শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৪ ভাদ্র ১৪২৯, ২০ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

দেশ গড়ার অগ্রসেনা হবে সশস্ত্র বাহিনী

বিজয় দিবসে সারাদেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সরকারের নেওয়া প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অগ্রসেনা হিসেবে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২১’ এবং ‘আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২১’ এর গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। রাজধানীর মিরপুর ক্যান্টনমেন্টের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এটুকুই বলবো যে, আমার ৪১ এর যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, তারই অগ্রসেনা হিসেবে আপনারা কাজ করে যাবেন, আমি আশা করি। আর ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ পূর্তি হবে, সেটাও আমাদের মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা গড়ে তুলবো। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগে সদা প্রস্তুত থাকে। তারা বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সম্মুখসারীর যোদ্ধা হিসেবে নানাবিধ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।

কোয়ারেন্টিন সেন্টার ও হাসপাতাল স্থাপন, আটকে পড়া দেশি-বিদেশি লোকজনকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা, গুরুতর রোগী এবং চিকিৎসা-স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসা অর্জন করেছে। তারা দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের বাইরে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শান্তি নিশ্চিতকরণে দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। আমরা সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে গৌরবের স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।

যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত মন্তব্য করে টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, জাতির পিতা সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে। আর ২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেলাম। কাজেই আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এখানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সদা প্রস্তুত।

যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, যে জাতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে সেই জাতি অন্ধকারে পড়ে থাকবে, কোনো উন্নতি হবে না, তাদের জীবন ধারণের উন্নতি হবে না এটা তো হতে পারে না। আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গড়ে তুলতে হবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি ফিরে এসেছিলাম।

সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের প্রশিক্ষিত ও যুগোপোযোগী সামরিক বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ণ করেছি। আর্মস ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে যেন আমাদের সেনাবাহিনী চলতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে আমাদের সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করে। কাজেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের চলতে হয়। কাজেই আধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে সব ধরনের সরঞ্জামাদি সম্পর্কে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সবসময় প্রশিক্ষিত হবে এবং জ্ঞান লাভ করবে সেটাই আমার চেষ্টা। যেন কারো কাছ থেকে আমরা পিছিয়ে না থাকি। আধুনিক ও যুযোপোযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়তে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নকাজের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সরকার সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, বিমান ও হেলিকপ্টারসহ মর্ডান ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, বিভিন্ন আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সরঞ্জামাদি, আকাশে বিধ্বংসী স্বয়ংক্রিয় শোরাড, ভিশোরাড, সর্বাধুনিক অয়েরলিকন এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সংযোজন করেছি। নৌবাহিনীতে অত্যাধুনিক করভেট, ফ্রিগেট, সাবমেরিন ও মেরিটাইম হেলিকপ্টার সংযোজন এবং বিশেষায়িত ফোর্স হিসেবে ‘সোয়াডস’ গঠন করেছি। নতুন নতুন নৌ এবং সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করছি।

তিনি আরও বলেন, বিমানবাহিনীতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করেছি। এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ‘ফরোয়ার্ড এভিয়েশন বেইজ’ ও ‘এয়ার ডিফেন্স নোটিফিকেশন সেন্টার’ নির্মাণ করেছি। আমরা দেশব্যাপী সিএমএইচসমূহকে অত্যাধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরিত করেছি এবং আরও ৫টি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করে দিয়েছি।

এবারে এনডিসি কোর্সে ২৭ জন বিদেশিসহ মোট ৮৮ জন এবং এএফডব্লিউসি কোর্সে মোট ৫৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনী প্রধান, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) কমান্ড্যান্টসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে সারাদেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী
বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের মানুষকে শপথ পড়াবেন। গতকাল সচিবালয়ে একটি বৈঠক শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সাংবাদিকদের এস তথ্য জানান। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা উপ-কমিটির সভা হয়।

কামাল আবদুল নাসের বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ মিলিয়ে আমরা ইতিহাসের অসাধারণ সময় অতিক্রম করছি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান হবে। আগে যে সব অনুষ্ঠান জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে হয়েছিল, ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ বড় আকারে হবে। সেখানে ছয়টি দেশ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক একটা প্যারেড হবে। অনেকগুলো দেশের অংশগ্রহণ থাকবে। বিকেলে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি থেকে ‘মহা বিজয়ের মহা নায়ক’ শিরোনামে ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠান হবে।

তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে সারাদেশে একটি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, সেখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী কী বিষয়ে শপথ পড়াবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।

প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে আলোচনা সভা শুরু হবে। সেখানে ভারতের প্রেসিডেন্ট অংশ নেবেন। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীও এতে অংশ নেবেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিজয় দিবসের ৫০ বছরের পূর্তি হতে যাচ্ছে। সেজন্য মানুষের মধ্যে একটা আগ্রহ রয়েছে। তারা সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন, তারা সবাই অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের যে যেখানে থাকেন তারা এই অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নেবেন, যাতে নিরাপত্তার অভাব অনুভব না করেন। এজন্য আমরা মিটিং করেছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপত্তা উপ-কমিটির পঞ্চম সভাও হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুটি অনুষ্ঠান ঘিরে আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা কী হবে, নিরাপত্তার জন্য কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে- সবকিছু নিয়ে আমরা আলাপ করেছি। সভায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Didar Feni ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৪ এএম says : 0
ইনশাআল্লাহ
Total Reply(0)
Syed Al Mamun ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৭ এএম says : 1
Congrats to all the Honorable graduates & all the distinguished participants of this esteem program ! Joy Bangla !
Total Reply(0)
Haji Mamun Munshi ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৮ এএম says : 0
বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা দোয়া করি ইনশাআল্লাহ আগামী দিন জন্য
Total Reply(0)
Shamim Siddiquee ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৮ এএম says : 1
আলহামদুল্লিলাহা মেহেরবানী করে আল্লাহ যেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নেক হায়াত দান করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে সকল শহীদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা। মেহেরবানী করে আল্লাহ যেন শহীদের কবরকে জান্নাতুল ফেরদৌস মানিয়ে দেন এই কামনা করি । জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।
Total Reply(0)
Ali Ahmed ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৮ এএম says : 1
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রায় আমরা গর্বিত।। জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয়তু শেখ হাসিনা।।
Total Reply(0)
MD Badsha Alame ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৯ এএম says : 0
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানাই ও অনতিবিলম্বে মুক্তি চাই...
Total Reply(0)
আলম আলম ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৯ এএম says : 0
বিজয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা অভিনন্দন
Total Reply(0)
মাছুম ইকবাল ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:০৯ এএম says : 1
বঙ্গবন্ধুর গঠিত আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী বিশ্বের দক্ষ সেনাবাহিনী হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন