মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ০৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দিনাজপুরে ইটভাটা ২৫০, বৈধ মাত্র ২০

আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষিত পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র লাগে না অবৈধ ভাটা থেকে আদায় করা টাকার গন্তব্য কোথায়?

মাহফুজুল হক আনার, দিনাজপুর অফিস | প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:০১ এএম

পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রের তোয়াক্কা না করেই দিনাজপুরের ১৩ উপজেলায় ২৫০টির বেশি ভাটা চলছে। নির্দিষ্ট কিছু ভাটা বন্ধের নির্দেশনা থাকার পরও প্রশাসনের নাকের ডোগায় ইট ভাটাগুলোর কার্যক্রম চলছে। ইট ভাটা মালিকদের একটি সূত্র বলছে, ছাড়পত্রের ঝামেলা সহজেই মিটে যায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়। পরিবেশকে মারাত্মক ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়ে এই টাকা যাচ্ছে কোথায়? এমন প্রশ্নে সূত্র নিশ্চুপ। কিছু কিছু ভাটার মালিক নিজ উদ্যোগেই পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য নির্দিষ্ট চালানে এবং জেলা প্রশাসকের এল আর ফান্ডে লাখ লাখ টাকা জমা করছেন।

অপরদিকে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজের’ নামে আদায় করা চাঁদার কোটি কোটি টাকা কারা নিচ্ছে সে তথ্য ভাটা মালিকরা জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে টাকা নেওয়ার জন্য যারা আসে তাদের সোজাসাপটা কথা, কখনোই মুখ খোলা যাবে না। কিন্তু ইট ভাটার লাইসেন্স বা পরিবেশের ছাড়পত্রের বিপরীতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া লাইসেন্স না পাওয়ার অজুহাতে কোটি কোটি টাকার ভ্যাটও আদায় করতে পারছে না কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষে প্রতিবারের মত এবারও একই কথা, অবৈধ ইট ভাটা বন্ধসহ মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর এটি হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া। পরিবেশ অধিদফতর বা প্রশাসন যেসব অবৈধ ইট ভাটায় অভিযান পরিচালনার কয়েকদিনের মাথায় সেগুলো আবার চালু হয়ে যায়। আর এমন ঘটনা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, ১৩ উপজেলায় ২৪৫টি ভাটার মধ্যে মাত্র ২০টির পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। বাকিগুলো চলছে অবৈধভাবে। অবৈধ হলেও বিরাট এলাকা ও বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়েই ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। দিনাজপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলায় সর্বাধিক উর্বর জমি হিসাবে বিবেচিত উপজেলা হচ্ছে চিরিরবন্দর। এই উপজেলায় ১০০ বেশি ইট ভাটা চালু রয়েছে। আবার একটি ইউনিয়নে ২৫টিরও বেশি ভাটা থাকার নজির রয়েছে।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চিরিরবন্দর থানার পিছনে, দিনাজপুর-পার্বতীপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে রেল লাইন সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ভাটা রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই বহাল তবিয়তে এসব ভাটার কার্যক্রম চলছে। একইভাবে পার্বতীপুর উপজেলার ১টি ইউনিয়নে ২৯টি ভাটার ধোঁয়ায় পুরো এলাকার পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগিরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত থেকে ভাটাগুলো বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও অবৈধ ইট ভাটাগুলো কিভাবে চালু রয়েছে? এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতর বলছে, তারা অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে। তারপরও এগুলো কিভাবে চলছে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ছোট্ট সোনামনিদের প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয় কাঞ্চন রেল ব্রীজ সংলগ্ন দিনাজপুর-বোচাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অনেকগুলো ইট ভাটা রয়েছে। এসব ভাটার ধোঁয়ায় পথচারী, স্থানীয় লোকজন ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী একজন ভাটা মালিক ক্ষোভের সাথে বললেন, এসব লিখে কি হবে? প্রশাসন তো সবকিছুই জানে। কেবল আমাদের উপর লুকিয়ে ভাটা চালানোর দায় চাপানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা ঠিকই টাকা দিচ্ছি। অথচ এই টাকা সরকারি কোষাগারে না গিয়ে কোথায় যাচ্ছে তা আমাদের জানার কথা নয়। অথচ শর্ত সাপেক্ষে ভাটা করার অনুমতি দিলে সরকার লাভবান হবে। আমরাও শান্তিতে ভাটা চালাতে পারবো।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন