বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯, ১১ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

পুষ্টির চাহিদা মেটায় শজনেপাতার গুঁড়া

বিসিএসআইআরের গবেষণা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৮ এএম

শজনেগাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা। এর ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আর পাতা খাওয়া হয় নানাভাবে। কেউ খায় ভর্তা, কেউ খায় বড়া বানিয়ে আবার কেউ খায় শাক হিসেবে। এবার এই শজনেপাতার পুষ্টিকর গুঁড়া তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, শজনেপাতার গুঁড়া পুষ্টির আধার। এতে ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, প্রোটিন, জিংকসহ অসংখ্য উপকারী উপাদান আছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়বেটিস, হৃদ্রোগ নিয়ন্ত্রণে এবং কিডনি, যকৃৎ ভালো রাখতে শজনেপাতা বেশ উপকারী। বিসিএসআইআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রকিবুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেবব্রত কর্মকার গবেষণাটি করেন। গবেষণাটি প্রবন্ধ আকারে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। আরও একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে এটি প্রকাশের অপেক্ষায়।
ইতিমধ্যেই শজনেপাতা গুঁড়া করার পদ্ধতি লিজ নিয়েছে দেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ইনস্ট্যান্ট ড্রিংক পাউডার ও ট্যাবলেট আকারে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। চলতি বছরেই শজনেপাতার গুঁড়া বাজারে পাওয়ার কথা রয়েছে।
শজনেপাতা প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা জানান, তাঁদের পদ্ধতিতে উৎপাদিত শজনেপাতার গুঁড়াতে ২৭ শতাংশ প্রোটিন, ৩৮ শতাংশ শর্করা, ১৯ শতাংশ ফাইবারের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ২ শতাংশ চর্বি, ৯ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন (প্রতি ১০০ গ্রামে ৫০ হাজার ২৬৯ মাইক্রোগ্রাম) পাওয়া যায়। বিটা ক্যারোটিন হচ্ছে একধরনের রঞ্জক পদার্থ, যা শাকসবজিতে উপস্থিত থেকে লাল, হলুদ ও কমলা রং দেয়। মানবদেহে এটিকে রেটিনলে (ভিটামিন এ) রূপান্তরিত করে।
দৈনিক এক চামচ শজনেপাতার গুঁড়া খেলেই দৈনন্দিন ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হয়। তিন বছর আগে বিসিএসআইআরের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট অব ট্রান্সফার অ্যান্ড ইনোভেশনের (আইটিটিআই) বিজ্ঞানীরা শজনেপাতা নিয়ে কাজ শুরু করেন। কীভাবে এ পাতা থেকে পুষ্টিকর গুঁড়া বানানো যায়, সে জন্য গবেষণাটি চলতে থাকে। ২০২০ গবেষণাটি শেষ হয়। গত বছরের ২৪ জানুয়ারি গুঁড়া বানানোর প্রক্রিয়াটি বিসিএসআইআর কর্তৃক গৃহীত হয়। মার্চে এ গবেষণার ফলাফল নিয়ে হিনদওয়াই পিয়ার রিভিউ সাময়িকী ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড সায়েন্সে পাঠানো হয়। গবেষণাটি প্রবন্ধ আকারে গত বছর প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, শজনের প্রতি ১০০ গ্রামের কাঁচা পাতায় প্রোটিনের পরিমাণ থাকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। আর একই পরিমাণ শুকনা পাতার গুঁড়াতে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে হয় ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। একইভাবে প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা শজনেপাতায় কার্বোহাইড্রেট থাকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা তিন গুণ বাড়ে এবং ফাইবার থাকে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যা বাড়ে ২১ গুণ।
গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী বিসিএসআইআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হওয়া গুঁড়াতে কাঁচা পাতার প্রায় সব গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে। সঠিকভাবে মোড়কজাত ও সংরক্ষণ করা হলে এই শজনে গুঁড়া ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। শক্তিবর্ধক বলে স্পিরুলিনার বিকল্প হিসেবে শজনেগুঁড়াকে ভাবা হচ্ছে। গবেষণাটি আরও একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, শজনে খুব দামি, তবে এ দেশে এটি অবহেলিত উদ্ভিদ। যেকোনো মাটিতে এটি ফলে। প্রোটিন, আমিষ, কার্বোহাইড্রেটসহ অসংখ্য পুষ্টিগুণের বিবেচনায় এ পাতা থেকে গুঁড়া বানানোর উদ্যোগটি নেওয়া হয়। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এটি লিজ নিয়ে উৎপাদন করতে পারে। তাতে মানুষের পুষ্টিও নিশ্চিত হবে। আবার ব্যবসাও হবে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন