সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯, ২৬ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

আসামি সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন

টাঙ্গাইলে আ.লীগ নেতা ফারুক হত্যা

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৩ এএম

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি অন্তবর্তী জামিন লাভের পর কারগার থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মুক্তি পেয়েছেন। এর আগে দুপুরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ সহিদুরের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।
সহিদুর এই মামলার প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই এবং ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। দীর্ঘ ছয় বছর এই মামলায় আত্মগোপনে থাকার পর ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পন করেন। তারপর দীর্ঘ ১৪ মাসেরও বেশি সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জানান, বৃহস্পতিবার এই মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিউলী রানী দাসের সাক্ষীর জন্য ধার্য তারিখ ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় সাক্ষী হয়নি। পরে কারাগারে থাকা আসামি সহিদুরের আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করেন। আইনজীবীরা আদালতকে জানান, সহিদুর কারাগারে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর আগেও কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার সুচিকিৎসার জন্য জামিন মঞ্জুরের দাবি জানান।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান জামিনের বিরোধীতা করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দুপুর দুইটায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত সহিদুরের অন্তবর্তী জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর সহিদুর বিকেল চারটার দিকে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে বের হন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে শহরের কলেজপাড়া এলাকায় তাদের বাসায় গিয়ে মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার পারিবারিক সূত্র জানায়, সাক্ষাৎ শেষে চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় রওনা হয়ে গেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে আনিসুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ওই দুজন হত্যার সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তারপর তারা আত্মগোপনে চলে যান। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোয়েন্দা পুলিশ এই চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরআগে সহিদুরের বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পন করেন। তিন বছরের অধিক সময় হাজত বাসের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। তাদের অপর দুই ভাই জাহিদুর ও সানিয়াত এখনো পলাতক রয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps