সোমবার, ০৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ০৯ মুহাররম ১৪৪৪ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রাকাবে পদোন্নতিতে অনিয়ম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:১৫ এএম

পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব)। ব্যাংকটির কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ অবৈধভাবে চার কর্মকর্তাকে সার্ভিস কন্টিনিউয়েশন দেখিয়ে জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গে মুখ্য কর্মকর্তা (প্রিন্সিপাল অফিসার) পদে পদোন্নতি দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে অবৈধ পদোন্নতি এবং সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের বিষয়টি বেরিয়ে এলে সমাধানের জন্য রাকাব ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর চেয়ে রাকাবকে চিঠিও দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি।

সূত্র মতে, ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে ২০১০ সালে সিনিয়র অফিসার হিসাবে যোগদান করেন ৪ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ মন্ডল, মো. হাবিবুর রহমান, অম্বরিষ মহন্ত এবং মো. ফরিদ আহমেদ। এরা সবাই ২০১০ সালের বিআরসি’র সিনিয়র অফিসার ব্যাচের কর্মকর্তা।অথচ আগের বছর ২০০৯ সালে এই ৪ কর্মকর্তা অফিসার হিসেবে রাকাবে যোগদান করেন। যাদেরকে সিনিয়র অফিসারদের সঙ্গে একই পদে বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। অথচ ২০১০ সালের বিআরসি’র সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানের সময় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জুনিয়র অফিসারদের আবেদন করার কোন সুযোগই ছিলো না। নিয়োগটি ছিলো একেবারেই নতুন। তাই এই চার কর্মকর্তা অবৈধভাবে ২০১০ সালের বিআরসি’র সিনিয়র ব্যাচভুক্ত হয়ে যান। এদিকে এর আগে ২০১১ সালের আগস্টে ১৯৯৮ সালে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করা কর্মকর্তারা সিনিয়র অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০১১ সালের মার্চে একটি সিনিয়রটি তালিকা প্রকাশ করে রাকাব। সেই ‘সিনিয়র অফিসার’ তালিকায় ২০১০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে যোগদানকৃত সিনিয়র অফিসাররা অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।

অপরদিকে ১৯৯৮ সালে যোগদানকৃত জুনিয়র অফিসাররা ২০১১ সালের আগস্ট মাসে সিনিয়র অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পান। তাই ২০১১ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত সিনিয়র অফিসারের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। কারণ তারা তখন ছিলেন অফিসার। ২০১১ সালের ঠিক তিন বছর পর ২০১৪ সালে রাকাব প্রশাসন আরও একটি সিনিয়রিটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় সিনিয়র অফিসার লিস্টে বিআরসি’র ২০১০ ব্যাচটি তালিকার প্রথম দিকে ২৪ থেকে ৮৪ নম্বরে ছিলো। এসব সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকে অনৈতিকভাবে পেছনে ফেলে ১৯৯৮ সালের জুনিয়র অফিসারদের পরে (মুখ্য কর্মকর্তা পদে ২০১৫ সালে পদোন্নতি দেয়া হয় ১৯৯৮ এর জুনিয়র অফিসার ব্যাচকে) ২০১৬ সালে মুখ্য কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ চার কর্মকর্তা যারা বিআরসি ২০১০ ব্যাচের সিনিয়র কর্মকর্তার ব্যাচভুক্ত।

রাকাবের কর্মী ব্যবস্থাপনা বিভাগ অবৈধভাবে, অনৈতিক উপায়ে এই চার কর্মকর্তাকে সার্ভিস কন্টিনিউয়েশন দেখিয়ে ২০১৫ সালে ১৯৯৮ সালের জুনিয়র ব্যাচের সঙ্গে মুখ্য কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুন ২০২০ ভিত্তিক ইন্সপেশনে অবৈধ পদোন্নতি এবং সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে আসলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশনা দেয়। একইভাবে আরও একটি চিঠি দেয়া হয় ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় যা সুষ্পষ্ট বিধিমালার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাকাবের প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রাকাবের কর্মী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার ভুল ব্যাখা এবং ভুল উপস্থাপনার কারনে হাইকোর্টের মুখোমুখি দাঁড় হতে হচ্ছে রাকাবকে। এ প্রসঙ্গে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান বলেন, মাত্র এক মাস হলো আমি এখানে যোগ দিয়েছি। এসেই দেখি রিটের পর রিট হচ্ছে, মামলা হচ্ছে। অনেকগুলোর কোন ম্যারিটও আমি দেখছিনা বা রিটের পর পদোন্নতি দেয়া যাবে না এমন স্থগিতাদেশও আমার কাছে নেই। তাছাড়াও আমি এই মুহুর্তে পদোন্নতি নিয়ে ভাবছি না। আমি এই মুহুর্তে ভাবছি ব্যাংকটাকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায়। কিভাবে পদক্ষেপ নিলে ব্যাংককে আরও ভালো করা যায়। পদোন্নতি অবশ্যই কর্মচারীদের একটা দাবি, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে একটু সময় নেব, কিছু জানার চেষ্টা করবো, এরপর পদক্ষেপ। আপাতত এটা নিয়ে ভাবছি না। এখানে পদোন্নতির গাইডলাইন নীতিমালা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থমন্ত্রণালয়। তাদের গাইডলাইন অনুযায়ী ব্যাংককে চলতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে ব্যাংকটির এমডির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সন্তুষ্ট না হয়, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।##

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন