংসে যদি আমরা তিনশ’র বেশি রান করতে পারি, এটা এটা আমাদের জন্য হবে প্লাস পয়েন্ট।’
সংবাদ সম্মেলন কক্ষে মুশফিকুর যখন মিডিয়ার একটার পর একটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, তখন কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কিউরেট মুচকি হাসি হেসেছেন। হোম এডভানটেজ নিতে টীম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে পীচ তৈরির একটা নির্দেশনা পেয়েছেন, তা মিডিয়াকে আগেভাগে জানিয়ে দিয়ে কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গ করার পক্ষপাতী নন জাহিদ রেজা বাবু। তবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটে প্রথম দিন থেকেই যে ঘুরবে স্পিনারদের বল, সে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন