বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২, ১৬ আষাঢ় ১৪২৯, ২৯ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

ব্যয় সামলানোই দায়

ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০২২, ১২:০৩ এএম

বাড়ছে দাম অবিরাম/চালের ডালের তেলের নুনের/হাঁড়ির বাড়ির গাড়ির চুনের/আলু মাঙ্গা বালু মাঙ্গা/কাপড় কিনতে লাগে দাঙ্গা/উঠছে বাজার হু-হু করে সব কিছুর/আঁকের শাকের কাঠের পাটের আম লিচুর/খাওয়ার জিনিস শোয়ার জিনিস/পরার জিনিস মরার জিনিস/কিছু ছোঁয়ার সাধ্যি নাই/ঘাটতি কেবল যেদিক চাই। বাজারদর নিয়ে কবি আবুল হোসেনের এই কবিতায় বর্তমান বাজারের চিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। দ্রব্যমূল্য যেখানে বাড়ছে রকেটের গতিতে, সেখানে ঢাকার রাস্তার যানজটে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা বাসের মতোই বাড়ছে আয় বাড়ার গতি।
চাল-ডাল-তেল, রান্নার গ্যাস থেকে টুথপেস্ট সবকিছুতে বাড়তি দামের খড়গ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে অস্থিরতা। কোথাও নেই এতটুকুও স্বস্তি। নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত। কারওই হিসাব মিলছে না আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের। প্রায় প্রত্যেকেই বলছেন-আয় বাড়ছে না, ব্যয় সামলাবো কীভাবে? তেমনই একজন তানজির আহমেদ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। তবে বেতনের টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর কচুক্ষেত বাজারে দোকান থেকে দোকানে ছুটতে দেখা গেছে তাকে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত তিনি। তানজির বলেন, এখন বাজারে সমস্ত পণ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। আমরা চাকরি করি। বেতন তো এক টাকাও বাড়েনি। চাকরিজীবীদের জন্য আসলেই খুব কষ্টের ব্যাপার। যারা ব্যবসায়ী তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু যারা কিনছে তাদের আয়ের বাড়তি উৎস নেই। এটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। বেতনের অর্ধেক চলে যায় বাসা ভাড়ায়। বাকি টাকায় সংসার খরচ ও সন্তানদের শিক্ষার পেছনে ব্যয় হচ্ছে। মাস শেষে পকেটে কোনো টাকা থাকে না।
শুধু তানজিরই নন। এমন পরিস্থিতির শিকার এই সমাজেরই সিংহভাগ মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, একদিনের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। আবার বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়লেও আগের মতই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পেঁয়াজ, ডিম কিনতেও বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
তেল, রসুন, পেঁয়াজ, ডিমের দাম বাড়লেও কিছু সবজির দাম কমেছে। অবশ্য কিছু সবজি দাম বাড়ার তালিকায়ও আছে। আর রোজায় ৭০০ টাকা কেজিতে পৌঁছে যাওয়া গরুর গোশত এখনো ওই দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দেশি রসুনের কেজি বিক্রি করছেন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা একদিন আগেই ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কয়েকদিন আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে।
এদিকে গত মাসে ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে ভোজ্যতেলের দাম। ঈদের আগেই খুচরায় সয়াবিন তেলের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ প্রায় নেই হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায়া এতে বাজারে সয়াবিন তেল আসতে শুরু করে। দাম বাড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে অভিযান। এতে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল উদ্ধার করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে বাজারে এখন ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে দাম কমেনি। খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাম অয়েলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা। আর বোতলের পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৮০ থেকে ৯৮৫ টাকা।
ভোজ্যতেলের মতো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। ঈদের আগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম ঈদের পর কয়েক দফা বেড়ে এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ঈদের আগে ৭০০ টাকা কেজিতে ওঠা গরুর গোশতের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী গরুর গোশতের কেজি ৭০০ টাকা বিক্রি করছেন। তবে মহল্লার সাপ্তাহিক ব্যবসায়ীরা গরুর গোশতের কেজি বিক্রি করছেন ৭২০ টাকা কেজি।
গরুর গোশত বাড়তি দামে বিক্রি হলেও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মুরগির দাম কমে এখন ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির কেজি আগের মতই ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ব্যবসায়ীরা বেগুনের কেজি বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৭০ টাকা। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বরবটিও আগের মত ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে পাকা টমেটোর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ঈদের আগে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে কাঁচা কলা ও পেঁপে। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর ৩০ টাকার কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।
অন্যদিকে পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গার দাম কিছুটা কমেছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়সের দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। ঝিঙে ও চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
এদিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়। তেলাপিয়া, পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি। শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কৈ মাছ পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps