রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৫ মুহাররম ১৪৪৪

আন্তর্জাতিক সংবাদ

তিগ্রাইয়ের সেনার সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি জনতার

নেতৃত্ব দেবেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

তিগ্রাইয়ের বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইথিওপিয়ার সাধারণ নাগরিকরা। দেশ রক্ষার সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। তিগ্রাইয়ের বিদ্রোহী বাহিনীগুলো রাজধানী আদ্দিস আবাবার কাছাকাছি এগিয়ে আসছে, এমন প্রতিবেদনের মধ্যেই স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবি আহমদের এ বিবৃতি আসে।

বিদ্রোহী বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষার লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিগ্রাই অঞ্চল থেকে বিদ্রোহী বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে এই যুদ্ধ তীব্র থেকে তীব্র হয়ে উঠার প্রেক্ষিতে অনেক দেশ এরই মধ্যে তাদের নাগরিকদের ইথিওপিয়া ছাড়তে বলেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ নিজে যুদ্ধে নেমে পড়ার ঘোষণায় নতুন এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে এই যুদ্ধ। তীব্র হতে থাকা এ গৃহযুদ্ধে ইথিওপিয়ার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে, বিবৃতিতে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরাও। তাদের মধ্যে নারী থেকে শুরু করে বয়স্করাও আছেন। ‘আমি আমার দেশের সেবা করতে যাচ্ছি, আমার ভাইদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে, আমার দেশ এবং আমার পরিবারকে রক্ষা করতে যাচ্ছি,’ বলেছেন মিলিয়ন আব্রাহাম নামে এক যুবক, যিনি আরাদা শহরের একটি বিল্ডিং সাইটে কাজ করেন। ওই শহর থেকে তিনিসহ প্রায় ২০ জন নাগরিক এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

তিগ্রাইয়ের বাহিনীগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুগত বাহিনীগুলোর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ লড়াইয়ে দেশটি একটি মানবিক সঙ্কটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ বাসিন্দা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে। গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নিহত ও ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা বিবৃতিতে আবি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে সামনে থাকবো আমি। যারা ইথিপিয়ার সন্তানদের মধ্যে থাকতে চান, যারা ইতিহাসের কাছে সমাদৃত হবে, আজ আপনাদের দেশের জন্য জেগে উঠুন। আসুন যুদ্ধক্ষেত্রে মিলিত হই।’

কালবিলম্ব না করে মঙ্গলবার ইথিওপিয়া ছাড়তে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে জার্মানি তার নাগরিকদের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, প্রথমে যে ফ্লাইটই পাবেন, তাতে করে ওই দেশ ত্যাগ করুন। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন একই রকম পরামর্শ দিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, ইথিওপিয়ায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্টাফদের পরিবারগুলোকে অস্থায়ী ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক মঙ্গলবার বলেছেন, আমরা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় দৃষ্টি রাখবো। স্টাফদের নিরাপত্তার কথা মনে রাখবো। যেসব মানুষের আমাদের সহায়তা প্রয়োজন হবে তাদের পাশে অব্যাহতভাবে থাকবো।

সম্প্রতি বিদ্রোহী বাহিনী রাজধানী আদ্দিস আবাবা’র দিকে যাত্রা করেছে এবং তারা কিছুদিনের মধ্যে রাজধানী দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন অবস্থায় ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্লাকআউট হয়ে গেছে। সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে কি হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে জানা সম্ভব হচ্ছে না। মঙ্গলবার আদ্দিস আবাবা’র কর্মকর্তারা বলেছেন, তরুণ গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা রাজধানীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আবি সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল। তিনি ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ পর্যন্ত চলা যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আবি ইরিত্রিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে চলা উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করেন। আবির ঘোষণা আসার আগে তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) বাহিনীগুলো জানিয়েছিল, অন্তত চারটি অগ্রবর্তী অবস্থান থেকে তারা আদ্দিস আবাবার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। টিপিএলএফের এই দাবি অস্বীকার করেছে ইথিওপিয়া। আলোচনার মাধ্যমে ইথিওপিয়ার গৃহযুদ্ধ বন্ধের একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। কিন্তু কোনো পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।

টিপিএলএফ প্রায় তিন দশক ধরে ইথিওপিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে, কিন্তু কয়েক বছরের ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ২০১৮ সালে আবি প্রধানমন্ত্রী হলে তাদের প্রভাব কমতে থাকে। ইথিওপিয়ার রাজ্যগুলোর অর্থ ব্যয়ের মধ্য দিয়ে আবি ক্ষমতা সংহত করছেন বলে অভিযোগ তোলার পর টিপিএলএফের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন আবি। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর টিপিএলএফের অনুগত বাহিনীগুলো, যাদের মধ্যে কিছু সৈন্যও রয়েছে, তিগ্রাইয়ে সামরিক ঘাঁটিগুলো দখল করে নিলে দু’পক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। সূত্র : স্কাই নিউজ, বিবিসি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন