শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

সারের দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব আসেনি : অর্থমন্ত্রী

৪৯২ কোটি টাকায় ৪ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:০৩ এএম

দেশে সারের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আসেনি। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সবসময় দেশের, সরকারের ও জনগণের যে অর্থ এটা আমরা দেখাশোনা করি, এই ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব আমাদের। এখন সবাই যদি সাশ্রয়ী হন, এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস যাতে না কিনে সেটার দায়িত্ব নিয়েই কাজ করতে হবে। দিন শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন উপায়ে অর্থের জোগান দিতে হয়। যদি এভাবে ঘাটতি পড়তে থাকে, তাহলে ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান। ‘কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন সারে ২৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগবে, এই ভর্তুকি কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’ আপনারা সারের দাম বাড়াতে চাচ্ছেন কি না- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সারের দাম বাড়ানোর কথা কে বলেছে? উনি যদি ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন আমার জানা নেই, আপনারা (গণমাধ্যম) কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করুন।

ভর্তুকি কমানোর জন্য আপনার পরামর্শ কী, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে টোটাল অ্যামাউন্ট কী পরিমাণ লাগবে সেটা আমি জানি না। দাম বাড়ানো বা কমানোর কোনো প্রস্তাব আমাদের কাছে আসেনি। এলে হয়তো জানতে পারতাম বা জানতে পারব আমাদের কী পরিমাণ অর্থ লাগবে। আমার সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক কৃষি ও পল্লী ঋণের জন্য ১০ বছর মেয়াদে এক হাজার কোটি টাকা চেয়েছে, এটি দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আনসার ভিডিপি ব্যাংক থেকে সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছেন, এ বিষয়ে আমি এখনও চিঠি পাইনি। আমি আমাদের যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সেখানে যোগাযোগ করে দেখবো আমরা কবে চিঠি পেয়েছি। এবং তাদের একজ্যাক্ট (যথাযথ) প্রপোজালটা কী, সেটা জেনে আপনাদের অবহিত করবো। তবে যদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিবেচনায় তাদের প্রস্তাবনা যথাযথ হয় তাহলে ডেফিনেটলি তাদের একোমোডেট অবশ্যই করা হবে।

এদিকে সভায় ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি। সভা শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৬ষ্ঠ সভায় অনুমোদনের জন্য মোট পাঁচটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দুটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের একটি প্রস্তাব ছিল, প্রস্তাবটি কিছু সংশোধনের পরে এক সপ্তাহের মধ্যে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদিত চারটি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭৭ টাকা।

তিনি বলেন, মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি থেকে ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ৫২ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং দেশীয় ব্যাংক ও বিশ্বব্যাংক ঋণ ৪১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৬৭ হাজার ২২৭ টাকা। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানাবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী।

অতিরিক্তক সচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেন, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (উই কেয়ার)- এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকার আটটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করা হলে সাতটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। তাদের মধ্যে ছয়টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

পিইসি থেকে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ডিওএইচডব্লিউএ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড কোরিয়া এবং ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস লিমিটেড, বাংলাদেশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৯ কোটি ৭৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ টাকা। সভায় দেশের কৃষিখাতের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের ৮৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির পৃথক তিনটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৩২ কোটি ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৭ টাকা। তিন ক্রয় প্রস্তাবের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে দ্বিতীয় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। বিএডিসির সঙ্গে ২০২০ সালে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে আবার চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লেখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে মরক্কো থেকে দ্বিতীয় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মেট্রিক টন টিএসপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট দুই কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ছয় লাখ দুই হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম পড়বে ৭০৫.২৫ মার্কিন ডলার। এছাড়াও চট্রগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিসিএল)-এর জন্য ২৫ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) রক ফসফেট (৭২% বিপিএল মিনিমাম) আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিএসপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল রক ফসফেট বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ২৫ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) রক ফসফেট আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে দুটি দরপত্র জমা পড়ে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি থেকে সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা (প্রধান সরবরাহকারী : মেসার্স উইলসন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং পিভিটি লি. সিঙ্গাপুর) থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন রক ফসফেট আমদানি করতে ব্যয় হবে ৯১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৮ কোটি ৫২ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন রক ফসফেট এর দাম পড়বে ৩৬৫ মার্কিন ডলার। সভায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে ১২তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাফকো, বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার ক্রয়ের সংশোধিত চুক্তি করা হয়। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১২তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের জন্য প্রাইস অফার পাঠানোর অনুরোধ করা হলে কাফকো, বাংলাদেশ প্রাইস অফার পাঠায়। কাফকোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সারের দাম নির্ধারণ করে ১২তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৬ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭২ কোটি ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮১২ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৬৬ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps