শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৮ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

খেলাধুলা

গিবসনের পথে টেইট!

ইমরান মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০০ এএম

ঘটনাক্রম ২০২০। জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে চলছিল বিপিএল ফ্রাঞ্চাইজি কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের অনুশীলন। সেই দলের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। সদ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বোলিং কোচের চাকরি ছেড়েছেন চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট। যদিও বিপিএল, তবুও সঙ্গত কারণেই একান্ত আলাপচারিতার এক পর্যায় নান্নুর কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী পেস বোলিং কোচ?’ নেটে ইমরুল কায়েসকে বোলিং স্টিক দিয়ে ব্যাটিং অনুশীলন করাচ্ছিলেন দীর্ঘাকায় একজন। তাকে দেখিয়ে বললেন ‘ঐ যে!’ তিনি আর কেউ নন, ওটিস গিবসন। সেবার বিপিএল শেষেই মাশরাফি-মুস্তাফিজদের কোচিংয়ের দায়িত্ব পান ক্যারিবিয়ান গ্রেট। নিউজিল্যান্ডে দারুণ সাফল্যের পরও গিবসনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচের পদ খালি হয়ে গেছে। এবার তার পথে হেঁটেই তার শূন্য করে যাওয়া পদে নিজেকে দেখতে চান শন টেইট। বিপিএলে বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করতে এসে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার চোখ রাখছেন বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্বেও।
সর্বকালের সবচেয়ে গতিময় ফাস্ট বোলারদের একজন টেইটকে এবার বোলিং কোচ করে এনেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এবার বিপিএলে এসেছে চট্টগ্রামের হয়ে কাজ করতে। বাংলাদেশে দুদিন অনুশীলনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে টেইট সোজাসাপ্টা জানিয়ে দেন নিজের আগ্রহ, ‘অবশ্যই আমি আগ্রহী (পেস বোলিং কোচ হতে)। তাদের হাতে অবশ্য সময় আছে, কাকে বেছে নেবে। তবে অবশ্যই আমার জন্য দারুণ হবে (এটি পেলে)।’
খেলোয়াড়ি জীবনে গতির জন্য নাম কুড়িয়েছিলেন টেইট। একশো মাইল গতিতে বল করতে পারা ইতিহাসের তিন পেসারের একজন তিনি। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হলেও তা খুব বেশি সমৃদ্ধ হয়নি। ২০১৬ সালে খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর কোচিংয়ের দিকে মন দেন টেইট। চট্টগ্রাম দলে টেইট কাজ করার জন্য পাচ্ছেন বেশ কয়েকজন তরুণ পেসার। আছেন শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, রেজাউর রহমান রাজারা। তরুণ এই পেসারদের দেখে বাংলাদেশের আগামী নিয়ে রোমাঞ্চিত তিনি, ‘এমনিতেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে তরুণ ফাস্ট বোলার ও ক্রিকেটার উঠে আসছে। আগামী ৫-৬ বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য হতে যাচ্ছে রোমাঞ্চকর।’
শুধু চট্টগ্রাম দল বলে নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই তরুণদের উঠে আসাকে দারুণ ইতিবাচক মনে করছেন তিনি, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটে বেশ কিছু ভালো তরুণ ক্রিকেটার আছে, যারা ভবিষ্যতে দুর্দান্ত ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারে। আমাদের দলে তাদের বেশ কজন আছে। শরিফুল যেমন, আগ্রাসী বাঁহাতি বোলার। আমাদের দলেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে সে। নিজেকে তুলে ধরার মতো যথেষ্ট ক্রিকেট সে খেলে ফেলেছে এর মধ্যেই। তাদের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আমি।’
সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড সফরে শরিফুল ইসলামের বোলিং নজর কেড়েছে টেইটের। তরুণ এই বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে কাজ করতে তিনি মুখিয়ে আছেন, ‘সফরটি বাংলাদেশের জন্য দারুণ ছিল, তার জন্য তো বটেই। সে আক্রমণ করতে পছন্দ করে, স্টাম্পে বল রাখে। তার উৎসাহ ও উদ্যম সহজেই চোখে পড়ে। দূর থেকে তাকে দেখেই তার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জাগে, কারণ ফাস্ট বোলিংয়ের প্রতি তার মানসিকতা দারুণ।’
বোলিং কোচ হিসেবে টেইটের মূল মন্ত্র, সবকিছু সাধারণ ও স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা। বিপিএলে তার কৌশলের বড় অংশ জুড়ে থাকবে শেষ দিকের বোলিং, ‘ডেথ বোলিং নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি আমি। বিশেষ করে এখানে, এই মাঠে ডেথ বোলিং শেষ ৪-৫ ওভার আমাদের জন্য হতে যাচ্ছে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার কৌশল হলো টুর্নামেন্ট জুড়ে সবকিছু সাধারণ ও গোছানো রাখা এবং আমাদের কৌশল ও ভাবনা থেকে সরে না যাওয়া। সাধারণ ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা থাকবে।’
সামনেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের টানা সিরিজ। গুরুত্বপূর্ণ শূন্য এই পদ পরের সিরিজের আগেই পূরণ করতে চাইবে বিসিবি। টেইটের এই আগ্রহ বিসিবি আমলে নেয় কি-না সেটিই এখন দেখার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন