বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্ত ও ১১টি ড্রেজার উদ্বোধন করবেন আজ

প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল উন্মুক্ত এবং ১১টি ড্রেজার’এর শুভ উদ্বোধন করবেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান গণভবনে এবং সচিব অশোক মাধব রায় ও বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বাগেরহাট প্রান্তে উপস্থিত থাকবেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোংলা-ঘোষিয়াখালী নৌ-পথের দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৬ কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ড্রেজার দ্বারা ১৮১ দশমিক ৮০ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। ড্রেজিংকৃত অংশে পলি ভরাটের কারণে সংরক্ষণ খননের আওতায় সর্বমোট ৬২ দশমিক ১২ লক্ষ ঘনমিটার পুনঃখনন করা হয়েছে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ’র ৩টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫টি ড্রেজার অর্থাৎ সর্বমোট ০৮টি ড্রেজার সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
জানা গেছে, নৌ-পথটি চালুর ফলে ৮১ কিলোমিটার দূরত্ব কমেছে। এছাড়া মংলা-ঘষিয়াখালীর রমজানপুর এলাকায় একটি লুপকাট করায় আরোও ৫ (পাঁচ) কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়ে মোট ৮৬ কিলোমিটার দূরত্ব হ্রাস পেয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র নবনির্মিত ৮টিসহ মোট ১২টি ড্রেজার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬টি ড্রেজার ২০১৪ সালের জুনে নিয়োগ করে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথটি পুনঃখনন শুরু করা হয়। নৌ-পথটি পুনঃখনন করার পর ২০১৫ সালের মে মাস হতে পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেয়া হয় এবং ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন গভীরতায় মোট ৩৫,০১৫টি জাহাজ এ নৌ-পথে চলাচল করেছে। নৌ-পথটি ১৩-১৪ ফুট গভীরতায় ও ২০০-৩০০ ফুট প্রশস্ততা বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক ২০১৩-১৪ সালের পূর্বে মাত্র ১০টি ড্রেজার দ্বারা সারাদেশের নাব্যতা সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনাতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দু’টি প্রকল্পের অধীনে দেশীয় ড্রেজার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, ভোস্তা এলএমজি-কর্ণফুলী জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড এবং আনন্দ শিপইয়ার্ডস লিমিটেড কর্তৃক দ্বিতীয় দফায় মোট ১১টি ড্রেজার নির্মাণ করা হয়। আগামীকাল সেগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও সরকারের বর্তমান মেয়াদে আরো ২০টি ড্রেজার নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মংলা সাইলো উদ্বোধন আজ
মনিরুল ইসলাম দুলু মংলা থেকে জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে দেশের ২য় সর্ববৃহৎ অত্যাধুনিক খাদ্য গুদাম মংলা সাইলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন ৫০ হাজার মে. টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ সাইলোটি। কীটনাশক ছাড়াই পাঁচ বছর খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখতেই নির্মাণ করা হয় আধুনিকমানের এ সাইলো। পাশাপাশি উপকূলের ১৯ জেলার খাদ্য নিরাপত্তাও দেবে ৫শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সাইলোটি। ৪০ মিটার উচ্চতার ৩০টি সাইলো বিন ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য ১২৫ মিটার এক্সেজ ব্রিজের সাথে ২৫০ মিটার দীর্ঘ জেটি টারমিনালের ফলে কর্মচাঞ্চল্যে হয়ে উঠবে মংলা বন্দর। একই সাথে এ সাইলোর গুণগত মান দেখে আরো কয়েকটি সাইলো নির্মাণে সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক, এমটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন এর প্রজেক্ট ম্যানেজার একরামুল হক জানান, সাইলোর শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এই কাজে ভিয়েতনামি, জার্মানি, বেলজিয়াম এর টেকনেশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়াররা সহায়তা করেছে এবং তারা নিজের হাতে কাজও করেছে। উচ্চমানসম্পন্ন প্রযুক্তিও স্থাপন করা হয়েছে এখানে।
মংলা সাইলো প্রকল্পের সাইলো সুপার এফ এম মিজানুর রহমান জানান, আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করবেন এই সাইলো। এই সাইলো দেশের ২য় বৃহত্তর খাদ্য গুদাম ।
জানা গেছে, এই সাইলোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো আনুষঙ্গিক সকল সুবিধাসহ সবুজে ঘেরা সুন্দরবন ঘেঁষে মংলা বন্দরের জয়মনিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ক্যাপাসিটি’র সাইলো নির্মাণ। এর মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খাদ্যশস্য বিতরণের সুবিধা সৃষ্টি, আমদানি করা খাদ্যশস্য বিষক্রিয়া ছাড়া মজুদ ও দ্রুততম সময়ে খালাস, মংলা বন্দরে খাদ্যশস্যের সংকট কমিয়ে আনা এবং সিডর, আইলা ও সাইক্লোনপ্রবণ এলাকায় দ্রুততম সময়ে খাদ্য সরবরাহ করা।
সূত্রে জানা গেছে, ‘কনস্ট্রাকশন অব এ কনক্রিট গ্রেইন সাইলো অ্যাট মংলা পোর্ট উইথ অ্যানসিলিয়ারি ফ্যাসিলিটিজ’ শীর্ষক ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ সাইলো নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ মেয়াদে মূল অনুমোদিত প্রকল্পের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরপর ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ওই সময়েও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ছয়মাস বাড়ানো হয়েছিল।
পর এ প্রকল্পের মেয়াদ আবারও দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পযর্ন্ত নির্ধারণ করা হয়। এসময় শুধু মেয়াদই বাড়ানো হয়নি মূল প্রকল্প থেকে অতিরিক্ত ৩৩৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা বাড়ানো হয় এর ফলে ১৯৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্পের ব্যয় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৫৩৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকায়।
স্থানীয়রা জানান, এই সাইলো করার সময় অনিয়ম ও নি¤œমান হওয়ার কারণে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড. মিজানুর রহমান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কয়েকবার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কাজ নিয়ে পত্রিকার পাতায় বহু সমালোচনা করা হলেও শেষ পযর্ন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের এই কাজ বিনা বাধায় সম্পন্ন করেন। যা আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও একই সময় আজ প্রধানমন্ত্রী মংলা-ঘাসিয়াখালী নৌরুটেরও আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন করবেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন