বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

করোনা উপেক্ষা করে ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড়ে মুখরিত ‘গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র’

ঝিনাইগাতী(শেরপুর) থেকে এস.কে সাত্তার | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২২, ১:৩০ পিএম

করোনা উপেক্ষা করে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়ে মুখরিত ’গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র’। সীমান্তবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি, ছুটির দিন থাকছে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত। ’অবকাশের’ সাইট ভিউ টাওয়ার, ড্রাগন, ঝুলন্ত ব্রীজ, বিশাল লেক, ময়ুরপঙ্খী নাও, স্পিডবোর্ড, পাহাড়, টিলা, পদ্মসিঁড়ি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, মৎস্যকণ্যা,শিশুপার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা, হরিণ, হাতি,বাঘ,ভল্লুক,সিংহের ভাস্কর্য বানর আরো কতকিছু। আকর্ষনীয় আঁকাবাঁকা পদ্মসিঁড়ি, লেকের মাঝখানে কৃত্তিম দ্বীপ, আকাশচম্বী সাইটভিউ টাওয়ার, শানবাঁধানো ঐতিহাসিক শতবর্ষী বটবৃক্ষ, লেকের পাশে শিলা মৎস্য কুমারী, লেকে সুদৃশ্য দ্বিতল রেস্তোরা, প্যাডেল বোট, হাঁসনৌকা, আকর্ষনীয় দোলখাওয়া ব্রিজ, ট্যানেল পাতালপুরী। শিশুপার্ক, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ, অর্কিট হাউস, মিনি চিড়িয়াখানা, জীব-জন্তুু-জানুয়ারের প্রতিকৃতি, জলপ্রপাত, কৃত্তিম ঝরর্ণা এবং রেইনবো ব্রীজ।

শুক্রবার ছুটির দিনে বাড়ছে ভীড়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দে মেতে উঠছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ভিড়ে খুশি ব্যবসায়ীরাও। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ’অবকাশ’ প্রায় ২০০ ফুট উঁচু টিলায় তিন তলা ‘অবকাশ ভবন’ পর্যটকদের রেস্ট হাউস । ৯০ একরের অবকাশে সমতল থেকে পাহাড় কেটে তৈরি আকর্ষণীয় আঁকাবাঁকা ‘পদ্মসিঁড়ি’। পাতালপুরী, মৎস্যকন্যা। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে আকাশচুম্বী সাইট ভিউ টাওয়ার। উঠে চোখে পড়ে ভারতের মেঘালয়ের সুউচ্চ পর্বতরাশি। পর্যটক টানতে নতুন করে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ উদ্যোগ নিয়েছেন। লেকের পাড়ে হেঁটে যাওয়া যায় পাহাড় থেকে পাহাড়ে। নৌকা/ স্পিডবোর্ডে বেড়ানো যায় লেকে। ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরতে পারেন মণের আনন্দে। শিশুদের পদচারণায় চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক থাকছে মুখর। দেওয়ানগন্জ থেকে স্বস্ত্রীক আসা দর্শনার্থী মো. মাসুদ বলেন, করোনায় ঘর বন্দী থাকার পর পরিবারের সবাইকে নিয়্রে বেড়াতে এসেছি। সবুজ ঘেরা, উঁচু-নিচু টিলা আর সমতল পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে আমরা মুগ্ধ। যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কার ও জিপ লাইনিং। এতে পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ক্ষুদ্র- নৃগোষ্ঠীদের কালচারাল সেন্টার, রাংটিয়ায় রাত্রিযাপনে হোটেল নির্মাণ, লেকে কটেজ, ফিশিং ও কায়াকিং ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধিন। জেলা প্রসাশক মো. মোমিনুর রশিদ বলেন, নিরাপত্তা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন মহলে টুরিস্ট পুলিশের আবেদন করা হয়েছে। আপাতত: স্থানীয় পুলিশ ও বিজিবি নিরাপত্তা দিচ্ছে। ভ্রমনপিপাসুদের দৃষ্টিকারা রাইডগুলো নির্মিত হওয়ায় নতুন মাত্রা সংযোজন হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্যবর্ধন ও ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদনে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি রাইড নির্মাণ করেছে। পাহাড়ের এক টিলা থেকে অপর টিলায় যেতে ঝুলন্ত ব্রিজ, ক্যাবল কারে উঠে পাহাড় ও লেকের সৌন্দর্য উপভোগ এবং দৃষ্টিনন্দন ১ নম্বর লেকের ওপর দিয়ে জিপ লাইনিং করে অপরুপ দৃশ্য দেখতে পারবেন। দর্শনার্থীদের ভীরে ’অবকাশ’ প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রবিণ ব্যাক্তিত্ব শতবর্ষী ডা. আব্দুল বারী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা, সরোয়ার্দী দুদু মন্ডল সহ স্থানীয়রা। প্রবেশদ্বারের ইজারাদার বলেন, বেশী ভীড় হচ্ছে শুক্রবার। বাহাড়ি যানবাহনে পর্যটকের আগমন ঘটছে।

ওসি মো. ফায়েজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর ভীড় বেড়েছে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ বলেন, ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে নতুন নতুন স্থাপণা নির্মাণে অধিকতর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। সর্বদিক বিবেচনায় ভ্রমণপিপাসুদের অসুবিধা নেই। নির্বিঘেœ প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিপাসুরা অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন