বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রিয়াসাত-ই-মদিনার আত্মা পাকিস্তানকে পরিবর্তন করা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০১ এএম

সভ্যতার উত্থান-পতন থেকে জাতির উত্থান-পতনের ব্যাপারটি ভিন্ন। জাতিকে আক্রমণ করা যায়, নতুন করে সাজানো যায় বা বাহ্যিকভাবে নতুন করে কল্পনা করা যায়, কিন্তু সভ্যতাকে বাইরে থেকে হত্যা করা যায় না, এটি কেবল আত্মহত্যা করে। প্রতিটি সভ্যতার মূল হল তার আধ্যাত্মিক নীতি; এটি মারা গেলে সভ্যতা মরে যায়। ইসলামী সভ্যতায় আমাদের আধ্যাত্মিক নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে মহানবী (সা.)-এর মদীনায়। অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ নীতির পাশাপাশি, পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক নীতি ছিল যার ওপর ভিত্তি করে মদীনা রাষ্ট্র নির্মিত হয়েছিল। এসব নীতি হল ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন যা মেধাতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করে, শক্তিশালী নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি, সমস্ত মানব জাতিকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সর্বশের জ্ঞানের সন্ধান করা। মদিনার অঙ্গীকারের চেতনা পুনরুজ্জীবিত করতে জাতীয় রহমাতুললিল ‘আলামিন কর্তৃপক্ষ (এনআরএ) গঠন করা হয়েছে।

রিয়াসত-ই-মদীনার ভিত্তি স্থাপনকারী প্রথম নীতি ছিল ঐক্য। ঐক্যের ধারণা (তাওহীদ) কুরআন থেকে এসেছে এবং এক অর্থে এই ধর্মের সমগ্রটাই এর ওপর ভিত্তি করে। ঈশ্বরের একত্ববাদ থেকে মানবজাতির ঐক্য, এটি ইসলামের সবচেয়ে মৌলিক নীতি। মনে রাখবেন যে আমাদের নবী, যিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ছিলেন, বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষকে একক সম্প্রদায়ে একত্রিত করেছিলেন। মুসলমান ছাড়াও, খ্রিস্টান, ইহুদি, সাবিয়ান এবং অন্যান্য গোষ্ঠী ছিল যারা মদীনা রাজ্যের অধীনে একটি ঐক্যবদ্ধ সাম্প্রদায়িক সমগ্রে বোনা ছিল।
দ্বিতীয় প্রধান নীতি ছিল আইনের শাসন যার ফলশ্রুতিতে ন্যায়বিচার ও মেধা প্রতিষ্ঠিত। রাসুল (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তিনি বলেছিলেন, সে জাতি ধ্বংস হয়ে যায় যখন দুটি আইন থাকে, একটি ধনীর জন্য এবং আরেকটি দরিদ্রদের জন্য

‘হে লোকসকল, তোমাদের পূর্বে যারা এসেছিল তারা ধ্বংস হয়েছে, কারণ তাদের মধ্যে কোন উচ্চ মর্যাদার লোক চুরি করলে তারা তাকে রেহাই দিত, কিন্তু কোন নিম্ন মর্যাদার লোক চুরি করলে তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা চুরি করত, আমি তার হাত কেটে দিতাম। [সহীহ মুসলিম ১৬৮৮]

আজকের বিশ্বের দিকে তাকালে সহজেই প্রত্যক্ষ করা যায় যে, অধিকাংশ সফল রাষ্ট্রেও আইনের শাসনের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রয়োগ রয়েছে। বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ছাড়াও, পূর্ব এশীয় দেশ জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া যারা অর্থনীতিতে খুব উন্নতি করেছে, কঠোরভাবে এই নীতির অনুশীলন করেছে। যেখানে আইনের শাসন বিপর্যস্ত, সেসব দেশে দারিদ্র্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশে প্রচুর সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি কম, যার জন্য আইনের শাসনের অভাবই দায়ী। আরেকটি ভালো উদাহরণ দক্ষিণ এশিয়া। আজকের ভারত, সেখানে আইনের বৈষম্যমূলক শাসনের ফলে দারিদ্র্য এবং অগণিত বিদ্রোহ নেমে এসেছে, যা তাদের দেশের রাজ্যগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে। পাকিস্তানে, আইনের শাসন না মেনে বিলিয়ন বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে যা আমাদের জনসাধারণের ওপর সামষ্টিক দারিদ্র্য চাপিয়ে দিয়েছে। আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অনেক দেশে রাজনীতি ও উন্নয়নের ধরন একই বার্তা নির্দেশ করে। তথাকথিত বানানা প্রজাতন্ত্রগুলো আইনের শাসনের অভাবে একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আইনের শাসন এবং আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক সম্প্রীতির মধ্যে সম্পর্ক ও প্রভাবের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না।

রিয়াসাত-ই-মদীনার তৃতীয় প্রধান নীতিটি ছিল মানুষের একটি নৈতিক ও আদর্শিক রূপান্তর- আমর-বিল-মারূফ-ওয়া-নাহি-আনিল-মুনকার (ভাল কাজ করা, মন্দ নিষেধ) ধারণা। পবিত্র কুরআন এটিকে উম্মাহর জন্য সংজ্ঞায়িত মিশন হিসাবে ঘোষণা করেছে:
তোমরাই শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় যারা কল্যাণের জন্য সৃষ্ট। তোমরা সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজে নিষেধ কর এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ। [আলে ইমরান, ৩:১১০।

ভালো কাজের আদেশ করা এবং মন্দ কাজে নিষেধ করা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব যা একটি সমাজের নৈতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। কেউ এ নীতির বিরোধ করবে না, তবে আমাদের সমাজে এমন অনেকে রয়েছে যারা এই মত পোষণ করে যে, মানুষের নৈতিক বিকাশ জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, রাষ্ট্রকে ধর্মের ধারণা অনুসারে ভাল-মন্দ সম্পর্কে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। পদ্ধতিটি বেশ অপ্রচলিত এবং সমস্যাযুক্ত কারণ এটি রাষ্ট্রকে তার নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব পালনে হাতকড়া পরিয়ে দেয় এবং দেশে বিরোধীদের অঢেল অর্থ নিয়ে আসতে দেয় এবং আমাদের নিজস্ব শিক্ষা ব্যবস্থা এবং তথ্যের চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে আমাদের মূল্যবোধকে নষ্ট করে দেয়। এনআরএ আমাদের সমাজে নৈতিকতা ও আদর্শিক স্তরকে উন্নীত করার লক্ষ্যে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের যুবকদের সিরাত-আল-নবী (সা.) শেখানোর মাধ্যমে আমর বিল মারুফের সাথে মিলিত করার চেষ্টা করবে।

চতুর্থ প্রধান নীতিটি ছিল একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে সমাজ তার দরিদ্র ও দুর্বলদের যত্ন নেয় এবং প্রত্যেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশীদার হয়। মদিনা রাষ্ট্রটি সর্বপ্রথম মানবজাতির কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল যেখানে রাষ্ট্র তার দুর্বলদের দায়িত্ব নিয়েছিল। যেহেতু আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের মহানবী (সা.)-এর উদাহরণ অনুকরণ করতে হবে, তাই আমাদের নাগরিকদের নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রিত হতে এবং অন্যদের প্রতি উদার হতে শেখা উচিত।

তবে মনে রাখবেন, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ইউরোপীয় অভিজ্ঞতায় কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা রঙিন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিমরা ১৯৫০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চিত্তাকর্ষক কল্যাণ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। তবে, বেশিরভাগ পশ্চিমা কল্যাণ রাষ্ট্রগুলো পরিবেশগতভাবে টেকসই ছিল না, কারণ তারা ছিল অত্যন্ত ভোগবাদি সমাজ যারা প্রচুর বর্জ্য উৎপাদন করে। যদি সমগ্র অ-পশ্চিমা দেশগুলো এই কল্যাণ রাষ্ট্রগুলোকে অনুলিপি করে, তাহলে আমাদের উৎপাদন, খরচ এবং বর্জ্যরে ধরন তাদের অনুরূপ হবে এবং অনুমিতভাবে পৃথিবীর মত আমাদের আরো ছয়টি গ্রহ প্রয়োজন হবে যা আমাদের বর্জ্য শোষণ করবে। এমন কল্যাণ রাষ্ট্র সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়। যেহেতু ইসলাম হল মধ্যম পথ, তাই শুধুমাত্র মধ্যপন্থী সমৃদ্ধি এবং ভোগই আদর্শ হবে, যা আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোকে মর্যাদা ও সম্মানের সাথে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সাথে পূরণ করার জন্য যথেষ্ট।

এবং অবশেষে, একটি জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ যা জ্ঞানের সাথে সাক্ষরতাকে কখনো মেশায় না। সাক্ষরতা আলোকিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা আমাদের ভাল আচরণের দিকে পরিচালিত করতে পারে, তবে বিশ্বের কিছু সর্বোচ্চ অপরাধ অঞ্চলেও সাক্ষরতার হার খুব বেশি। একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে, প্রাথমিক ও মধ্যযুগীয় ইসলামের প্রায় সব পণ্ডিতদের আধ্যাত্মিকতার শিকড় অনেক গভীর ছিল। তাই সুখী সমাজের জন্য শুধুমাত্র সাক্ষরতা যথেষ্ট নাও হতে পারে। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আধ্যাত্মিক রূপান্তরের সাথে জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। মানব আচরণকে প্রভাবিত করে এমন সমস্ত উৎেস জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া উচিত যা আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, আত্ম-শৃঙ্খলা, ধৈর্য, সহনশীলতা, সহনশীলতা এবং সেবা এবং স্বেচ্ছাসেবীর মনোভাব তৈরি করে।

সবশেষে, আমাদের আদর্শকদের আলোকে আমরা কিছু মহৎ উদ্যোগ নিয়ে কল্যাণ রাষ্ট্রের পথে যাত্রা করেছি। আর্থিক সংকটের সত্ত্বেও, আমরা আমাদের উদ্যোগগুলোর জন্য অভূতপূর্ব পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছি, যেমন এহসাস প্রোগ্রাম যা ২০১৯ সালে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। এহসাস প্রোগ্রাম হল একটি সামাজিক সুরক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি যা সমাজের দুর্বল গোষ্ঠীগুলোর জন্য প্রয়োজনীয়। আমাদের নাগরিকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের দিকে এটি ছিল আমাদের মূল উদ্যোগগুলোর একটি। এখন পর্যন্ত, পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামগুলোর একটি হল সেহাত সাহুলত প্রোগ্রাম যা আমাদের নাগরিকদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজ প্রদান করে। এটি শুধুমাত্র দুর্বল পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যের মধ্যে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য নয় যারা প্রায়শই চিকিৎসার জন্য অর্থ ধার করে, এটি সারা দেশে বেসরকারি খাতের হাসপাতালের নেটওয়ার্ককে বিস্তৃত করে, এইভাবে জনসাধারণের পাশাপাশি বেসরকারি খাত উভয় ক্ষেত্রেই উপকৃত হয়। স্বাস্থ্যের শুধু পাঞ্জাব সরকার একাই বরাদ্দ করেছে ৪০০ কোটি রুপি।

সেবাত সাহুলত কর্মসূচি আমাদের সামাজিক কল্যাণ সংস্কারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পাকিস্তানের নিম্ন-আয়ের গোষ্ঠীগুলো কোন আর্থিক বাধ্যবাধকতা ছাড়াই দ্রুত এবং সম্মানজনকভাবে তাদের প্রাপ্য মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবা পেতে পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত করে। কোভিড-পরবর্তী যুগে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও, আমরা দ্রুত পরিবর্তনশীল শিক্ষাক্ষেত্রকে অবহেলা করিনি। আমাদের এহসাস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম নিশ্চিত করবে যে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এবং দরিদ্র স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীরা শালীন শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে যা তাদের উন্নত জীবিকা অর্জনের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলবে। এ প্রোগ্রামটি আমাদের অন্যান্য সমস্ত বৃত্তির সাথে মিলিত হয়ে ৬ মিলিয়ন স্কলারশিপ, যার পরিমাণ মূল্যে ৪৭ বিলিয়ন রুপিতে উন্নীত হয়েছে। এটাও পাকিস্তানের শিক্ষা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

উপসংহারে, আমি পুনর্ব্যক্ত করব যে, এই মুহূর্তে আমাদের দেশের মুখোমুখি হওয়া সমস্ত চ্যালেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি হল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পাকিস্তানের গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে, আমাদের দেশ অভিজাতদের দখলে ভুগছে, যেখানে শক্তিশালী এবং কুটিল রাজনীতিবিদ, কার্টেল এবং মাফিয়ারা একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্জিত তাদের সুযোগ-সুবিধা রক্ষা করার জন্য আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা রক্ষা করতে গিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলুষিত করেছে, বিশেষ করে রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান আইনের শাসন বজায় রাখার জন্য দায়ী। এই ধরনের ব্যক্তি, কার্টেল এবং মাফিয়ারা পরজীবী যারা আমাদের দেশের প্রতি অনুগত নয় এবং তাদের পরাজিত করা পাকিস্তানের প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচন করার জন্য একান্ত প্রয়োজন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন