বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮, ২৩ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস আজ

আক্তারুজ্জামান বাচ্চুু, সাতক্ষীরা থেকে | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করেন। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মশু জানান, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তানবিরোধী মিছিলে স্বাধীনতাবিরোধীরা গুলি চালায়। শহীদ হন আবদুর রাজ্জাক। সেখান থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার আন্দোলন। মুক্তিযুদ্ধের খরচাদি বহনের জন্য সাতক্ষীরা ট্রেজারি থেকে অস্ত্র লুট আর ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে অলংকার, টাকা পয়সা লুটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম। ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টরের অধীনে ভারতের টাকী, হাকিমপুর, পানিতরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ শেষে ২৭ মে সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় পাকিস্তানি দুই শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। ১৭ ঘণ্টাব্যাপী এ যুদ্ধে শহীদ হন তিনজন মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। এসব যুদ্ধে শহীদ হন ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৩০ নভেম্বর টাইম বোমা দিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীতসন্ত্রস্ত করে ফেলেন পাকিস্তানি সেনাদের। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে পাকিস্তানি সেনারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বেনেরপোতা সেতু উড়িয়ে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোরে সাতক্ষীরায় ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই দিন শত্রুমুক্ত হয় সাতক্ষীরা। গৌরবগাঁথা এই দিনটির কথা মুক্তিকামী সাতক্ষীরাবাসীর স্মৃতিতে আজও অ¤øান। সাবেক কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশু আরো জানান, দীর্ঘ নয় মাস পর ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাতেই পালাতে শুরু করে পাকবাহিনী। ৭ ডিসেম্বর ভোর হতেই মুক্ত হওয়ার সুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে।
এর আগে ১৯ ও ২০ নভেম্বর মুক্ত হয় শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ। আর ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয় কলারোয়া ও দেবহাটা। তিনি বলেন, ১৬টি মুখোমুখি ও খন্ড যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় সাতক্ষীরা।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার কলারোয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফফার বলেন, আট নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন শফিউল্লাহ›র নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি। সাতক্ষীরা শহর মুক্ত হওয়ার আগের দিন ৬ ডিসেম্বর ভোর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে পাকবাহিনী কলারোয়া থেকে পালিয়ে যায়। এই দিনে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামবাসীদের সাথে নিয়ে কলারোয়া সদরে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়াই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন