মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৪ মাঘ ১৪২৮, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

বিশুদ্ধ নিয়ত : জীবনের সকল কাজ পরিণত হয় নেক আমলে-৩

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

বিখ্যাত মনীষী সাহাবী সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে বলেছেন : তুমি আল্লাহকে রাজিখুশি করার জন্য যে খরচই করবে এর বিনিময় (আল্লাহর তরফ থেকে) পাবে। এমনকি যা কিছু স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তারও। (সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈমান : ৫৬)। কারণ, সব কাজে আল্লাহর রেজামন্দির নিয়ত রাখা ঈমানের এক উঁচু বৈশিষ্ট্য। বিখ্যাত তাবেয়ী যুবাইদ ইবনুল হারিছ আলইয়ামী রাহ. বলেন : আমার কাক্সিক্ষত বিষয় এই যে, সব কিছুতেই আমার ‘নিয়ত’ থাকুক; এমনকি আহার-নিদ্রাতেও। (শুআবুল ঈমান ৫/৩৫০; সিফাতুস সফওয়াহ ৩/৯৯)। বলাবাহুল্য, এ যার জীবনাদর্শ তার সকল দৌড়ঝাঁপ হবে নেক আমল, হয়ে উঠবে সফল ও অর্থপূর্ণ। ইবাদত-বন্দেগিকে সপ্রাণ করুন ঈমানের পর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইবাদত-বন্দেগি।

প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, যিকির-তিলাওয়াত, আদইয়ায়ে মাসনূনা, রমজানের ফরজ রোজা, অন্যান্য সময়ের নফল রোজা, যাকাত-সদাকা, হজ¦-কুরবানি, ইতিকাফ ইত্যাদি ইবাদত আমরা সাধারণত আদায় করি। এটি আমাদের কর্মের এক উল্লেখযোগ্য অংশ। এই ইবাদত-বন্দেগিকে যদি সপ্রাণ করা যায় তাহলে জীবনের এই উল্লেখযোগ্য অংশটি হয়ে উঠবে অর্থপূর্ণ, মহিমাপূর্ণ।

হযরত মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘দুস্তূরে হায়াত’-এ লেখেন- ‘আমরা অনেকেই সহীহ হাদীসে বর্ণিত অযুর দুআ, মসজিদে ঢোকা ও বের হওয়ার দুআ, হাম্মামে যাওয়া, হাম্মাম থেকে বের হওয়ার দুআ, ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার দুআ, সকাল-সন্ধ্যার যিকির, সফরে যাওয়ার ও সফর থেকে ফেরার দুআ নিয়মিত পড়ে থাকি; কিন্তু আশঙ্কা জাগে, এই আমলটিও হয়তো উদাসীনতা ও অমনোযোগিতার সাথে, আধুনিক উপমা দিয়ে বললে, অনেকটা টেপ রেকর্ডারের মতো উচ্চারিত হয়।

অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সা.) এই আমলের যে সওয়াব ও ফযীলত বয়ান করেছেন, আল্লাহর কাছে এর যে গুরুত্ব ও মর্যাদা এবং আখেরাতে এর যে সুফল ও উপকারিতা তার স্মরণ ও আগ্রহ ছাড়াই শুধু মৌখিকভাবে উচ্চারিত হয়ে থাকে। অথচ শরীয়তে আছে ইবাদতের সাথে ইবাদতের সওয়াব ও ফযীলতের স্মরণ ও বিশ্বাসের কথাও। ইসলামের কিছু সর্বজনবিদিত ফরয-ওয়াজিব ইবাদতের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে এই শর্তের উল্লেখ হাদীস শরীফে আছে।

‘সহীহ হাদীসে এই বাণী বর্ণিত হয়েছে : যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতিসমূহের উপর বিশ্বাস রেখে, সওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে রমজানের রোজা রাখে তার পেছনের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী : ৩৮; সহীহ মুসলিম : ৭৬০)। যে (আল্লাহর প্রতিশ্রুতিসমূহের ওপর) বিশ্বাস রেখে এবং ছওয়াবের প্রত্যাশা নিয়ে শবে কদরে ইবাদত করবে তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (সহীহ বুখারী : ১৯০১)।

তো এখানে ‘ঈমান’ ও ‘ইহতিসাব’ অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিশ্রুতিসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও ছওয়াবের প্রত্যাশা- এই দুটো বিষয় স্পষ্টভাবে আছে। কিন্তু আমাদের অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দিকে খুব একটা খেয়াল করেন না। অথচ এর মাধ্যমেই কোনো কাজ অভ্যাসবশত করা আর ইবাদত হিসেবে করার মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। এই বেখেয়ালির কারণে অনেক ইবাদত, এমনকি ইসলামের চার রোকন-সালাত, যাকাত, সওম ও হজ্ব পর্যন্ত পর্যবসিত হয় একটি গতানুগতিক ও প্রাণহীন কর্মে।

‘আম মুসলমানের সাথে সাহাবায়ে কেরাম ও নেককার মুমিনদের পার্থক্যের এক বড় দিক এই স্মরণ ও বিস্মৃতি। অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত এই ফযিলতসমূহের প্রতি তাঁদের থাকে পূর্ণ বিশ্বাস আর হৃদয়ের গভীরে থাকে তা অর্জনের গভীর প্রত্যাশা। ফলে তাদের আমল-ইবাদত সম্পন্ন হয় এই বিশ্বাস ও প্রত্যাশা থেকে এবং এই প্রত্যাশা ও বিশ্বাসের সাথে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Md Younus ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৬ এএম says : 0
ইসলামে যে কোনে কাজে বিশুদ্ধ নিয়তের গুরুত্ব অনেক বেশি।
Total Reply(0)
মামুন রশিদ চৌধুরী ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৬ এএম says : 0
নিয়তে বিশুদ্ধতা না থাকলে ভালো কাজেরও কোনো মূল্য নেই। এমনকি নিয়তে গরমিল থাকার কারণে ভালো কাজ করেও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
Total Reply(0)
Jahidul Islam ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৬ এএম says : 0
হাদিসে কুদসিতে এসেছে বহু নেক আমলধারী জীবনভর ভালো কাজ করা সত্বেও জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপিত হবে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে- নিয়তের গরমিল।
Total Reply(0)
সত্য উন্মোচন ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৭ এএম says : 0
নিয়ত হচ্ছে মনের একান্ত ইচ্ছা বা সংকল্প। মানুষের মনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আর ইসলামে বিশুদ্ধ নিয়ত হচ্ছে- একনিষ্ঠার সঙ্গে শুধু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল বা কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করা।
Total Reply(0)
মোহাম্মদ রমিজ ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৭ এএম says : 0
একজন ঈমানদার ব্যক্তি পৃথিবীতে যে কাজই করে তা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। নিয়তের কারণে পার্থিব কাজও হয় পরকালীন পুরস্কারের কারণ আর পরকালীন প্রতিদানের আমলও হতে পারে নিষ্ফল।
Total Reply(0)
কায়কোবাদ মিলন ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ১:৪৭ এএম says : 0
আল্লাহর জন্য কোনো কাজ করা হলে, আল্লাহ তাআলা বান্দার কর্মের সঙ্গে সঙ্গে অন্তরের বিষয়টিও দেখেন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন