শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রফতানিকারকরা আর্থিক ক্ষতি ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হবে

সুতা ও কাপড়ের অপচয় হার প্রত্যাখ্যান ষ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বিকেএমইএ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

নিট গার্মেন্টসে সুতা থেকে কাপড় তৈরি এবং কাপড় থেকে পোশাক তৈরিতে অপচয় হার (ওয়েস্টেজ রেট) পুনঃনির্ধারণ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচার এন্ড এক্সপোর্ট অ্যাশোসিয়েসনের (বিকেএমইএ)। গতকাল সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই হার না বাড়ালে রফতানিকারকদের আর্থিক ক্ষতি ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এতে রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হবে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

দীর্ঘদিন ধরে অপচয় সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানানোর প্রেক্ষাপটে ১৯৯৮ সালে সব ক্ষেত্রেই ১৬ শতাংশ অপচয় সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এরপর সময়ের চাহিদার প্রেক্ষাপটে উৎপাদনের ধরন এবং মানের তারতম্যে সম্পূর্ণ, বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের ও মানের নীটওয়্যার সামগ্রী উৎপাদনে ব্যবহৃত সুতা ও কাপড়ে অপচয়ের মাত্রা সর্বনি¤œ ৩৮ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ হয়ে থাকে উল্লেখ করে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল। পরে প্রকৃত অপচয় হার বের করার জন্য রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ২০টি কোম্পানির কাছে অপচয় হার জানতে চেয়ে চিঠি দিলে দুটি কোম্পানি তার জবাব দেয়। ৪০ শতাংশের বেশি অপচয় হয় বলে তারা জানায়।

এরপর প্রকৃত অপচয় হার কত-তা যাচাই করতে একটি কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই কমিটি বেসিক নিটওয়্যার, স্পেশালাইজড আইটেম এবং সোয়েটার ও মোজা উৎপাদন করে এমন দুটি করে মোট ছয়টি কারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। সুতা থেকে তৈরি পোশাক উৎপাদন পর্যন্ত কারখানায় ব্যবহৃত প্রযুক্তির ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন হারে অপচয় হয়ে থাকে। একই ধরণের কারখানায় অপচয় হার গড় করে তারা সর্বোচ্চ অপচয় রেট নির্ধারণের সুপারিশ করে। ওই সুপারিশের আলোকেই বেসিক নীট আইটেমের জন্য ২৭ শতাংশ, স্পেশাল আইটেমের জন্য ৩০ শতাংশ এবং সুয়েটার ও মোজার ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ অপচয় সুবিধা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

তবে এই হার যথেষ্ঠ নয় উল্লেখ করে নীট আইটেমের উৎপাদনে ডাইং ও ফিনিশিংয়ের অপচয় হার সর্বনি¤œ ১২ শতাংশ হওয়া উচিত বলে মনে করে বিকেএমইএ। তবে জারীকৃত আদেশে এই হার ৯ শতাংশ। তাই ডাইং ও ফিনিশিংয়ের অপচয়ের হার ১২ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে বেসিক আইটেমের অপচয়ের হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করার দাবি সংগঠনটির। যার মধ্যে নীটিং ও ডাইং ১৩ শতাংশ এবং কাটিং থেকে শিপমেন্ট ১৭ শতাংশ।

অন্যদিকে স্পেশাল আইটেমে এই হার ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৪ শতাংশ করার দাবি সংগঠনটির। স্পেশাল আইটেমে অপচয়ের হার ৩৫ চান তারা। যার মধ্যে নীটিং ও ডাইং ১৬ শতাংশ এবং কাটিং থেকে শিপমেন্ট ১৯ শতাংশ। সুয়েটার কারখানা পরিদর্শন না করে অপচয়ের হার ৪ শতাংশ নির্ধারণকে অযৌক্তিক মনে করে বিকেএমইএ। সেই সঙ্গে সুয়েটার উৎপাদনে অপচয়ের হার ১২ শতাংশেরও বেশি হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

তৈরি পোশাকের রফতানির ধারা গতিশীল রাখতে প্রস্তাবনাসমূহ বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে সংশোধিত আদেশ জারী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায় বিকেএমইএ।

উল্লেখ্য, অপচয় সুবিধা বাড়লে রফতানিকারকরা এখন একই পরিমাণ তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে বিনা শুল্কে দেশ-বিদেশ থেকে এখনকার চেয়ে বেশি পরিমাণ সুতা ও ফ্যাব্রিক আমদানি করতে পারবে। কোনো কোম্পানির অপচয় নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হলে, তা খোলাবাজারে বিক্রি করে পোশাক কারখানা মালিক লাভবান হলেও দেশীয় সুতা ও ফ্যাব্রিক উৎপাদক কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে, প্রকৃত অপচয় হারের তুলনায় সরকার নির্ধারিত হার কম হলে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের বাড়তি যে পরিমাণ অপচয় হয়, তা খোলা বাজারে বিক্রি হয়েছে কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত কাঁচামাল অপচয় হয়েছে বলে ধরে নেয় কাস্টমস অডিট ডিপার্টমেন্ট। তখন বাড়তি অপচয় হওয়া কাঁচামালের ওপর সরকার নির্ধারিত শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps