শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ব্যবসা, যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ জনগণের মধ্যে সংযুক্তি, ব্যবসা, বাণিজ্য এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের উপর মনোনিবেশ করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে কাজ করার জন্য পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বে বিশ্বাস করে চলেছি। একই সঙ্গে এই বর্ষপূর্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং সামনের পথ চলা সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী গতিশীল অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য নিজেদের পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করার জন্য ও এটি একটি উপলক্ষ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল বিষয় এখন জনগণের মধ্যে সংযুক্তি, বাণিজ্য, ব্যবসা ও যোগাযোগে মনোনিবেশ করা দরকার, যা উভয় পক্ষের জন্য পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী মৈত্রী দিবস বা ফ্রেন্ডশিপ ডে উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রচারিত দুই মিনিটের ভিডিও বার্তায় এ সব কথা বলেন।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড এফেয়ার্স (আইসিডাব্লিউউএ) ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতি প্রদান করার প্রেক্ষিতে ভারত-বাংলাদেশ ক‚টনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল নয়াদিল্লীতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার মুহাম্মদ ইমরান এবং আইসিডাব্লিউএ মহাপরিচালক বিজয় ঠাকুর সিং অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের ২৬ থেকে ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাষ্ট্রীয় সফরকালে আমরা ঢাকা ও নয়াদিল্লীর পাশাপাশি নির্ধারিত ১৮টি শহরে যৌথ উদযাপনের বিষয়ে একমত হয়েছি এবং ৬ ডিসেম্বরকে ‘মৈত্রী দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি। বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে গতকাল ঢাকা ও নয়াদিল্লীতে এবং বেলজিয়াম, কানাডা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে বন্ধুত্বের দিন পালন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যাত্রায় এটি একটি মাইলফলক। ভারত ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী যে দুই দেশ এবং দেশের জনগোষ্ঠী একত্রে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও ধারণাকে বাস্তবতায় পরিণত করে চলবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের অংশীদারিত্ব চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যা আমাদের কাজের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করে। আজ, আমাদের বিশাল অংশীদারিত্ব পরিপক্ক হয়েছে, গতিশীল, ব্যাপক এবং কৌশলগত আকার নিয়েছে এবং সার্বভৌমত্ব, সমতা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং অন্যান্য অগণিত অভিন্নতার যৌথ মূল্যবোধে পরিগণিত।

তিনি বলেন, নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক মতবিনিময় ও আদানপ্রদান সা¤প্রতিক বছরগুলোতে আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও শক্তিশালী, বৈচিত্রময় ও প্রসারিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ সত্তে¡ও সমস্ত স্তরে সম্পর্ক স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী রয়েছে। তিনি অভিমত প্রকাশ করেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় আমাদের চমৎকার সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততায় এটি স্পষ্ট ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর এক ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কটি বন্ধুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব আমাদের হৃদয়ে রয়েছে। বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় এবং দীর্ঘস্থায়ী থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং তার সরকার, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সামগ্রিকভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের জনগণের উদারতার কথা স্মরণ করছি। তিনি বলেন, ভারত তখন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদান করেছে, মুজিবনগর সরকারের জন্য জায়গা দিয়েছে এবং বাংলাদেশের পক্ষে কূটনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
Md Rasel Khan ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১২ এএম says : 0
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সর্বপ্রথম বিদেশি আক্রমনের শিকার এই ভারতের দ্বারাই ।
Total Reply(0)
Saifur Rahman Bipul ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৬ এএম says : 0
ভারত কখনও বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ছিলো।ভারত দেশটা নিজেদের সার্থে সব সময় এই দেশকে আগেও ব্যবহার করেছে.এখনও করছে।৭১ সালের যুদ্ধে সহযোগিতার নামে এই দেশ থেকে টাকা,সোনা,পিতল,বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস,অস্ত্র লুট করে এই দেশকে শূণ্য করে দিয়েছে।১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল হোতা ভারত।তারা এই দেশকে মেধাশূণ্য করেদিতে চেয়েছিলো।পাকিস্তানের উপনিবেশ থেকে তারা বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশ বানাতে চেয়েছিলো।
Total Reply(0)
Jamal Mizi ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১১ এএম says : 0
প্রত্যেকটা দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সুসম্পর্ক থাকুক সেই কামনা করি তবে যেহেতু সবার আগে বাংলাদেশকে ভুটান স্বীকৃতি দিয়েছে তাই ভুটানের সাথেও জমকালো একটি অনুষ্ঠান করা হোক
Total Reply(0)
Fuad Fuad ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৪ এএম says : 0
ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে গুলি করে এদেশের মানুষকে পাখির মতো হত্যা করে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী চেয়ে চেয়ে দেখে মৈত্রী সম্পর্ক বজায় রাখে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাঙালি জাতির জন্য এ এক চরম লজ্জার। অশুভ শক্তি পরাজিত হউক। বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চেতনায় গর্জে উঠুক। আল্লাহ বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কেয়ামত পর্যন্ত বজায় রাখুক।
Total Reply(0)
Saifur Rahman Bipul ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৬ এএম says : 0
ভারত কখনও বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ছিলো।ভারত দেশটা নিজেদের সার্থে সব সময় এই দেশকে আগেও ব্যবহার করেছে.এখনও করছে।৭১ সালের যুদ্ধে সহযোগিতার নামে এই দেশ থেকে টাকা,সোনা,পিতল,বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস,অস্ত্র লুট করে এই দেশকে শূণ্য করে দিয়েছে।১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল হোতা ভারত।তারা এই দেশকে মেধাশূণ্য করেদিতে চেয়েছিলো।পাকিস্তানের উপনিবেশ থেকে তারা বাংলাদেশকে ভারতের উপনিবেশ বানাতে চেয়েছিলো।
Total Reply(0)
Abu Hanif ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১:১৮ এএম says : 0
দাদাগীরি কারনে, বর্তমান মোদি সরকার প্রতিবেশি কে ন্যায্য সন্মান না দেওয়া, শুধু নেওয়ার মনোভাব দেওয়ার বেলাই টালবাহানা, বর্তমানে সবচেয়ে বড় কারণ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জাতীয়তার ধোয়া তুলে মুসলমান বিতাড়ন ও নির্যাতন, যাহা পুর্ববর্তী কংগ্রেস সরকার তথা ইন্দ্রীরা গান্ধী, সোনিয়া, মনমোহন সরকারের আমলে ছিল না তখন বন্ধুত্ব ঘাঢ় ছিল।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন