সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কক্সবাজারে লবণের বাম্পার উৎপাদন

চলতি মৌসুমে দীর্ঘ ৮ বছর পর লাভের মুখ দেখছেন লবণ চাষিরা

জাকের উল্লাহ চকোরী,কক্সবাজার থেকে : | প্রকাশের সময় : ১৬ মে, ২০২২, ১২:০১ এএম

লবণের বাম্পার উৎপাদনে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। সন্তোষজনক মূল্য পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন চাষীরা। দীর্ঘ ৮ বছর পর এ বছরই লাভের মুখ দেখছেন চাষীরা। বিসিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লবণের চাহিদা ছিল ২৩ লাখ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে লবণ উৎপাদন পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এরপরও প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি লবণ চাষীরা জমিয়ে রেখেছে। যা এখন হিসেবে আসেনি। এই মৌসুমে যা উৎপাদন হয়েছে তা বিগত যেকোন মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশি। কক্সবাজার লবণ চাষী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সাজেদুল করিম জানিয়েছেন লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের তৎপরতায় লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে এসেছে। লবণের যাতে ঘাটতি না হয় তাই লবণ উৎপাদনে আরো মনযোগী করতে চাষীদের তিনি বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেছেন। লবণ ব্যবসায়ী কালারমারছড়া মনজুর আলম বাদশা জানিয়েছেন, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতিমণ লবণ ২৮০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে আরো বাড়বে। চাষীরা বিপুল পরিমাণ লবণ অবিক্রিত রেখেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি থাকলে আগামী মৌসুমে লবণ উৎপাদনের পরিমাণ আরো বাড়বে। কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডীর চাষী ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, লবণের দাম বাড়ায় চাষের জমি আগামী মৌসুমে আরো বাড়বে এতে সন্দেহ নেই। অনেকেই লোকসান যাওয়ায় লবণ মাঠের জমিতে ধান রোপন করেছিলেন। তারা আবার লবণ মাঠে ফিরে যাবে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কক্সবাজারে প্রায় ৬ লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে লবণ ব্যবসায় জড়িত। এতে গত কয়েক বছর ক্রমাগত লোকসান যাওয়ায় অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। যার ফলে অনেকেই পেশার পরিবর্তনও করেছেন। এই সুযোগে কিছু মুনাফা লোভী ব্যবসায়ী তাদের স্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিদেশ থেকে সালফার ডাই অক্সাইড মিশ্রিত লবণ ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার পরিমাণের চেয়ে বেশি লবণ আমদানি করে বাজারের সয়লাব করায় দেশিয় লবণ ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন চাষীরা। ফলে অনেকেই লবণ উৎপাদন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
বিসিক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে লবণের ঘাটতি হওয়ার তেমন সম্ভবনা নেই। চলতি মৌসুমে চাহিদামত লবণ উৎপাদন হয়েছে। তাই লবণ আমদানীর কোনো প্রয়োজন নেই। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সকল মহলকে একযোগে কাজ করতে হবে। লবণ উৎপাদন আরো বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
আশেক উল্লাহ রফিক এমপি বলেন, একটি চক্র লবণ শিল্পকে ধ্বংস করে ফায়দা লুটতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, লবণ চাষীরা যাতে ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করবেন। লবণ চাষীরা প্রধানমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে বিধায় এখন সুফল পাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, একটি চক্রটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করে আসছে দীর্ঘদিন। বেশি চাহিদা সৃষ্টি করে ঘাটতি দেখিয়ে লবণ আমদানি করে দেশে লবণ উৎপাদনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে আসছেন প্রতি বছর। এটি কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। লবণ আমদানির শুল্ক বৃদ্ধি করে দেশিয় উৎপাদিত লবণের সমপর্যায়ে নিয়ে আসলে লবণ আমদানির ষড়যন্ত্র বন্ধ হয়ে যাবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps