শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯, ০১ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হাত পুনঃস্থাপন

চিকিৎসকদের বিরল সাফল্য

খুলনা ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ৯:২৯ পিএম

বাগেরহাটের রামপালে নির্মাণাধীন বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্রেন অপারেটর ভারতীয় নাগরিক মুন্না মাহোত। গত ৬ ফেব্রæয়ারি দুপুরে ক্রেনে মাল পরিবহনের সময় ক্রেনের গøাস ডোর ভেঙে তার বাম হাতের কবজিতে পড়লে শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হাত। তার সহকর্মীরা স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে বিচ্ছিন্ন হাতটি একটি পলিব্যাগে বরফ দিয়ে ডুবিয়ে এক ঘণ্টা পর খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই অপারেশন শুরু করেন ডা. এ. ওয়াই. এম শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের চিকিৎসক টিম। দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার অপারেশন শেষে সফল হন চিকিৎসকরা। আহত মুন্না মাহোত বর্তমানে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিউইতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বলছেন, শুধু খুলনায় নয় দেশেও এমন সফলতা বিরল।

মুন্না মাহোত জানান, তিনি ভাবতেও পারেননি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হবে। অপারেশনের পরদিন থেকেই তিনি হাত নড়াচড়া করতে পারছে। চিকিৎসকদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, অপারেশনে সফলতা পেয়ে খুশি চিকিৎসকরা। দ্রæত তার হাতের পুরো কার্যক্ষমতা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন অপারেশনের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক এ.ওয়াই.এম শহীদুল্লাহ। অপারেশনটির সাফল্যকে বিরল ঘটনা বলছেন খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জোড়া লাগানো হাত ভালো হওয়ার পর, হাত দিয়ে দৈনন্দিন সব কাজ করা সম্ভব। রোগী প্রথমে খুবই চিন্তার মধ্যে ছিল, হাত ভালো হবে কি হবে না। এর আগে সফলভাবে একটি হাত লাগানোর গল্প আছে, তখন আমাদের উপর নির্ভর হয়েছেন। টিমের সদস্যরা আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন।
চিকিৎসক টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন, মানুষের হাত যদি না থাকে, ইলেকট্রিক হাত লাগানো যায়। তাতে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেই হাত স্বাভাবিক হাতের মত কাজ করবে না। নিজের হাতের অনুভূতিই আলাদা রকম। এই হাত রিপ্লেস করতে পেরে আমাদের কাছে খুবই ভালো লাগছে। রোগীর অবস্থা উন্নতি দিকে।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ বাংলাদেশের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। ২০১৮ সালে এটি খুলনা মহানগরীর কেডিএ এভিনিউতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ডায়ালাইসিস ইউনিট, আইসিইউ, নিউনেটাল আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট হাসপাতালে ২৫০টি শয্যা রয়েছে। করোনার সময় হাসপাতালটি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps