বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ০৬ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

জার্মান তরুনী মুসলিম হয়ে প্রবাসী প্রকৌশলীকে বিয়ে করে বরিশালের শশুর বাড়ীতে এল ঘোড়ার গাড়িতে

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০২২, ১:০৩ পিএম

জার্মান তরুনী আলিসা থেওডোরা পিত্তা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে হৃদয়ের টানে তরুন প্রকৌশলী রাকিব হোসেন শুভকে বিয়ে করে সুদুর বরিশালে ছুটে এসেছে। দু পরিবারের সম্মতিতে জার্মেনীতে ইসলাম ধর্ম মতে তাদের বিয়ে হলেও বর কনের মনে আফসোস ছিল প্রবাসে বিয়ে করার। তবে তারা প্রথম বিবাহ বার্ষিকী উদযান করছে বর কণের গাঁয়ে হলুদ দেয়া সহ বিবাহত্তোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আর সে জন্য জার্মেনীর রাজধানী বন থেকে ঢাকায় পৌছে চার্টার্ড হেলিকপ্টারে বরিশালে পৌছেন শুভ ও আলীসা।
আত্মীয় স্বজনরা হ্যালিপ্যাডে দম্পতিকে বরন করে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ীতে করে সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়ানের কাগাসুরা গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যান। সেখানেও শুভর আত্মীয় স্বজন সহ শত শত গ্রামবাসি ছুটে আসেন জার্মান প্রবাসী এ দম্পতিকে বরন করতে। আলীসা গ্রামের সবাইকে ‘আচ্ছলামু আলাইকুম’ বলে সম্বোধন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। অলীসার সাথে তার অতি ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ‘লেইসা’ও এসছে বাংলাদেশ দেখতে।
বরিশালের চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে শুভ ডিপ্লোমা প্রকৌশল পাশ করে ২০১১ সালে জীবীকার সন্ধানে জার্মানীতে চলে যায়। সেখানে সিটি রেলওয়ে সার্ভিসের সুপারভাইজারের কাজের এক পর্যায়ে স্থানীয় বেইলী ফিল্ড ডায়লন্ড্রোভ এলাকার বাসিন্দা আলিসা থেওডোরা পিত্তার সাথে পরিচয় হয়। আলিসা পেশায় একজন নার্স। বাবাÑমা চাকুরিজীবী।
সাংবাদিকদের কাছে শুভ জানান, গত বছর ৫ মার্চ এলিসা মুসলিম ধর্ম গ্রহন করে ‘আলিসা বেগম’ নাম নিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গত শণিবার ছিল তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। শুক্রবার বন থেকে রওয়ানা হয়ে শণিবার ঢাকায় পৌছে চার্টার্ড হেলিকপ্টারযোগে বধু আলিসাকে নিয়ে বরিশাল পৌছেন তারা।
শুভ জানান, জার্মানে একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রায়ই আলিসা’র সাথে দেখা এবং কথা হতো। এভাবে কিছুদিন পর তাদের মধ্যে একটি মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে, চলে অনেকদিন। আমাদের মধ্যে ভালোবাসা জন্ম নেয়ার বিষয়টি দুইজনেই বুঝলেও কে আগে কাকে বলবে, তা নিয়ে দিধা দন্ধের সাথে প্রত্যাখাতের কষ্টের আশংকার বিষয়টি মাথায় ছিল ফলে আরো বোঝার চেষ্টা করছিলাম। যখন আমি বুঝলাম আলিসা আমার প্রতি খুব দূর্বল, তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম তাকে প্রস্তাব দেয়ার।
একদিন আলিসা’র মনের অবস্থা বুঝে তাকে প্রস্তাবটা জানালাম। উত্তর আসার সাথেই বুঝলাম আলিসাও অপেক্ষায় ছিল আমার প্রস্তাবের। ভবিষ্যত পরিকল্পনা করেই বিষয়টি আমি আমার পরিবারকে অবহিত করি। তাদের সম্মতি নিয়েই আলিসাকে তার পরিবারকে রাজী করাতে বলি। আলিসার পরিবারও আমাদের দুজনের পরিনয়ে সম্মতি দেয়। তবে বিয়ের পূর্বে আমি আলিসাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে বললে সামান্যতম বাঁধা আসেনি। আলিসা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর আমরা দুইজনে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই।
দেশে আসতে দুজনকেই ছুটি নিতে হবে। এ জন্য আমরা আগেভাগে বিয়ে বার্ষিকীর দিনটা ঠিক করে ছুটি নিয়ে সুদূর জার্মানী থেকে চলে এলাম নিজ মাটি ও দেশ জন্মভূমি বরিশালে। জার্মান স্ত্রীকে নিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখার ভালো লাগার অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে শুভ আবেগ আপ্লুত হয়ে পরে।
শুভ বলেন, বিদেশে বিয়ে করায় আমাদের সমাজের রীতিনীতি পালিত হয়নি। আমাদের দেশের বিয়েতে যতটা উৎসব আনন্দ হয় তাও হয়নি। আমি চাই আমার বিয়ের সব উৎসব নতুনভাবে করতে। আলিসাও গুগলের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিয়ের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হয়েছে। সেও আমার মতো চাচ্ছে দেশের সংস্কৃতি অনুযায়ী বিয়ে করতে। আমাদের আবদারে আমার বাবা-মা ও স্বজনরা নতুনভাবে বিয়ের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সে অনুযায়ী ৯ মার্চ গায়ে হলুদ এবং ১০ মার্চ নব বধুর সংবর্ধনা ও গ্রামবাসীদের জন্য প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
‘বিদেশী মেয়ে আমাগো গ্রামের পোলার বৌ, তাতে অনেক আনন্দ লাগছে’ জানাল কাগাশুরার একাধীক গ্রামবাসি। অনেকেই বিদেশী বধূকে ফুল দিয়ে বরণও করেছেন। বিদেশী বধূ যাতে তাদের মত বাংলায় কথা বলে এ জন্য শুভকে বারবার তাগিদ দিচ্ছিল। শুভও তাদের কথামত আলিসাকে বাংলায় কিছু বলার জন্য বলে। এ সময় আলিসা সকলকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। তবে বিদেশী বধূকে বাংলা কথা শিখিয়ে নেবেন বলেও জানান অনেক প্রতিবেশী।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps