বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ০৬ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

রাজধানীতে আবারও সেই যানজট

একলাছ হক | প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০২২, ১২:০১ এএম

অসহনীয় যানজটে ভোগান্তি চরমে ছিলো গত সারা রমজান মাস। রমজানের শেষের দিকে গরম ও তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ ছিলেন নগরবাসী। ঈদের ছুটি ও পরবর্তীতে শুক্র ও শনিবার ছিল সরকারি ছুটি এবং রোববার বুদ্ধপূর্ণিমা সব মিলিয়ে লম্বা ছুটির পর অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। আস্তে আস্তে রাজধানীতে বাড়তে থাকে গাড়ির চাপ। গাড়ির চাপ বেশি থাকায় সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর প্রায় সব রাস্তায়ই দেখা যায় তীব্র যানজট। থেমে থেমে গাড়ি চলার করণে গন্তব্যে যেতে দীর্ঘ সময় গণপরিবহনে বসে থাকতে হয় যাত্রীদের।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকালের দিকে গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কমলাপুর, মালিবাগ, রামপুরা, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও, খামারবাড়ি, বিজয় সরণি, মহাখালী ও বনানী এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। বিমানবন্দর সড়কের নিকুঞ্জ এলাকায় সকালে অফিস সময়ে ঢাকামুখী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। একই সময়ে সবাই অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান অফিসগামী কয়েকজন। বিমানবন্দর রুটের টঙ্গী এলাকায়ও দেখা যায় এই চিত্র। এই সময়ে পুরান ঢাকার নবাবপুর, লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় রিকশার জটলা। অফিসগামী লোকজন পড়েন চরম বিপাকে। কোথাও ছিল যানচলাচলে ধীর গতি। ফার্মগেট খামারবাড়ি এলাকার রাস্তা প্রায় ঘণ্টা দুয়েক স্থবির ছিল।

তবে দুপুরের সময়ে রাস্তায় কিছুটা ফাঁকা মনে হলেও এমন অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বেলা সাড়ে তিনটার পর থেকে শুরু হয় আবার যানজটের ভয়াবহ চিত্র। অফিস ছুটির পর মিরপুর রোডে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী এলাকার যানজট যেন একসাথে মিলিত হয়েছে ফার্মগেট পর্যন্ত। মিরপুর বেড়িবাধ রাস্তা গাজীপুর ও আশুলিয়ার দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো সৃষ্টি করে ভয়াবহ যানজটের। এই রাস্তার বিভিন্ন এলাকায় ভেহেকো ও ট্রাকের মাধ্যমে বালু উঠানামা করা ও পরিবহণের কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। এতে এই রাস্তায় পরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাওরানবাজার এলাকায় বাস ও অন্যান্য যাত্রী পরিবহনগুলোর রাস্তা থেকে যাত্রী উঠানোর কারণে সৃষ্টি হয় যানজট। শাহাবাগ পর্যন্ত থেমে থেমে আসতে হয় যাত্রীবাহী বাসগুলোকে।

বাসের যাত্রীরা জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজ চলছে। তাই বর্তমানে বাস চলাচলের রাস্তাগুলো সরু হয়ে গেছে। এছাড়াও রাস্তায় দোকানপাট ও অন্যান্য কাজের কারণে রাস্তায় যানচলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও আবার পুরোদমে সবকিছু খোলা হয়ে যাওয়ার কারণেও যানজট আগের মতো করে বেড়ে গেছে। আর প্রাইভেটকারের কারণে যানজট বেশি হচ্ছে বলেও জানান কয়েকজন বাস যাত্রী। তাদের কথা হচ্ছে শুধুমাত্র একজনের জন্য একটি গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে অফিসে যাওয়ার কারণে যানজট বেশি হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের দিয়ে রাস্তায়ই রেখে দেন তাদের প্রাইভেটকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে সারীবদ্ধ গাড়ি রাখার কারণে রাস্তায় চলতে অন্য পরিবহনগুলেকে পড়তে হয় সমস্যায়। এছাড়া সায়েন্সল্যাব, বাংলামোটর, বিজয় স্মরণি, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, কাকরাইল, উত্তরা, আজিমপুর, খিলক্ষেত, বসুন্ধরা ও শাহজাদপুর এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।

স্বাধীন পরিবহনের যাত্রী মনির বলেন, আজকে সব রোডে যানজট। আবার মনে হচ্ছে ঢাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের রূপে ফিরে গেছে রাজধানী ঢাকা।
বেসরকারি চাকরিজীবী অরিফ মিয়া বলেন, প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে অফিসে যাই। ঈদের সময় ঢাকায় চলতে কোন সমস্যা হয়নি। এখন আবার চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তায় যাত্রীবাহী বাস বেড়ে গেছে। তেমনই যাত্রীও বেড়েছে। যানজটও বেড়েছে। রাস্তায় নামলে এক জায়গায়ই বসে থাকতে হচ্ছে অনেক সময়।
ফুলবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, রাজধানীতে যানজট এখন আগের মতো বেড়েছে। গাড়ি দাঁর করে যাত্রী উঠানামা করানো। মালামাল উঠানোর কারণে যানজট বেশি হচ্ছে। গত কিছুদিন যানজট পরিস্থিতি আস্তে আস্তে বাড়ছে।

যানজট নিরসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গত সোমবার নগরভবনে বলেছেন, সড়কে যানজট নিরসনসহ সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য রাত ৮টার পর দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। ঢাকাকে একটি পথচারী বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলতে হবে। এটি কার্যকর করতে পারলে, আমরা পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে পারব। পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। আমরা যনজট নিরসনে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করব।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps