শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

উন্নত দেশগুলোর পরিবেশদূষণে বাংলাদেশকেও ভুগতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ এপ্রিল, ২০২২, ২:৪৮ পিএম

নিজেদের দূষণে নয়, বরং আমেরিকা, ব্রাজিল, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোর অতিমাত্রিক দূষণের ফলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দেশের ২০ শতাংশ জমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা বলেন।

দেশে হঠাৎ ডায়রিয়া ও কলেরার প্রাদুর্ভাব বাড়ার পেছনে পানিদূষণকে দায়ী করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পানিদূষণের কারণে ডায়বিয়া ও কলেরা বেশি হচ্ছে। এজন্য পরিবেশদূষণও দায়ী।

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দেশের মাটি, পানি ও বায়ু ভালো রাখতে হবে উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পৃথিবীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে প্রাণীজগৎ ভালো থাকবে। আমাদের পৃথিবীতে উন্নয়ন হচ্ছে ঠিক, কিন্তু সবকিছুই আমরাই নষ্ট করছি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরে অনেক বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে। অন্যান্য জায়গায় কম থাকলেও ঢাকার দূষণ সবচেয়ে বেশি। গাছপালা কেটে আমরা পরিবেশের ক্ষতি করছি। ঢাকায় দেড় কোটি লোক বসবাস করে। কিন্তু এত শব্দদূষণ, ধোয়া আর ধুলোবালির কারণে এ শহরে সংক্রামক, অসংক্রামক সব রোগই বাড়ছে। জলবায়ু সমস্যার কারণে মানসিক স্ট্রেসও বাড়ছে। মাদক ও ধূমপান স্বাস্থ্য সমস্যার অনেক বড় কারণ। আমাদের পানিদূষণ রোধ করতে হবে। কৃষকদের বেশি কীটনাশক ব্যবহার কমাতে হবে। জমিতে বেশি কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত খাদ্যে মানুষের অসুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে।

তিনি বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ভালো। করোনা ব্যবস্থাপনাতেও বাংলাদেশ রোল মডেল। করোনাকে আমরা শূন্যের কোটাতে নামাতে চাই।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, দেশে করোনার টিকাদান কর্মসূচি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো ছিল। যে কারণে বিশ্বের ২০০টি দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভিসহ বেশকিছু বিদেশি সংস্থা করোনা মোকাবিলা ও টিকা কর্মসূচি ভালোভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব করায় বাংলাদেশের প্রসংসা করছে। আফ্রিকার অনেক দেশ এখনো ২০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পারেনি। অথচ করোনা নিয়ন্ত্রণে সামনের সারিতে থাকা বাংলাদেশ ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবার মানসিকতার কারণে।

মন্ত্রী বলেন, নদীদূষণ, বায়ুদূষণ ও পরিবেশদূষণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কিন্তু আমরা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আমরা উন্নত যন্ত্রপাতি ও স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাচিপ সভাপতি এম ইকবাল আর্সলানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps