বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের ঘোষণা

পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা ও সুযোগ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

সব কাগজপত্র, আর্থিক হিসাব ঠিক থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে ‘কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা ও সুযোগ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত ডিএসই টাওয়ারে গত মঙ্গলবার রাতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ডেফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, আব্দুল মোমেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মাঈনুদ্দিন মোনেম, র‌্যাঙ্কস গ্রুপের পরিচালক রোমানা রউফ চৌধুরী, বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং ডিএসই’র পরিচালক মো. শাকিল রিজভী। সভায় শিল্পোদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আইপিও অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু ব্যাংক থেকে দ্রুত টাকা পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক উদ্যোক্তা মূলধন বা অর্থ সংগ্রহের জন্য শেয়ারবাজারের বদলে ব্যাংককে বেছে নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ব্যারোমিটার হলো পুঁজিবাজার। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পুঁজিবাজার কার্যকর ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দেশকে দ্রুত শিল্পায়িত করা যায়, আর এই শিল্পায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মূলধারার অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে টেকসই উন্নয়নে অবদান নিশ্চিত করা যায়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে আমাদের দেশে বিপুল সংখ্যক গ্রুপ অব কোম্পানিজ রয়েছে। সম্ভাবনাময় এই প্রতিষ্ঠানসমূহ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। এসব গ্রুপ অব কোম্পানিজ কর্মসংস্থান, রফতানি প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করছে।

উদ্যোক্তাদের এমন অভিযোগের উত্তরে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, আইপিওর জন্য কী কী ধরনের কাগজপত্র লাগে, তার একটি চেকলিস্ট আছে। তারপরও দেখা যায় অনেক কোম্পানির আইপিও আবেদনে সব কাগজপত্র থাকে না। আবার আর্থিক যে হিসাব দেয়া হয়, সেখানেও নানা ধরনের সমস্যা থাকে। তখন নতুন করে কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এসব বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ বা ব্যাখ্যা তলব করতে হয়। এতে অনেক সময় লেগে যায়। কিন্তু কোম্পানিগুলো যদি একবারে সব কাগজপত্র ও আর্থিক হিসাব সঠিকভাবে দেয়, তাহলে আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দিয়ে দেব।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নির্দেশনা হলো নিয়ম-নীতির মধ্যে ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা প্রদান করা।

শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বলেন, বিএসইসি’র কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং এর প্রত্যেকটি ডেস্কই হলো হেল্প ডেস্ক। উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য আমরা প্রস্তুত। গত ১ বছরে বিএসইসি সর্বোচ্চ সংখ্যক ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড ও আইপিও অনুমোদন দিয়েছে। অনেকে সমালোচনা করেন, অনেক আইপিও অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও শেয়ারবাজার ওভার ভ্যালুড হচ্ছে। একইসঙ্গে সূচক বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার অনেক পিছিয়ে আছে। সব কিছুতেই আমরা হীনমন্যতা বোধ করি। দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিবাজারকে আমরা যদি এগিয়ে নিতে না পারি, তাহলে এই দেশের উন্নতি হবে না। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহের জায়গা। আর ব্যাংক হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ঋণের জায়গা। ব্যাংকে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য এফডিআর রাখে। ব্যাংক প্রতিষ্ঠানকে ১৫ বছরের ঋণ দেয়। গ্রাহক যদি প্রয়োজনে টাকা তুলতে আসলে ব্যাংক তারল্য সমস্যায় পড়ে। এছাড়া পৃথিবীতে কম ব্যক্তিই আছে যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিশোধ করতে পারে। আমরা শেয়ার বাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। শেয়ারবাজারকে অর্থ যোগানের নির্ভরযোগ্য উৎসে রূপান্তর করতে চাই। দীর্ঘমেয়াদি অর্থ যোগানের জন্য আমরা শেয়ারবাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে আসছি।

সভায় আবদুল মোনেম লিমিটেড, র‌্যাংগ্স গ্রুপ, উত্তরা গ্রুপ, কৃষিবিদ গ্রুপ, এ কে খান গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, ড্যাফোডিল ফ্যামিলিসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর মালিক ও শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ডিএসইর সভাপতি ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএসইসি’র কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীসহ বেশ কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা।

অনুষ্ঠানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে কোম্পানিগুলো কী কী ধরনের সুবিধা পায় এবং কোম্পানি কতভাবে লাভবান হতে পারে এ-সংক্রান্ত উপস্থাপন দেন ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মজুমদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক আমিন ভ‚ইয়া বলেন, ২০২০ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার পরিবর্তিত হচ্ছে। এ সময়ে পুঁজিবাজারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ডিএসইতে ও ভালো কিছুর জন্য পরিবর্তন হচ্ছে। যে ‘৫ পি’ এর উপর ডিএসই তার ডিজিটাল পরিবর্তন আনয়নে কাজ করবে তাহলো- পিপল, প্লাটফর্ম, প্রোডাক্ট, প্রসেস এবং পলিসি। এ ৫পি-এর সঠিক সম্মিলন এবং সমন্বিত বাস্তবায়নে শেয়ারহোল্ডারদের লাভবান করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

ডিএসই’র চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে প্রায় ২ লাখেরও বেশি কোম্পানি নিবন্ধিত। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোম্পানি আয়কর দেয়। পক্ষান্তরে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত আছে মাত্র ৩৪৭টি কোম্পানি। আমরা দেশের বাইরে কয়েকটি রোড শো করেছি, যাতে বিদেশি কোম্পানিগুলো দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। আমাদের দেশে অনেক বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানিজ আছে। পুঁজিবাজারে কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হলে কি কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তা আরও বিশদভাবে শিল্পদ্যোক্তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনে টিম গঠন করে এ ধরনের সভা সেমিনার অব্যাহত রাখব।

উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির সরবরাহ বাড়াতে শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহী করে তুলতেই মূলত এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন