ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পৃথিবীজুড়ে ৮০ শতাংশ নারী সংসদ সদস্যরা মানসিক ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে

আইপিইউ-এর রিপোর্ট

প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান বাংলাদেশের
স্টাফ রিপোর্টার ঃ পৃথিবীজুড়ে নারী সংসদ সদস্যরা ব্যাপক হারে যৌন হয়রানি এমনকি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-আইপিইউর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) অ্যাসেম্বলিতে প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের ৫টি অঞ্চলের ৩৯টি দেশের ৫৫ জন সংসদ সদস্যের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। তাদের ৮০ শতাংশ মানসিক ও যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬৫.৫ শতাংশ নারীই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক নারী সদস্য টুইটে ৪ দিনে তাকে ধর্ষণ করার ৫০০ বারেরও বেশি হুমকি পান বলে জানান। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ)কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট, সরকার এবং বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।
আইপিইউকে মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধের উপায় বের করতে বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট নিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি দাবি উখাপন করেন ডেপুটি স্পিকার। গতকাল বুধবার সংসদ থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। এমন এক সময় আইপিইউর-এ প্রতিবেদন বের হয়েছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটনকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছেন। আর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাধিক নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। নারী সংসদ সদস্যদের ওপর যৌন নির্যাতন, শারীরিক হামলা, হুমকিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুখ খোলার আহ্বান জানাচ্ছে সংসদ সদস্যদের আন্তর্জাতিক সংগঠন।
আইপিইউ মহাসচিব মার্টিন চুংগং বলেছেন, এটি কিছুসংখ্যক নারী এমপিকে নিয়ে করা একটি জরিপ হলেও, এটা পরিষ্কার যে এই সমস্যা আরও অনেক বিস্তৃত এবং আমরা যা ধারণা করি তার চেয়েও বেশি ঘটনা খবরের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পার্লামেন্টারি কমিউনিটিকে বৈষম্য এবং হযরানির বিরুদ্ধে আরো বেশি মুখ খুলতে হবে এবং রাজনীতিতে নারীদের স¤পৃক্ততার মূল্য হিসেবে এটা যে কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে নাÑ সেটি খোলাসা করতে হবে।
গবেষণায় অংশ নেয়া এমপিদের ৮১ শতাংশের বেশি কোনো না কোনোভাবে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
৪৪ শতাংশ বলেছেন মৃত্যুর হুমকি যেমন পেয়েছেন, তেমনি ধর্ষণ, মারধোর কিংবা অপহরণের হুমকিও পেয়েছেন। এমনি সন্তানদের হত্যা কিংবা অপহরণের হুমকিও এসেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে তাদের দিক থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ এখনও শোনা যায়নি।
ইউরোপীয় একজন এমপি জানান, সামাজিক মাধ্যম মানসিক হেন্স্থার একটি বড় ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, একবার আমাকে টুইটারে টানা চার দিন ধরে ৫শ’রও বেশি ধর্ষণের হুমকি দেয়া হয়েছে।
এশিয়া অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্য তার অভিজ্ঞতায় বলেন, আমাকে আমার ছেলের ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য যেমন তার বয়স, তার স্কুল, সে কোন শ্রেণিতে পড়ছে ইত্যাদি লিখে তাকে অপহরণের হুমকি দেয়া হয়।
যৌন নির্যাতনকে তারা বর্ণনা করেছেন অনেকটা ‘সাধারণ চর্চা’ হিসেবে। ২০ শতাংশ নারী এমপি তাদের সাথে যৌন নির্যাতন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং তার সাত ভাগের বেশি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও জানান।
শারীরিক নির্যাতনের কারণে আহত হওয়ার কথাও এসেছে। সংসদে নারী সদস্যদের ওপর পুরুষ এমপিদের মুরব্বিয়ানা দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্যই বলছেন, নারী সদস্যরা উচ্চস্বরে কথা বললে যেভাবে মুখে আঙুল দিয়ে থামতে ইঙ্গিত দেয়া হয় পুরুষদের বেলায় তেমনটি কখনও হয় না।
নারীর প্রতি বৈষম্যের বিষয়টিও উঠে আসে সমানভাবে। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৬৫ শতাংশের বেশি নারীকে তাদের বিভিন্ন সময় অবমাননাকর মন্তব্য শুনতে হয়েছে। নারী এমপিদের বক্তব্যে যেসব বিষয়ে উঠে এসেছে তার বিষয়ে পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দেশের সংসদদের প্রতি আহ্বান জানিযছে আইপিইউ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন