বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯, ২৮ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ ইসলাম

রোজার কথা মনে থাকুক বছরজুড়ে

মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ১৯ মে, ২০২২, ১২:০৪ এএম

রমজানুল মোবারক শেষ হয়ে গেল। আল্লাহর মুকার্রাব ও নেককার বান্দারা রমজান আসার আগেই তার আপেক্ষায় থাকেন। প্রস্তুতি নিতে থাকেন। রমজান যখন শেষ হয়ে যায়, খুব স্বাভাবিক কারণেই তাদের কষ্ট হতে থাকে। তবে এটাও স্বাভাবিক কথা যে, রমজান আসবে, যাবে। দুনিয়ার মধ্যেও অনেককে ইস্তেকবাল করতে হয়, আবার মন না চাইলেও তাকে বিদায় দিতে হয়। আপনজনকে বিদায় দেওয়ার অনুভূতি যেমন কষ্টের, প্রিয় কিছুকে হারিয়ে ফেলার অনুভূতিও তেমনই হৃদয়বিদারক। তবে না চাইলেও যেমনিভাবে মানুষকে এই কষ্টের স্বাদ নিতে হয় তেমনি সে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি বা বস্তুর স্মৃতি ধারণ করে সান্ত্বনা খোঁজারও চেষ্টা করে। রমজানও যাচ্ছে, বিদায় হচ্ছে। তারো এরকম বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে; সেগুলোর কিছুটাও যদি আমরা রোজার পরেও ধারণ করে রাখতে পারি, তাহলেই সার্থকতা।

রমজানের কিছু আখলাক ও গুণ-বৈশিষ্ট্য আছে, যেগুলো মানুষ অন্য সময় না করতে পারলেও রমজানে অন্তত অর্জন করে থাকে। এটি সর্বজনীন গুণ। এর কিছু তো এমন বিষয়, যা আসলে মুসলমানদের জন্য সব সময়েই করণীয়। রমজানে সেগুলো আরো গুরুত্ব সহকারে করা হয়ে থাকে। সে গুণাবলির কিছু যদি সামনের এগার মাসেও ধারণ করা যায়, তাহলে রমজানের স্মৃতিও বাকি থাকবে এবং জীবন যাপন ইসলামের অধিক মুওয়াফেক হবে।

সবর : তেমনই একটি বৈশিষ্ট্য হলো সবর। সবর রোজাদারের অন্যতম গুণ। যে আখলাকগুলো হাসিল করার জন্য ইসলাম মানুষকে উৎসাহিত করে এবং উদ্বুদ্ধ করে, বরং নিদের্শ করে, সবর তার অন্যতম। সবরের এই গুণটি পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় রোজাদারের মধ্যে। চাই সে উঁচু মানের রোজাদার হোক বা সাধারণ মানের, অধিক তাকওয়াওয়ালা হোক আর কম তাকওয়াওয়ালা। সবরের গুণটা তার মধ্যে পরিপূর্ণই থাকে।

মুহাক্কিক আলেমগণ সবরের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এর কিছু প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন। এক. ইবাদতের ওপর সবর করা। আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হয়। মসজিদে আসতে হয়। রোজা রাখতে হয়। যাকাত দিতে হয়। এই ধরনের ইবাদত করতে গিয়ে মানুষের শারীরিক প্রস্তুতিসহ অনেক প্রস্তুতি লাগে। ইবাদত করার জন্য একটা ধৈর্য লাগে, সবর লাগে।

দুই. শরীয়ত অনেক কিছু থেকেই মুসলমানদের নিষেধ করেছে। এসব থেকে বাঁচতে হলে কষ্ট হয়। তো কষ্ট হলেও ওই নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকা। এটা ধৈর্য ও সবরের পরিচয়। তিন. মানুষের জীবনে কষ্ট-ক্লেশ আসে। কত রকমের আপদ-বিপদ আসে। জুলুম-নির্যাতন আসে। পরাধীনতার কষ্ট আসে। তখন তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ কঠিন সময়েও শরীয়তের আওতাধীন থেকে ধৈর্য ও সবরের পরিচয় দেওয়া।

সবরের এ তিনটা গুণ একসঙ্গে রোজাদারের মধ্যে পাওয়া যায়। রোজাদার আল্লাহর বিধান পালন করে রোজা রাখছে। এক্ষেত্রে সে ইবাদতের ওপর সবর করল। এই রোজা রাখতে গিয়ে তাকে অনেক ধরনের গুনাহ-খাতা থেকে বেঁচে থাকতে হয়। এজন্য সবরের দ্বিতীয় প্রকারও তার মধ্যে পাওয়া গেছে। রোজা রাখতে গিয়ে দিনের মধ্যভাগ ও শেষভাগের দিকে তার কষ্ট-ক্লেশ অনেক হয়। তাহলে সবরের তৃতীয় প্রকারও তার কাছে পাওয়া গেল।

মোটকথা, সবরের গুণটি রোজাদারের মধ্যে উপস্থিত থাকে। এটা যে কোনো রোজাদারের মধ্যেই থাকে। যদি সে নিয়ত করে রোজা রাখে, তাহলে এসব গুণ তার মধ্যে একসঙ্গে পাওয়া যাবে। এই সবর ও ধৈর্য মানব জীবনের জন্য, বিশেষত একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য বিষয়, যা তাকে তার জীবনে অনেক গোনাহ এবং অনেক সমস্যা থেকে রক্ষা করে। সে অযাচিত ক্রোধান্বিত হয়ে নিজের ক্ষতি টেনে আনা থেকে রক্ষা পায়।

সেই সবরের পুরো শিক্ষাই রয়েছে রোজার মধ্যে। তো সবরের গুণটি যদি আমরা রোজার বাইরের এগার মাসেও ধারণ করে রাখতে পারি তাহলে একজন সত্যিকারের মুসলিম হিসাবে আমাদের পথচলা আরো সহজ এবং সফল হবে- ইনশাআল্লাহ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps