মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ভারতের সঙ্গে ‘শান্তি’ চায় পাকিস্তান

নতুন নিরাপত্তা নীতি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

প্রতিবেশীদের সাথে শান্তি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হবে। দেশটির নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে যা আগামীকাল শুক্রবার ঘোষিত হবে।

১০০ পৃষ্ঠার ওই নীতিতে দীর্ঘস্থায়ী কাশ্মীর বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ছাড়াই ভারতের সাথে বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে, যদি দুই পারমাণবিক সশস্ত্র প্রতিবেশীর মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়। গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী ১০০ বছরের জন্য ভারতের সাথে শত্রুতা চাই না। নতুন নীতিটি অবিলম্বে প্রতিবেশীদের সাথে শান্তি চায়। যদি এতে অগ্রগতি হয় তবে ভারতের সাথে বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা থাকবে, যেমনটি অতীতে ছিল।’

২০১৯ সালের আগস্টে অধিকৃত কাশ্মীর ভূখণ্ডের বিশেষ মর্যাদা বিতর্কিতভাবে প্রত্যাহার করার পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্থবির হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান, ভারতের পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়েছে এবং ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে, একটি অগ্রগতির কিছু আশা ছিল যখন উভয় পক্ষ নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর যুদ্ধবিরতি সমঝোতা পুনরুদ্ধার করতে সম্মত হয়েছিল কিন্তু প্রক্রিয়াটির আর কোন অগ্রগতি হয়নি।

যেহেতু নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতি ভূ-কৌশলগত থেকে ভূ-অর্থনীতিতে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চায়, সেহেতু ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি নতুন আশাবাদ রয়েছে। ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নতুন জাতীয় নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হবে,’ কর্মকর্তা প্রকাশ করেছেন। একইভাবে, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবেশীদের সাথে শান্তি দেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় বিষয় হবে। ‘তবে ভূ-অর্থনীতির অর্থ এ নয় যে, আমরা আমাদের ভূ-কৌশলগত এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে উপেক্ষা করি,’ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সাথে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা কাশ্মীর বিরোধকে পাকিস্তানের জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নীতি’ সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কর্মকর্তা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, নয়াদিল্লিতে বর্তমান মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ভারতের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন নীতি আগামীকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করবেন। তার মতে, এটি হবে প্রথম-সংহিতাবদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তা নীতি যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই কভার করবে। ‘কেবলমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা নীতির একটি অংশ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে’, কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, বাকি বিশ্বে এ জাতীয় নীতিগুলি প্রায়শই গোপন রাখা হয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতি রয়েছে, নতুন নীতি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা প্রদানকারী একটি ‘দলিল’ হিসেবে কাজ করবে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের সময় এ নীতি তৈরি করতে সাত বছর সময় লেগেছিল। ‘সকল ফেডারেল, প্রাদেশিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামরিক এবং অন্যান্য বিভাগ থেকে মতামত নেয়া হয়েছিল বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নতুন নীতিতে জঙ্গি ও ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীর ইস্যু নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে এবং ‘মিলনযোগ্য উপাদান’-এর সাথে সংলাপের পক্ষে কথা বলা হয়েছে। একইভাবে, নীতিটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক অভিব্যক্তি’কে সমাজের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে, নতুন নীতিতে জনসংখ্যা/অভিবাসন, স্বাস্থ্য, আবহাওয়া এবং পানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং লিঙ্গ মূলধারার অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি মূল ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সূত্র : ট্রিবিউন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন