বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হাইপারলুপ প্রযুক্তি নিখুঁত করতে চেষ্টা চলছে

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:৪৯ পিএম

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০০ কিলোমিটার গতিতে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে হাইপারলুপ প্রযুক্তি৷ ইতিমধ্যে অল্প পরিসরে একটি পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলও হয়েছে৷ তবে এখনও পুরোপুরি নিখুঁত করা যায়নি এই প্রযুক্তি৷

ক্যালিফোর্নিয়ার হাইপারলুপ টিটি কোম্পানি সেই চেষ্টা চালাচ্ছে৷ সারা বিশ্বে তাদের প্রায় ৮০০ কর্মী আছে৷ টাকা আছে প্রায় ২৬৬ কোটি৷ তবে এই প্রযু্ক্তি মাঠে নামানোর আগে অনুমোদন পেতে হবে৷ তাই জার্মানির একটি পরিদর্শক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে হাইপারলুপ টিটি৷ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আন্দ্রেই ডে লেওন বলেন, ‘‘নিয়ম কানুনের বিষয়ে আমাদের এখনও সমস্যা আছে৷ কখনও কখনও নিয়মনীতির আগে প্রযুক্তি চলে আসে৷ আমরা খুব চেষ্টা করছি৷ টিইউভি স্যুদের সঙ্গে মিলে আমরা একটি নীতিমালা তৈরির কাজ করছি৷ কারণ নীতিমালা ছাড়া হাইপারলুপে করে আমরা মানুষ, এমনকি কার্গোও পরিবহন করতে পারব না৷’’

হাইপারলুপ টিউব তৈরি করা অনেক ব্যয়বহুল৷ এক কিলোমিটার তৈরিতে খরচ হবে প্রায় ৫১৫ কোটি টাকা৷ ভারতে পুনে ও মুম্বইয়ের মধ্যে পাতালপথে হাইপারলুপ বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেটা আরও ব্যয়বহুল হবে৷ তবে এটা সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা কমাবে৷ এই রুট তৈরিতে খরচ পড়বে প্রায় সাড়ে ৬৮ হাজার কোটি টাকা৷

আন্দ্রেই ডে লেওন বলেন, ‘‘আমরা বলেছি বেসরকারি বিনিয়োগের চেষ্টা করা যেতে পারে৷ পেব্যাক পিরিয়ড হতে পারে ২৫ বছর৷ তাহলে জনগণের করের টাকা আর ভর্তুকির উপর নির্ভর করতে হবে না৷ বর্তমানে ঐ রুটে চলাচলের যত উপায় আছে, তাতে যত টাকা খরচ হয়, তার ৭৫ শতাংশ অর্থ হাইপারলুপের টিকিটের মূল্য হিসেবে ধরে, এই হিসাব করা হয়েছে৷’’

মহাকাশযাত্রার সঙ্গে হাইপারলুপ যোগাযোগের অনেক মিল রয়েছে৷ নভচারীরা একটি ভ্যাকুয়াম পরিবেশে থাকেন৷ হাইপারলুপ প্রযুক্তিতেও প্রায় ভ্যাকুয়াম পরিবেশ তৈরি করা হয়৷ আর সে কারণেই অনেক গতি তোলা সম্ভব হয়৷ কিন্তু পডে যদি কোনো ছিদ্র তৈরি হয় তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সব যাত্রী মারা যাবেন৷

এই সমস্যার সমাধান এখনও পাওয়া যায়নি৷ এমনকি জার্মানির মিউনিখে যে প্রকল্প চলছে সেখানেও নয়৷ টিইউএম হাইপারলুপের প্রকল্প প্রধান গাব্রিয়েল সেমিনো বলেন, ‘‘এমন পরিস্থিতিতে খুব দ্রুত পড থামিয়ে যাত্রীদের জন্য অক্সিজেন মাস্কের ব্যবস্থা করতে হবে, যেমনটা বিমানে করা হয়৷ তবে এটা একটা সম্ভাবনা মাত্র, যেটা আমরা ভেবে দেখতে পারি৷ এটা যদি অনেক ব্যয়বহুল হয় তাহলে আর্থিকভাবে সফল হবে না৷ আবার, যদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া না যায়, কিংবা যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়, তাহলেও লাভ হবে না৷’’

তাহলে কি হাইপারলুপ একটা স্বপ্ন হয়েই থাকবে? গবেষকরা অবশ্য সফলতার আশা করছেন৷ গাব্রিয়েল সেমিনো বলেন, ‘‘হাইপারলুপে করে মানুষের চেয়ে কার্গো পরিবহন সহজ হবে, কারণ সেক্ষেত্রে নিরাপত্তার শর্ত কম থাকবে৷’’ কনটেনার পরিবহনের নতুন উপায় বের করতে হাইপারলুপ টিটির সঙ্গে কাজ করছে জার্মানির হামবুর্গ বন্দর৷

হামবুর্গ বন্দরের হাইপারলুপ প্রকল্পের প্রধান গ্যারলিন্ডে জন জানান, ‘‘অল্প দূরত্বের জন্য হাইপারলুপ উপযোগী নয়৷ এটা মাঝারি বা দীর্ঘ পথের জন্য প্রযোজ্য৷ আমরা বন্দরের ভেতরে ৩০০ কিলোমিটার পথের একটি রুট চিন্তা করছি, যেটা বন্দরের দুটো বড় অংশকে সংযোগ করবে৷ বর্তমানে এই কাজে অনেক সময় লাগছে৷ এক্ষেত্রে হাইপারলুপ ব্যবহার করা যেতে পারে৷’’

ভবিষ্যতে আরও অনেক দূরের পথে এবং আরও ভালোভাবে পরীক্ষামূলক যাত্রা পরিচালনা করতে হবে৷ বিশেষ করে সফলভাবে বাঁক নেয়া যায় কিনা, দেখতে হবে৷ সেটা সম্ভব হলে দীর্ঘ পথে যাত্রার জন্য হাইপারলুপের উপযোগিতা এবং তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া হাইপ সফল প্রমাণিত হবে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন