বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

‘বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার’ নির্দেশ ইমরান খানের

আফগান মানবিক সঙ্কট এড়ানোর উদ্যোগ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

পাকিস্তান শুক্রবার আফগানিস্তানে সহায়তা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় এবং ত্রাণ সংস্থার কাছে তার আবেদন পনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যোগ্য এবং বিশেষ করে চিকিৎসা, আইটি, ফিন্যান্স এবং অ্যাকাউন্টিং-এর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানি করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে মানবিক সঙ্কট এড়াতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অন্বেষণ’ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে বলেছে, তিনি আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সাহায্য করার জন্য রেলওয়ে, খনিজ, ওষুধ এবং মিডিয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশনাও জারি করেছেন।
আফগানিস্তানের শীর্ষ কমিটির তৃতীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান মানবিক সঙ্কট এড়াতে আফগান জনগণকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ’।

অধিকন্তু, পিএমও বলেছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান আফগানিস্তানের জন্য জাতিসংঘের সাহায্যের আবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন, কারণ কমিটি এই ‘সঙ্কটজনক মোড়কে বিশ্ব স¤প্রদায়ের হাতে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটিকে অর্থনৈতিক পতন এবং মূল্যবান জীবন বাঁচাতে সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে’।
জাতিসংঘ আফগানিস্তানে সহায়তা প্রদানের জন্য বিশ্ব স¤প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং গত বছরের আগস্টে তালেবানের দখলদারিত্বের পর অর্থনৈতিক পতনের পর একটি মানবিক সঙ্কটের উদ্ধৃতি দিয়ে আফগানিস্তানের সম্পদ খারিজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, গত সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘ এবং অংশীদাররা আফগানিস্তানের জন্য তাদের সর্ববৃহৎ দেশ-নির্দিষ্ট আবেদন শুরু করেছে এবং গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জীবন বাঁচাতে আফগানিস্তানে অর্থের ব্যবহার রোধ করার নিয়ম স্থগিত করার জন্য এবং হিমায়িত আফগান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির পথের জন্য আবেদন করেন।

জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থাগুলো আফগানিস্তানের দুর্দশাকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল মানবিক সঙ্কট হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় কার্যালয় স¤প্রতি রিপোর্ট করেছে যে, অর্ধেক জনসংখ্যা তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন, ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়েছে এবং লাখ লাখ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে।
গত শুক্রবার শীর্ষ কমিটির বৈঠকে অনুরূপ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের জানানো হয়েছিল যে, আফগানিস্তান ‘এই কঠোর শীতে ক্ষুধা-এবং-সঙ্কট পরিস্থিতির’ দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বৈঠকে বলা হয় ‘সঙ্কটটি মানুষের পক্ষে পর্যাপ্ত খাবার এবং আশ্রয় পাওয়া কঠিন করে তোলে’।

প্রধানমন্ত্রীর দফতর বলেছে যে, শীর্ষ কমিটি আফগানিস্তানের অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ‘প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, পাকিস্তান তাদের প্রয়োজনের সময় আফগানদের পরিত্যাগ করবে না’।
‘কমিটি আফগান জনগণের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে’।

এর আগে বৈঠকে শীর্ষ কমিটিকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম, জরুরি চিকিৎসা সরবরাহ, শীতকালীন আশ্রয় এবং অন্যান্য সরবরাহসহ খাদ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত ৫ বিলিয়ন রুপিয়ার মানবিক সহায়তা ত্রাণের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান এ সহায়তা অনুমোদন করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি, তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা আবদুল রাজাক দাউদ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফ, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এবং সিনিয়র বেসামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।

আফগানিস্তানে ঘনীভূত সঙ্কট
তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর থেকে মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির সাথে দেশটি আর্থিক বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে, আর সাহায্য সরবরাহও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বৈশ্বিক সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, আফগানিস্তানের ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি এই শীতে অনাহারে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তালেবান ‘রাজনৈতিক পক্ষপাত’ ছাড়াই জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য গত সপ্তাহে আবেদন করেছিল। তারা বলেছিল যে, সা¤প্রতিক তুষার ও বন্যা আফগান জনগণের দুর্দশাকে আরও খারাপ করে তুলেছে।

একটি ভিডিও আপিলে উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল গনি বারাদার বলেন, ‘বিশ্বকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই আফগান জনগণকে সমর্থন করতে হবে এবং তাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে’।
বারাদার ক্রমবর্ধমান মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় একজন সিনিয়র তালেবান নেতার প্রথম সরাসরি আবেদনে যোগ করেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়, এনজিও এবং সমস্ত দেশকে আমাদের দরিদ্র জনগণকে ভুলে না যাওয়ার আহŸান জানাই’।

কোনো দেশ এখনও তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ক‚টনীতিকরা তালেবানদের সমর্থন না করেই ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিতে সহায়তার চ্যানেলের সূ² কাজে রয়েছেন।
হিমায়িত সম্পদ আনলক করার চেষ্টার জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে মুসলিম দেশগুলো জাতিসংঘের সাথে কাজ করার সঙ্কল্প করেছিল। ৫৭-সদস্যের অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের বিশেষ সভাটি ছিল আফগানিস্তানে সবচেয়ে বড় সম্মেলন, যেহেতু আগস্টে পূর্ববর্তী মার্কিন-সমর্থিত সরকারের পতন এবং তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে।

এছাড়াও ডিসেম্বরে মরিয়া আফগানদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে তালেবানের হাত থেকে তহবিল দূরে রাখার জন্য মার্কিন-প্রস্তাবিত একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন তালেবানকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন না করে এক বছরের জন্য দেশটিতে সাহায্য পৌঁছানোর অনুমতি দেয়। সূত্র : ডন অনলাইন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন