রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ইসলামী জীবন

মজলিসে দাওয়াতুল হক

ইসলামী কর্মতৎপরতা

| প্রকাশের সময় : ১৯ নভেম্বর, ২০১৬, ৯:২৯ পিএম

(১) গত ২ নভেম্বরে নোয়াখালিতে অনুষ্ঠিত হলো দাওয়াতুল হকের মিনি ইজতেমা। নোয়াখালির ঐতিহ্যবাহী চৌমুহনী বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ইসলাহি ইজতেমায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মজলিসে দাওয়াতুল হকের সম্মানিত আমির, যাত্রাবাড়ি মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান দা.বা.। অনেক আগে থেকে দাওয়াতুল হকের ব্যানারে নোয়াখালিতে জোরদার সুন্নতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। এরই কাজ আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উলামায়ে কেরামের এ বিশাল ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়।
কোরআনে কারিম তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হতে যাওয়া লাখো আদমের এ বিশাল সমাবেশে হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) প্রতিষ্ঠিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও উলামায়ে কেরামদের দীনি সংস্কারমূলক অরাজনৈতিক সংগঠনÑ মজলিসে দাওয়াতুল হকের পরিচিতি-কার্যক্রম ও গুরুত্ব সমন্ধে বয়ান করেন প্রধান অতিথি। এছাড়াও ইজতেমায় বয়ান রাখেন বৃহত্তর নোয়াখালির আমির-নায়েবে আমিরসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম। এ মহতি ইজতেমায় নোয়াখালি, কুমিল্লা ও ফেনী থেকে শত শত কওমী মাদরাসার উলামায়ে কেরাম, ছাত্র-শিক্ষকসহ সাধারণ মুসল্লিবৃন্দ যোগদান করেন।
মাহফিলের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমিরে দাওয়াতুল হক মুহিউস সুন্নাহ হজরতের সুন্নতদীপ্ত বয়ান। সুন্নতহীন কর্মকা- বিপদগামিতার প্রধান কারণ বলে অভিহিত করেন তিনি। এছাড়া হজরত ওমরের যুগে যুদ্ধে সুন্নত ছেড়ে দেয়ার অসফলতা, পরে ফের মিসওয়াকের মতো সুন্নত জিন্দা করায় যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার নজির শামিয়ানার কানায় কানায় বসা লাখো মানুষকে সুন্নতসিক্ত করেছে। সুন্নত জীবনযাপনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে অনেককেই।
সেখানে তিনি বলেন, এই দাওয়াতুল হকের সুন্নতি কাজ প্রতিটি এলাকায়, পাড়া-মহল্লায় চালু করে দিতে হবে আপনাদেরই। যেন প্রতিটি মুসলমান রাসূলের সুন্নত মোতাবেক জীবনযাপন করতে পারে। এবং বাংলাদেশের ভেতর যত কাফের বেদ্বীন আছে, সবাই যেন মুসলমান হয়ে যায়। একটাও যেন অমুসলিম না থাকে। এজন্য সবাইকে ইখলাসের সাথে ধৈর্য সহকারে কাজ চালাতে হবে। প্রধান অতিথির বয়ান শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ইসলাহি ইজতেমার সমাপ্তি হয়।
(২) ৩ ডিসেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে দাওয়াতুল হকের ২২তম কেন্দ্রীয় ইজতেমা। খবরটি নিশ্চিত করেছেন মজলিসে দাওয়াতুল হকের প্রচার সম্পাদক মাওলানা রিদওয়ান হাসান। হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী (রহ.) সূচিত এই দাওয়াতুল হক সুন্নত প্রতিষ্ঠার একটি বিপ্লবী আন্দোলন। যুগের সংস্কারক থানভী (রহ.) যখন দেখলেন মুসলমানদের মধ্যে সুন্নতের প্রতি চরম গাফিলতি সৃষ্টি হয়েছে এবং সুন্নতের ওপর আমল না থাকার কারণে পুরো দ্বীন থেকেই তারা ছিটকে পড়ছে, তখন তিনি ‘দাওয়াতুল হক’ নামে একটি দাওয়াতি কার্যক্রম হাতে নেন। তাঁর এই ইলহামি উদ্যোগে থানভী সিলসিলার প্রত্যেক বুযুর্গ আন্তরিকভাবে যুক্ত হন। পাক-ভারত উপমহাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে দাওয়াতুল হকের কার্যক্রম আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করে।
এব্যাপারে মজলিসে দাওয়াতুল হকের আমীরুল উমারা মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমূদুল হাসান বলেন, সুন্নত মানুষকে সুন্দর করে। করে সুশৃঙ্খল ও আলোকিত। সুন্নতের মধ্যেই রয়েছে মানবজীবনের সামগ্রিক কল্যাণ, সাফল্যের চাবিকাঠি। সুন্নতের আলোকে সাজাতে পারলে জীবনে কোনো সমস্যা থাকে না। রাসূল পরবর্তী যুগে সাহাবায়ে কেরাম ও তার পরের যুগে সুন্নতে রাসূলের যথার্থ চর্চার কারণেই মুসলমানরা একদিন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ, আদেশ-নিষেধ তথা জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে অনুসরণের নামই সুন্নত। জ্ঞান-বিজ্ঞানের এ চরম উৎকর্ষতার যুগে খুব কম লোকই সুন্নতের চর্চা ও বিকাশে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করছেন। রাসূলের সুন্নত থেকে সরে পড়াও বর্তমানে মুসলমানদের অধঃপতনের অন্যতম কারণ। তবে এখনো কেউ কেউ ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে সুন্নতের অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মজলিসে দাওয়াতুল হক সুন্নতের চর্চা ও অনুশীলনমূলক এমনই একটি প্রতিষ্ঠান। মুসলিম উম্মাহ যখন সুন্নতে নববীর মূলধারা থেকে অনেকটা সরতে শুরু করেছে, তখন এ দাওয়াতি সংগঠনটি প্রতিটি মুসলমানকে সুন্নতের ওপর টিকে থাকার শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Gulmmakha ১৩ মার্চ, ২০১৯, ১০:৫৪ এএম says : 0
Hi
Total Reply(0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন