মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ যিলক্বদ ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

বসত বাড়ির বাউন্ডারি নির্মাণে জেলা পরিষদের বরাদ্দ ১০ লাখ!

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৪ মে, ২০২২, ৯:০৫ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে টিন সেড বসত বাড়ির একটি সীমানা জুড়ে নির্মাণ হচ্ছে বিশাল বাউন্ডারি। আর ওই বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বরাদ্ধ দিয়েছে জেলা পরিষদ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা যায়, উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের গালাহার গ্রামের আব্দুল বারির ছেলে মোজাম্মেল হকের টিন সেড বসত বাড়ির একটি সীমানা জুড়ে নির্মাণ হচ্ছে বিশাল বাউন্ডারি। আর ওই বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য ১০লাখ টাকা ব্যয়ে বরাদ্দ দিয়েছে জেলা পরিষদ। সেই বরাদ্দের টাকা দিয়ে মোজাম্মেল তার বসত বাড়িতে বাউন্ডারি নির্মাণ করায় জনমনে প্রশ্ন তুলে। তাই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেই মোজাম্মেল হক ২০১২ সালের দিকে কোচিং সেন্টার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে। পরে স্থানীয় মেয়েরা ওইখানে প্রাইভেট পড়তে আসতো। পর্যায়ক্রমে নিজের বসত ঘরের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে নূরাণী, নাযেরা, হিফজ ও কিতাব বিভাগের নামে ছাত্রী ভর্তি শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে আর পিছনে থাকাতে হয়নি। এঅবস্থায় মোজাম্মেল বাড়ির ভিতরেই থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে ছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থা করে দেন। এক রকম নিরবে নিবৃতেই চলে আসছিল এর কার্যক্রম।

সম্প্রতি এখানকার এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠে ওই মাদরাসা পরিচালক মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এই মাদরাসা ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরই মাঝে সরকারি বরাদ্দ দিয়ে বসত বাড়িতে মাদরাসা দিয়ে তার চারপাশ ঘিরে নির্মাণ হতে থাকে বিশাল বাউন্ডারি। ব্যক্তিগত ওই মাদরাসায় কে বা কারা এই বিশাল বাউন্ডারি নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছে তা খোঁজ করে জানা যায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ থেকে গত অর্থ বছরে এই মাদরাসার নামে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দের বিষয়টি জানতে পেরে মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। তিনি ঘটনাটি বিশ্বাস করতে না পেরে খোঁজ নিয়ে ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধের সত্যতা পান। পরে কাউকে কিছু না জানিয়ে এত টাকা সরকারি বরাদ্দ মোজাম্মেলের বসতবাড়ির বাউন্ডারি হচ্ছে এনিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন মাদরাসার সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ওই মাদরাসার পাশের বৈরাটি গ্রামের জনৈক আমান মাস্টারের মেয়ে আসমা উল হোসনা শিমুলের বিয়ে হয়েছে হালুয়াঘাটে। সেখান থেকেই তিনি জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর কোঠা থেকেই এই প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্প বরাদ্দ দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুল বলেন, এটা আমি, আমার ক্ষমতা বলে করতেই পারি। তাছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানতো অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই। তবে এবিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার পরিচালক মোজাম্মেল হককে খোঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি উক্ত মাদরাসার ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাঁর বাবা আব্দুর বারি জানান, বাড়িসহ মোট জমি ৪২ শতক। তিন ছেলের মধ্যে কাউকে জমি ভাগ করে দেওয়া হয়নি। মোজাম্মেল তার বসত ঘরের একটি কক্ষে অফিস ও ভিতরে কয়েকটিতে ছাত্রীদের পাঠদান করাসহ থাকার ব্যবস্থা করেছে। আপনার বাড়ির চারপাশে তো প্রাচীর হচ্ছে কে নির্মাণ করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমার তো জানা নাই তবে এটা হওয়া আমার জন্য ভালোই। বাড়িটা ঘেরাও হবে। বাড়ির না কি মাদরাসার জন্য বাউন্ডারি হচ্ছে এমন কথা বলতেই তিনি বলেন, আমি তো মাদরাসারে জমি দেইনি। তাহলে কিভাবে এই বাউন্ডারী মাদরাসার হবে?

এবিষয়ে সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, তিনি বলেন মোজাম্মেল তার বাড়িতে একটি মাদরাসা দিবে এই কথা বললে তখন আমি সহযোগীতার জন্য ওই মাদরাসার সভাপতি হয়। তাই প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই মাদরাসার সভাপতি পদে বহাল আছি। এ অবস্থায় গত কয়েক বছর ধরে পরিচালক মোজাম্মেল অর্থের অভাবে মাদরাসাটি আর পরিচালনা করতে পারবেন না বলে প্রচার করে আসছিলেন। এর মধ্যে তিনি কমিটির কারও সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেন নি। এঅবস্থায় হঠাৎ জানতে পারি মাদরাসার নামে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসছে তাঁর এক আত্মীয় জেলা পরিষদের নারী সদস্যের মাধ্যমে। অথচ এই মাদরাসাটির নামে কোনো জায়গা নেই। নেই উপজেলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও। যেখানে মাদরাসাটি হয়েছে তা মোজাম্মেলের বাবা আব্দুল বারির নামে। তিনি দীর্ঘ দিনেও তা মাদরাসার নামে জায়গা ওয়াকফ ছাড়াও নিজের সন্তানদেরকেও বন্টন করে দেননি। এ অবস্থায় কি করে এখানে সরকারের ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধ হলো তা আশ্চর্যের বিষয়।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ হাফিজা জেসমিন বলেন, এবিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইউসুফ খান পাঠান বলেন, কি ভাবে ওখানে এমন বরাদ্দ গেলো তা খোঁজ নিতে হবে। তাছাড়া যেহেতু বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এই অবস্থায় বাতিল করাও কঠিন। তারপরও বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps