শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মানবাধিকার নিয়ে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন করবে নরওয়ে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:৫০ পিএম

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিকেন হুইটফেল্ট


আফগানিস্তানের মানবিক পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে তালেবান প্রতিনিধিদল অসলোতে যাবেন বলে জানিয়েছে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিন দিনের এই আলোচনায় আরও যোগ দেবেন আফগানিস্তানের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও একাধিক মিত্র রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা।

তালেবান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি তালেবান প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে তার অফিস থেকে জানানো হয়েছে। “প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রবিবার শুরু হওয়া এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং একাধিক আফগান নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করবে,” বলেন তালেবান মুখপাত্র বিলাল করিমি।

জানা গেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় যোগ দেবেন। নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিকেন হুইটফেল্টের বরাত দিয়ে জানায়, অসলো এই আলোচনার আয়োজন করলেও এটি কোনোভাবেই তালেবান সরকারকে বৈধতা বা স্বীকৃতি হিসেবে পরিগণিত হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশটির সাধারণ জনগণকে সহযোগিতা করতে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে যুক্ত করা জরুরি।

“আফগানিস্তানের শোচনীয় অবস্থা নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সেখানে হাজার হাজার মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। রাজনৈতিক কারণে পরিস্থিতি আরও শোচনীয় না হয় সে জন্যেই চেষ্টা করছি আমরা”, তিনি যোগ করেন। তিনি আরও বলেন, “আলোচনায় আমরা তালেবানের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরব। বিশেষত মানবাধিকার এবং নারীশিক্ষা বিষয়ে। এছাড়া সমাজে নারীর অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা করব আমরা”।

গত বছর অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসে তালেবান। এসময় দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বে গঠিত বিদেশি সামরিক দল। তালেবানের ক্ষমতা দখলের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় বিদেশি সাহায্য। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী আফগান সরকার পুরোপুরি বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদেশে থাকা প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়। এর সঙ্গে কাবুল সরকারের ওপর বিবিধ বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়।

আন্তর্জাতিক দাতারা বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার শর্ত হিসেবে তালেবান নেতাদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারী অধিকার বিষয়ে উদারতা প্রদর্শনের তাগিদ দেয়। আন্তর্জাতিক শাস্তিমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ভয়াবহ অর্থনৈতিক এবং মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দেশটি। জাতিসংঘ জানায় দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের খাদ্য সংস্থানের জন্যে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।

“শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয় নয়, মৌলিক সেবা, যেমন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পতনও ঠেকাতে হবে। প্রচলিত জীবিকার দিকটিও দেখতে হবে আমাদের”, হুইটফেল্ট বলেন। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা জানায়, তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আফগানিস্তানে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ লোক চাকরি হারিয়েছে। তারা জানায়, এ সংখ্যা ৯ লাখে উন্নীত হতে পারে এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে।

তালেবান নেতারা দেশ পরিচালনায় পূর্ববর্তী সময়ের মতো ইসলামিক চরমপন্থা অবলম্বন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও মানবাধিকার লংঘন করেই যাচ্ছে, বিশেষত নারী অধিকারে ক্ষেত্রে। অধিকাংশ নারী পেশাজীবীদের তাদের কাজে দিরতে বাধা দিয়েছে তালেবান কর্তৃপক্ষ। মাধ্যমিকে পড়ুয়া মেয়েরাও স্কুলে ফিরতে পারেনি।

তালেবান বারবার বলে আসছে, তারা শরিয়াহ আইন অনুসরণ করে মেয়েদের কাজে এবং স্কুলে ফেরা নিশ্চিত করবে। তবে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করতে তাদের অর্থের প্রয়োজন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মার্চে মেয়েদের স্কুল চালু করবে বলে জানায় তারা। সূত্র: ডন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন