বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সংলাপে অংশ নেবে না ইসলামী আন্দোলন ও গণফোরাম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সাথে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপে অংশ নিচ্ছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণফোরামের একাংশ। গতকাল এ দুটি দল পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে বিএনপি এবং বাসদও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের একাংশের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দল বিএনপি এই সংলাপকে ‘অর্থহীন’ উল্লেখ করে তাতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। গণফোরামের একাংশের নির্বাহী পরিষদের সভায়ও সংলাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তের বিষয়টিও গণফোরামের অন্য অংশের নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠিতে জানানো হয়েছে। একই সাথে ড. কামাল হোসেনকে সংলাপে অংশ না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মহসিন রশিদ প্রমুখ।

অন্যদিকে গতকাল দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ আইবিএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর চরমোনাই’র পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। সেই সাথে দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ দলটি অংশ নিবে কী-না তা’ পর্যালোচনা করার কথাও বলেন তিনি।

চরমোনাই’র পীর সাহেব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১২ ও ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্টের সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু তিক্ত সত্য হলো আমরা চরমভাবে হতাশ হয়েছি। ২০১২ এর সংলাপে গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০১৪ সালে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে একতরফা নির্বাচন এর আয়োজন করেছে। যেখানে ১৫৩ জন এমপিকে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় বিজয়ী দেখানো হয়েছে। আর ২০১৭ এর সংলাপের পর গঠিত কমিশন ১০১৮ সালে একটি চরম বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করেছে। যা’ অনেকেই মধ্যরাতের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। এই দুই জাতীয় নির্বাচন এতটাই বিতর্কিত ও জালিয়াতিতে পূর্ণ যে, তা জাতি হিসেবে আমাদেরকে চরম হতাশ, বিব্রত ও লজ্জিত করেছে। এই ইসির নিয়োগকর্তা প্রেসিডেন্টর এসব কলঙ্কময় নির্বাচনের দায়ে তারই গঠিত কমিশনকে কোনো রকম জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি; কোন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে প্রেসিডেন্টের সাথে পূর্বের সংলাপকে আমাদের কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া অতীতের দুটি সংলাপে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে প্রেসিডেন্টের কাছে আমাদের গঠনমূলক প্রস্তাবগুলোর কোনটাই মূল্যায়ন করা হয়নি। যে দল তাঁকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে, তিনি সেই দলীয় স্বার্থের বাইরে যেতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, খন্দকার গোলাম মাওলা, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, দলীয় মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, দলের মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, দক্ষিণের সভাপতি প্রিন্সিপাল ফজলে বারি মাসউদ, কাজল মাষ্টার, মাওলানা আহম্মদ আব্দুল কাইয়ূম, ঢাকা সিটির সাবেক মেয়র প্রার্থী আলহাজ আব্দুর রহমান, কেএ আতিকুর রহমান, মাওলানা খলিলুর রহমান, জিএম রুহুল আমিন, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা নেছার উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান শেখ। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সংলাপ নিয়ে দেশের চিন্তাশীল মহল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে আমরা কোনো আগ্রহই দেখতে পাচ্ছি না। বরং জনগণ মনে করছেন, প্রেসিডেন্টের চলমান সংলাপে ফলপ্রুসূ কিছু হবে না। অতীতের দুটি সংলাপ যেমন জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, চলমান সংলাপেও এর ব্যতিক্রম কিছু হবে বলে জনগণ মনে করে না। প্রেসিডেন্টের সংলাপে অংশ না নিলেও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবেন কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন