বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

খানাখন্দ ও পানিবদ্ধতায় বেহাল

ফেনী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল

মো. ওমর ফারুক, ফেনী থেকে | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০২ এএম

ফেনীতে স্থায়ী কোন বাস টার্মিনাল নেই। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মহিপালে সওজ’র জায়গায় অস্থায়ীভাবে ছোট একটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে অনেক আগেই। প্রথম দিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এ টার্মিনালের দেখাশোনা করলেও পরে ফেনী পৌরসভা দায়িত্ব নেন। পৌরসভা থেকে প্রতিবছর বাস টার্মিনালটি ইজারা দেয়া হয়। বর্তমানে সেখানে নেই কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। তবে সেখানে আছে শুধু নানা অব্যবস্থাপনা। বর্তমানে টার্মিনালে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দেখার যেন কেউ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও মহিপালে স্থায়ীভাবে নির্মিত হয়নি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। যদিও মহিপাল ফ্লাইওভারের উত্তর পশ্চিম পাশে সীমিত জায়গায় অস্থায়ী ছোট বাস টার্মিনালে গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে লোকাল বাসগুলো। সেখানে নেই কোন পরিবেশ। নেই ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। সেফটি ট্যাংকি না থাকায় টয়লেটের মল মূত্রের পানি খোলা ড্রেনে প্রবেশ করে পানিবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নেই শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বিশ্রামাগার। টার্মিনালের জায়গাটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই দেখা দেয় পানিবদ্ধতা। পুরো টার্মিনাল কাদা পানি আর ময়লা-আবর্জনায় একাকার। এছাড়াও টার্মিনালে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সহজে পানি সরে না। সন্ধ্যা নামলেই সেখানে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা। বাস, শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ যাত্রীরা বছরের পর বছর ধরে এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। টার্মিনালের সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে মহিপালবাসীর মধ্যে চরম অসোন্তষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাস টার্মিনালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মহিপাল ফ্লাইওভারের উত্তরে পূর্ব-পশ্চিম পাশে এবং দক্ষিণে পূর্ব-পশ্চিম পাশে নজির আহাম্মদ সিএনজি পাম্পের সামনে ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিস, পাসপোর্ট অফিসের সামনে যত্রতত্র মহাসড়কের ওপর রাখা হয় বাস-মিনিবাস ও ট্রাক, লরী, হিউম্যান হলার, পিকআপ, কাভার্ডভ্যানসহ অসঙ্খ্য ছোট বড় গাড়ি। এছাড়াও নোয়াখালী সড়কের আনসার ক্যাম্প, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারের সামনে এলোমেলোভাবে রাখা হয় এসব গাড়ি। দিনের বেলায় দূরপাল্লার গণপরিবহনের দীর্ঘসারি যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে সড়কে যানজট লেগে থাকে। শুরু হয় চরম ভোগান্তি। বেশিরভাগ বাসই মহিপাল থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পুরো মহিপাল শহরটাই যেন অঘোষিত বাস টার্মিনাল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বাস টার্মিনালে প্রতিদিন লোকাল পরিবহনের প্রায় ২০০ যাত্রীবাহী বাস আসা যাওয়া করে। এছাড়াও দূরপাল্লার প্রায় ১০০ বাস সড়কে থামিয়ে যাত্রি ওঠানামা করে। এসব গাড়ি থেকে দৈনিক ৫০ টাকা করে পৌর টোল আদায় করা হয়। অথচ গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো সুব্যবস্থা নেই। নেই যাত্রী সেবার মানও। যাত্রীদের ময়লা ও কাদাপানি মাড়িয়ে বাসে ওঠানামা করতে হয়। পৌরসভা প্রতি বছর টার্মিনালটি ইজারা দিয়ে যাচ্ছে। তবে বাস টার্মিনালটির কোন উন্নয়ন করছে না।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, নামেই শুধু বাস টার্মিনাল, এখানে যাত্রী সেবার কোন মান নেই। টার্মিনাল চত্বরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এখানে এলেই নাক চেপে ধরে থাকতে হয় যাত্রীদের। এ কারণে টার্মিনাল চত্বরে ঢুকতে চান না যাত্রী সাধারণ। যাত্রী ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই এ বাস টার্মিনালের সমস্যা সমাধান করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন যাত্রী সাধারণ ও এ অঞ্চলের সর্বস্থরের মানুষ।
পরিবহন সংশ্লিটরা জানান, মহিপাল শহরে একটিমাত্র অস্থায়ী ছোট লোকাল বাস টার্মিনাল রয়েছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বেশিরভাগ গাড়ি সড়কের ওপরে বাধ্য হয়ে রাখতে হয়। তারা জানান, টার্মিনালের জায়গা বাড়ানো উচিত এবং বর্তমানে টার্মিনালের অনেক সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা দরকার। একদিকে টার্মিনালের সমস্যার বিষয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠন, বাস-মিনিবাস মালিক সংগঠনের নেতারা অনেকবার জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু এ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ এখনও গ্রহণ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক বলেন, মহিপালে টার্মিনালের জায়গাটি মূলত সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এখানে স্থায়ীভাবে কিছু করার সুযোগ নেই। তবে পৌরসভা যেহেতু টার্মিনালটি দেখাশোনা করেন সেক্ষেত্রে একটি প্রকল্প থেকে কিছু টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। আগামী দু’চার মাস পরে টার্মিনালের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন