বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জনগণের অর্থে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে আওয়ামী লীগ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০৪ এএম

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগই বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের নামে জনগণের অর্থ ব্যয় করেছে অভিযোগ করে তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের দাবি তারা কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, একটা জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণ বলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষে সজীব ওয়াজেদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম লবিস্ট ‘অ্যালক্যাডে এন্ড ফো’কে নিয়োগে দেন ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর যা কার্যকর হয় ১ জানুয়ারি ২০০৫ থেকে। ২০০৫,২০০৬,২০০৭ সালে এই লবিস্ট ফার্মকে চুক্তি স্বাক্ষরকারী হিসেবে তিনি (সজীব ওয়াজেদ) মাসে ৩০ হাজার ডলার হিসেবে সাড়ে ১২ লাখ ডলার অর্থ্যাৎ ১০ কোটি টাকার বেশি দিয়েছেন।

ড. মোশাররফ বলেন, দেশবাসীর দুর্ভাগ্য যে, তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার, গুম, খুন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এই জুলুমবাজ অবৈধ সরকার যে অপরাধ করেছে তা ধামাচাপা দেয়ার লক্ষ্যে লবিস্টদের নিয়োগের জন্য সেই নিপীড়িত দেশবাসীরই ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করছে। জনগণের এই অর্থ ব্যয় করে সরকার ও সরকারি দল লবিস্ট নিয়োগের নামে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে এবং তার উৎস কি? তার স্বচ্ছ তদন্ত করে তার রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির দুইটি লবিস্ট ফার্ম ‘অ্যালক্যাডে এন্ড ফো’ এবং ‘ফ্রিডল্যান্ড’ এর সাথে আওয়ামী লীগের সজীব ওয়াজেদ এর চুক্তির তথ্য প্রমাণও তুলে ধরেন খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বহুবছর ধরে নিয়মিত চুক্তিতে কাজ করা লবিস্ট প্রতিষ্ঠান বিজিআর ছাড়াও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন ও সফর বিনিময়ের লক্ষ্যে মাত্র ১ মাসের জন্য ৪০ হাজার ডলার ফিতে নিয়োগ করা হয়েছিলো আরেকটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠান ফ্রিডল্যান্ডারকে। এই ব্যাপারে কেঁচো খুড়তে গেলে আরো বড় বড় সাপ বেরিয়ে আসবে। বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ৮টি লবিস্ট ফার্মের সাথে চুক্তি করেছে এবং তার একটি ফার্মকেই দিয়েছে ১০ লাখ। অন্য ৭টি ফার্ম সম্পর্কে তার বক্তব্য হলো- সব তথ্য আছে। কিন্তু কিছুই দিতে পারেননি তিনি। সত্য তো এই যে, বিএনপি কোনো লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্তই কখনো নেয়নি, লবিস্ট নিয়োগ করার প্রয়োজনও বোধ করেনি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছে তা বাটোয়াট।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, লবিস্টগণ যেসব কথা বলবেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ তা নিজেরাই বলে থাকেন এবং তাও গোপনে না-প্রকাশ্যে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপি মহাসচিবের যেসব পত্রের কপি সাংবাদিকদের মাঝে বিলি করেছেন তাতেও কোথাও এমন কোনো বক্তব্য নেই যা তিনি এবং দলের অন্যান্য নেত্বৃৃন্দ প্রকাশ্যে বলেননি, মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়নি কিংবা আন্তর্জাতিক বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। এসব বক্তব্যের কোনটাই জনগণের কিংবা দেশের স্বার্থ দেশের স্বার্থ বিরোধী নয়ই বরং জনগণ ও দেশের পক্ষে বিএনপির নৈতিক অবস্থান ও দায়িত্বের প্রকাশ। এসব বক্তব্য জনগণের কাঁধে অন্যায়ভাবে চেপে বসা সরকারের বিরুদ্ধে হতে পারে এবং সেটাই অনিবার্য, স্বাভাবিক ও অব্যাহত রাখার যোগ্য।

তিনি বলেন, সরকার যে অভিযোগ করেছে আমরা (বিএনপি) লবিস্ট নিয়োগ করেছি, তারা আরো বলেছে যে, এখান থেকে কিভাবে আমরা অর্থ প্রেরণ করেছি। আমরা চাই যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইনকোয়ারি করুক। তাদেরটাও ইনকোয়ারি করুক। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, আমরা বাংলাদেশ থেকে লবিস্ট নিয়োগ করেনি। তার জন্য বাংলাদেশ থেকে অর্থ কোথাও যায়নি। প্রবাসীরা এদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিষয়ে সেই সব দেশে বিক্ষোভ কিংবা নিজেদের মনের কথা সেখানকার প্রতিনিধির কাছে বলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের সদস্য ও মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাত করে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরার কথা উল্লেখ করেন যুক্তরাজ্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক খন্দকার মোশাররফ।

দূতাবাস থাকা সত্বেও আলাদা করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক মন্তব্য করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যেখানে আমাদের বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যেকটা দেশে দূতাবাস আছে, জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধির অফিস আছে। এগুলো কিসের জন্য? বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের যে ঘটনাবলীর পক্ষে ওইসব দেশকে অবহিত করা এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া। সেখানে সরকার বা সরকারি দল কেনো লবিস্ট নিয়োগ করতে হবে? সেটাই প্রশ্ন। দূতাবাস থাকা সত্বেও এভাবে জনগণের অর্থ খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ অনৈতিক। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন